আদিম কলকাতা এবং কিছু অদ্ভুতুড়ে প্রেমের গল্প
(প্রথম পর্বের পর আজ দ্বিতীয় পর্ব)
প্রায় ন’টা নাগাদ মিঃ গ্র্যান্ড বেরোলেন বাড়ি থেকে। মিঃ বারওয়েলের বাড়িতে নেমন্তন্ন। এই সুযোগকে কাজে লাগলেন ফ্রান্সিস। পাঁচিল টপকে রাতের অন্ধকারে ঢুকলেন গ্র্যান্ডের বাড়ি। সঙ্গে কয়েকজন সাথীও আছে। তাঁদের রেখে এসেছেন বাইরে পাহারা দেওয়ার জন্যে। মিসেস গ্র্যান্ড থাকেন দোতলায়। ফ্রান্সিস সাহেব একটা মই জোগাড় করে দোতলায় ওঠার চেষ্টা করলেন। তখনই হল বিপত্তি। দারোয়ান সাহেবকে পাকড়াও করল। ফ্রান্সিসের সঙ্গে ম্যাডাম গ্র্যান্ডের সম্পর্কের কথা হাওয়ায় ভাসছে। দারোয়ানেরও তা অজানা নয়। সুতরাং ইনিই যে ফ্রান্সিস সাহেব, বুঝতে আর বাকি রইল না। তাছাড়া দারোয়ান ফ্রান্সিসকে আগেও দেখেছেন। সাহেবকে আটক করে নিচের ঘরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে ছুটলেন বাবুকে খবর দিতে। তখন বারওয়েল সাহেবের বাড়িতে পার্টি চলছে। অসময়ে দারোয়ানকে ছুটে আসতে দেখে অবাক হলেন গ্র্যান্ড সাহেব। তিনি বললেন- “কী ব্যাপার, তুমি এসময়?” দারোয়ান গ্র্যান্ডের কানে ফিসফিস করে বলল- “স্যার, ফ্রান্সিস সাহেব মেমসাহেবের সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করতে এসেছিল। আমি বেটাকে বেঁধে রেখেছি। আপনি শিগগিরি আসুন”। এই বলে দারোয়ান ছুট লাগালো। গ্র্যান্ড সাহেব পার্টি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামলেন। হাউ হাউ করে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলেন তিনি। ছুটতে লাগলেন বাড়ির দিকে। রাস্তায় পেয়ে গেলেন ইমপ্রে সাহেবকে। আজকে একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বেন। বাড়ি ঢুকে গ্র্যান্ড সাহেব ব্যোমকে গেলেন। কোথায় ফ্রান্সিস! এ তো জর্জ সাহেবকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ধমক দিলেন দারোয়ানকে। দারোয়ান কাঁচুমাচু হয়ে বলল- “আজ্ঞে, ফ্রন্সিস সাহেবকেই তো পাকড়াও করেছিলাম। আপনাকে যখন খবর দিতে গেলাম, এই সাহেব ফ্রান্সিস সাহেবের বাঁধন খুলে দিয়েছে। ফ্রান্সিস সাহেব পালিয়ে গেছে। আমার খুব রাগ হয়েছিল বাবু, তাই এই সাহেবকেই বেঁধে রেখেছি।”
আরও পড়ুন
‘ভূত’পূর্ব প্রেম

ক্যাথরিন ও মিঃ গ্র্যান্ডের বিয়ের রেজিস্টার। এটি সংরক্ষিত আছে কলকাতার সেন্ট জন'স চার্চে।
গ্র্যান্ড বুঝলেন গন্ডগোল কিছু একটা আছে। জর্জ যখন এখানে উপস্থিত, ফ্রান্সিস এসেছিল নিশ্চয়। জর্জ ফ্রান্সিসের ছায়াসঙ্গী। বড়ো ভেঙে পড়লেন গ্র্যান্ড সাহেব। এই ঘটনা নিয়ে কম জলঘোলা হল না। সবচেয়ে বড় আঘাতটা পেলেন যেদিন ক্যাথরিন নিজের মুখে স্বীকার করল, ফ্রান্সিসের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। গ্র্যান্ড সাহেব ফ্রান্সিসের নামে কোর্টে কেস ঠুকলেন। কিন্তু ক্যাথরিনকে কিছু বললেন না। সাহেব বড়ো ভালোবাসতেন ক্যাথরিনকে। সাহেব লিখছেন ডায়েরিতে- “ওকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।” কিন্তু ক্যাথরিনের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্কও তিনি রাখলেন না। ক্যাথরিনকে তিনি বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। কিছু মাসোহারার ব্যবস্থা করে দিলেন।
এবার এই গল্পে এন্ট্রি নিলেন শূন্য থেকে সোনা তৈরি করার মালিক। তিনি আর কেউ না, হেস্টিংস সাহেব।
(ক্রমশ…)
• ঋণস্বীকার- ভূতের ঘটনাটি পেয়েছি বারিদবরণ ঘোষের “আদিম কলকাতার ভূতের বাড়ি ও অন্যান্য” বই থেকে
• ইতিহাস খুঁজতে ঘাঁটাঘাঁটি করছি, Echoes from Old Calcutta- H.E. Bustedd, Calcutta old and new- H.B. Cotton।
• এছাড়া হেস্টিংস সাহেবের চিঠিপত্র, ফ্রান্সিস সাহেব, গ্র্যান্ড সাহেবের ডায়েরি এসব তো আছেই।
ছবি- লেখক