জন্মদিনে ফিরে দেখা – রবি বর্মার ছবিতে সীতাহরণ

দেখা গেল শিল্পী রাবণের দশটা মাথা নয় একটা মাথাই এঁকেছেন। বিলকুল মানব চেহারার এক মাথার রাবণ ইনি

অনেকটাই বেখাপ্পা চালে ছবি আঁকেন রবি বর্মা। কারণ পুরাণ কাব্যের মধ্যেকার কাল্পনিক অংশগুলিকে ছবিতে বর্জন করাতেই তাঁর আনন্দ। তেমনই একটা ছবি ‘রাবণের সীতা হরণ’। বাল্মীকি বা কৃত্তিবাস যেমনটি পুষ্পক রথের বিবরণে সীতা হরণের কাহিনি লিখেছেন ছবিতে সেই পুষ্পক রথটিকেই বাদ দিয়েছিলেন শিল্পী। দেখা যাচ্ছে, সীতাকে বাহুপাশে বন্দি করে আকাশে উড়ন্ত এক কৃষ্ণকায় দুর্বৃত্ত রাবণ তলোয়ারের ঝলকানিতে জটায়ুর ডানা কাটছেন। পাশা-পাশি দেখা গেল শিল্পী রাবণের দশটা মাথা নয় একটা মাথাই এঁকেছেন। বিলকুল মানব চেহারার এক মাথার রাবণ ইনি।

এই রকম জান্তব, স্পর্শকাতর লুণ্ঠন চিত্র দেখে মানুষ আশ্চর্য হয়ে গেল। ক্ষোভের বুদবুদ উঠতে লাগল মানুষের মনন জুড়ে। ততদিনে পরাধীন ভারতের মানুষের ক্ষোভের লক্ষ্য গতিমুখ বদল করেছে। ছবিতে যেমন বলা হচ্ছে ভিন দেশী দস্যুর ভারত লক্ষ্মী লুণ্ঠনের ইতিহাস, ঠিক একই ভাবে সেদিনের ভারতবাসী ছবিটির দিকে তাকিয়ে সহসা বিদ্যুৎ ঝিলিকের মত ভেবেছিল সেই লুণ্ঠন আজও অব্যাহত রয়েছে। একের পর এক দেশীয় রাজ্য দখল করে, ভারতের অজস্র ধনসম্পদ লুঠ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হস্তগত করছে আরেক ভিনদেশী দস্যু। যেও কি-না এসেছে সমুদ্র পার করে। সে শ্বেতকায়, সে ফিরিঙ্গি বনিক। কথায় বলে সাদা রাবণে ছেয়ে গেল দেশ। এ যেন টাকার এ পিঠ ওপিঠ। সীতাহরণ ছবিতে অনুভব করা গেল ‘অনুতাপ’ আর ‘উত্তাপ’।

Developed by DXDasia