সুচিত্রা সেন নন, প্রথমে ঠিক ছিল মালা সিংহ অভিনয় করবেন ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এ

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৮৮তম জন্মদিন

একমাত্র একটা নাম- সুচিত্রা সেন, যাঁকে নিয়ে বাঙালির রহস্যের শেষ নেই। ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ থেকে জুটি বাঁধা শুরু করলেন উত্তমকুমারের সঙ্গে। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি একটিবারের জন্যেও। এই ছবিটি সুচিত্রার জীবনে উল্লেখযোগ্য হলেও এর আগে তিনি আরও দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। যে দুটি ছবি নিয়ে কথা হয়ই না প্রায়। সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম বাংলা ছবি ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২), যেটি মুক্তি পায়নি। তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদি’ (১৯৫৩)। যেখানে সুচিত্রাকে দেখা গিয়েছিল সমর রায়ের বিপরীতে। এই ছবির হাত ধরেই অভিনেত্রী রমা হয়ে উঠলেন সুচিত্রা। ১৯৫৩ সাল সুচিত্রা সেনের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। একটি তাঁর নাম পরিবর্তন এবং দুই নম্বর বিষয় হল উত্তমকুমারের সঙ্গে জুটি বাঁধা। শোনা যায়, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর জন্য উত্তমের বিপরীতে অভিনয় করবেন মালা সিংহ। পরিচালক নির্মল দে’র তেমনই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেইসময় মালা সিংহ’র কোনো ডেট ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপরেই এই ছবিতে নেওয়া হয় সুচিত্রা সেনকে। সুচিত্রার প্রথম বক্সঅফিস সাফল্য সেখানেই।

আজ মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৮৮তম জন্মদিন। সুচিত্রা সেন একটি যুগের নাম। যে যুগে একাই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। যুগের অবসান হলেও দাপট কি শেষ হয়? রহস্যও কি চলে যায়? না। এখনও বাংলা টেলিভিশনে সুচিত্রার ছবি দেখানো হলে ঘরে ঘরে উপচে পড়ে ভিড়। এই দৃশ্যটার নামই তো সুচিত্রা। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর শেষ ছবি ‘প্রণয় পাশা’। সেইবছরই দীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেকে ক্রমশ আত্মগোপন করেন। ১৯৭৮-এর পর থেকে ২০১৪-র মৃত্যুর শেষদিন অবধি আর কেউ সুচিত্রা সেনকে প্রকাশ্যে দেখতে পাননি। এই ৩৬টা বছর নিজেকে গুটিয়ে আরও রহস্যময়ী করে তুলেছিলেন। কিন্তু দর্শক তাঁকে ভোলেনি। এই রহস্যের শেষ হয় না যে!

Developed by DXDasia