ছোটোবেলা থেকেই হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

আজ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী

গণিতশাস্ত্রে অসাধারণ ব্যূৎপত্তি ছিল স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের। স্কুল জীবনেই ‘কেমব্রিজ মেসেঞ্জার অফ ম্যাথামেটিক্স’-এ তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৮০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে উচ্চতর গণিত নিয়ে প্রায় কুড়িটি মূল্যবান প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন, যেগুলি প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গবেষণামূলক পত্রিকায়। কলেজে পড়বার সময় অঙ্কে দক্ষতার জন্য অধ্যাপক বুথ সাহেবের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ১৯০৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ক্যালকাটা ম্যাথামেটিকাল সোসাইটি’। অবশ্য সাধারণ মানুষ তাঁকে অঙ্কবিদ হিসেবে মনে রাখেনি, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদ হিসেবেই তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। 

১৮৬৪ সালে কলকাতার ভবানীপুরে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। বাবা ছিলেন চিকিৎসক। তাঁদের আদি বাড়ি ছিল হুগলি জেলার জিরাট গ্রামে। আশুতোষ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছোটোবেলা থেকেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। গণিত এবং পদার্থবিদ্যা – দুটি বিষয়ে তিনি এমএ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন, যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম। ১৮৯৪ সালে ‘ডক্টরেট অফ ল’ ডিগ্রিও অর্জন করেন। তার আগেই ১৮৮৮ সালে অবশ্য বিএল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবীর পেশায় যোগ দিয়েছিলেন। 

১৮৯৮ সালে টেগোর ল প্রফেসর হন আশুতোষ। ১৯০৪ সালে তাঁর ছোটোবেলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির পদ তিনি অলংকৃত করেন। ১৯২০ সাল থেকে কিছু সময়ের জন্য প্রধান বিচারপতির ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন লর্ড কার্জন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯০৬ সালে। দু’বার তিনি উপাচার্যের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। পড়ুয়াদের অন্তর থেকে ভালোবাসতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কেন্দ্রীভূত স্নাতকোত্তর বিভাগ তৈরি করেন, যাতে বিভিন্ন কলেজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়। ‘নৃবিদ্যা’, ‘ব্যবহারিক মনোবিজ্ঞান’, ‘ফলিত রসায়ন’-এর মতো বেশ কিছু নতুন বিষয়ে পাঠদান শুরু হয় তাঁর উদ্যোগে। দৃঢ় ব্যক্তিত্বের এই মহাপুরুষ সবার কাছে ‘বাংলার বাঘ’ অভিধায় পরিচিতি হয়ে উঠেছিলেন। 

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নাইট উপাধিতে ভূষিত হন ১৯১১ সালে। এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি হয়েছিলেন তিনবার। ১৯২৩ সালে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অবসর গ্রহণ করেন। যদিও তাঁর ব্যস্ত কর্মজীবনের অবসান তখন ঘটেনি। নানা কাজে সক্রিয় থাকতেই ভালোবাসতেন। ১৯২৪ সালে একটি মামলার কাজে পাটনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেখানেই প্রয়াত হন তিনি। আজ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী। এই প্রাতঃস্মরণীয় মণীষীর জন্মদিনে রইল বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। 

তথ্যসূত্র – আনন্দবাজার পত্রিকা, সাহস টুয়েন্টি ফোর ডট কম। 

Developed by DXDasia