
ভরসা ছিল, আধারকার্ড ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে জনমনে বা পাবলিক ডোমেনে কিছু ভিন্নরকম চর্চা হবে। অন্তত জনগণ এই রায়ে যে কিঞ্চিৎ স্বস্তি বোধ করছেন বা ভাবতে আরম্ভ করছেন ‘আপদ বিদেয় হল’-গোছের একটা ফুর্তিবোধ, ঠিক তার পাল্টা কিছু খবরাখবর উঠে আসবে এবার। সবসময় সবুরে মেওয়া ফলে না, এক্ষেত্রেও অন্ততপক্ষে তাই। এর কারণ খুঁজতে গেলে আরও একবার পড়ে ফেলতে হবে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায়। গণতন্ত্রের চূড়ান্ত স্তম্ভে পৌঁছেও যেখানে দেশের প্রধানতম আইনিরক্ষকরা সকলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। যেহেতু গণতন্ত্র, তাই সংখ্যাধিক্য বিচারপতির মতই স্বীকৃত হয়েছে রায় হিসেবে। তার মানে এই নয়, বিচারপতি চন্দ্রচূড় যা বলেছেন তার সবটাই ফেলনা। তেমনটা হওয়ার কথাও নয়। সংসদে কোনও বিষয়ে বিরোধীরা যা বলেন, সেটাও সংসদের কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত হয়। অনেক সময় তাতে অনেক সারবস্তু থাকে। শুধু সংখ্যার বিচারে হয়তো মত পরিত্যক্ত হয়, কিন্তু গৃহীত না হওয়া মানেই তার জরুরি দিকগুলো অবহেলা করা নয়।
সবাই জানেন, আমাদের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালক দল, পূর্বতন ইউ পি এ জমানায় কাজ শুরু হওয়া আধার কার্ড কর্মসূচিকে সেই সময় ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করে এসেছেন। বিগত লোকসভা নির্বাচনের (২০১৪) সময় তাদের ঘোষনা ছিল ক্ষমতায় এলে তারা আধার- কর্মসূচি বাতিল করবেন, তাঁদের অভিযোগ ছিল এই কর্মসূচির রূপায়ণে বেশ কিছু আর্থিক নয়-ছয় হয়েছে। কী হয়েছিল না হয়েছিল আমরা জানি না, কিন্তু ক্ষমতায় আসার অল্প দিনের মধ্যেই এই ‘সমালোচিত’ কর্মসূচির মধ্যে তারা কী এক মহতী ‘জাতীয়তাবাদী’ মধু খুঁজে পেলেন জানা নেই। কিন্তু আধার নামক এক সরকারি চিটেগুড়ে গোটা দেশবাসীকে আটকে ফেলার আয়োজনে হঠাৎ অতি-উৎসাহী হয়ে উঠলেন তারা। মনমোহন সিংহের জমানায় তৈরি হওয়া ইউ আই ডি এ কর্তৃপক্ষ যখন প্রায় নিভু নিভু, তাঁদের মূলকর্তা বেঙ্গালুরু থেকে লোকসভার ভোটে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং হারলেন। নতুন মোদি-জমানায় সেই আধার-সংস্থা আবার পুনরুজ্জীবিত হল, শুরু হল ‘আমার আধার আমার পরিচয়’ শ্লোগানের আড়ালে এই রঙিন পরিচয়পত্রকে সর্বস্তরে বাধ্যতামূলক করার। কারণ ততদিনে সরকার ‘নিশ্চিন্ত’ হয়েছেন যে, গোটা দেশ সন্ত্রাসী আর দেশবিরোধী জঙ্গিতে ছেয়ে গেছে এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে ‘উইপোকা’ এইদেশের আনাচে কানাচে সেঁধিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং আধার-এর চেয়ে নির্ভরযোগ্য পেস্টিসাইড আর কী-ই বা হতে পারে? খাওয়া-পরা জুটুক না-জুটুক আধার চাইই চাই। তার জন্যে সংসদে আইন পাশ করানো দরকার।
তা হবে কী করে ? আধার কার্ডের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিয়ে সরকার সংসদে ঐকমত তৈরি করতে পারেনি, বাদ সেধেছে বিরোধীরা। কারণ এর আগের পর্বে যেটুকু কাজ এগিয়েছিল তাতেই ধরা পড়েছে আধারকার্ডের সংগৃহীত তথ্যের নিরাপত্তা সংশয়ের ঊর্দ্ধে নয়। সমস্ত নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্যভান্ডার একটি সংবেদনশীল বিষয়, এর সঙ্গে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক অধিকার বলে বিবেচ্য হবে কি না তখনও তা নিয়ে মামলা বিচারাধীন। সুতরাং সংসদে আইন না পাশ করালে আধারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আইনি রক্ষাকবচের বাইরে থেকে যায়। অথচ সংসদের উভয়কক্ষে বিল পাশ করানোর মতো অবস্থা তখনও সরকারের ছিল না। কারণ রাজ্যসভায় সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। এই অবস্থায় মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার একটি পাশ কাটানো রাস্তা নেয়। যেহেতু সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ী কোনও বিল “অর্থ বিল”-এর মর্যাদা পেলে তা উভয় কক্ষে পাশ করানোর বাধ্যতা থাকে না। তাই ঘুরপথে আধার কার্ড বিষয়ক বিলকে – Aadhaar (Targeted Delivery of Financial and other Subsidies, benefits and services) Act, 2016, অর্থ বিলের মর্যাদা দেওয়া হয়, যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় লোকসভার স্পিকারের। এক্ষেত্রে সরকারি দলের অভীপ্সা মেনে স্পিকার সেই কুকম্মটি করে বসেন এবং বিল অনায়াসে আইনে পরিণত হয়ে “আচ্ছে দিন”-এর আগমনকে সুগম করে তোলে।
এরপরেই শুরু হয় সরকারিপক্ষে ডিজিটাল সন্ত্রাস। আধার চাইই চাই। নইলে সমস্ত সরকারি ভর্তুকি বন্ধ, ব্যাঙ্কের লেনদেন বন্ধ, মোবাইলের সিমকার্ড বন্ধ, আয়কর জমা দেওয়ার পথ বন্ধ, কোথাও স্কুলের ভর্তি বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাপত্র জমা করা বন্ধ — যেন একটা গোটা দেশ ও তার নাগরিকরা সরকারের চোখে সন্দেহভাজন! ঘুরপথে আনা আইনের দাপটে সরকারের রক্তচোখ এমন প্রলয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে এমনটা কেউ ভাবেনি। এবার একটু খেয়াল করে দেখুন, বাকি চার বিচারপতি এই ঘুরপথের আইনি বৈধতা দিলেও, বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছেন, তিনি মনে করেন আধার বিলকে অর্থ বিলের মর্যাদা দেওয়া সঠিক নয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করছেন, স্পিকার এই ক্ষেত্রে যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী বলে বোঝানো হয়েছে, সাংবিধানিক প্রশ্নে তা ‘সুপ্রিম’ হতে পারে না। স্পিকারের সিদ্ধান্ত আদালতের বিচার্য হতে পারে।
আধার বিষয়ক এই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই গত বছর (২০১৭) সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের রায়ে বলেছিলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার অবশ্যই নাগরিকের মৌলিক অধিকার, নির্বিচারে রাষ্ট্র তার ওপর খবরদারি করতে পারে না। প্রশ্ন উঠেছিল, এই যে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধার নম্বর চাওয়া হচ্ছে তার ফলে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অন্য সংস্থার হাতে চলে যাওয়া ও তার অপব্যবহারের সম্ভাবনা কতদূর। এই দুর্ভাবনার কারণ, বিভিন্ন সংস্থা বা ওয়েবপোর্টালে কোনও গ্রাহক পরিষেবা পেতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার মোবাইল নম্বর দিয়ে তাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, এই নম্বর কেবলমাত্র ওই সংস্থার কাছেই থাকে কি না, সেটা নিয়ে ঘোর সন্দেহের অবকাশ আছে। কারণ, আমাদের প্রত্যেকেরই এমন অভিজ্ঞতা আছে যে-সংস্থার সঙ্গে আমরা আদৌ যুক্ত নই, সেখান থেকে অনেক সময় আমরা কল পাই। ধরা যাক, আপনি ক-ব্যাঙ্কের গ্রাহক, কিন্তু কল পেলেন অন্য আরেকটি গ-ব্যাঙ্ক থেকে, তাদের কোনও পরিষেবার গ্রাহক হওয়ার অনুরোধে। এটা কী করে সম্ভব যদি না আপনার ফোন নম্বর অন্য কোনও সংস্থাকে দেওয়া না হয়? এই গোপন দেওয়া নেওয়ার ব্যাবসা যে চলে এটা অনেকেই জানি না। কল সেন্টারের কর্মীদের প্রলোভন দেখিয়ে অন্য সংস্থা তাদের গ্রাহক ভান্ডার তৈরি করে নেয়।
পাশাপাশি, আধার কার্ড বাধ্যতামূলক ঘোষণা করার পরে দুটো জরুরি বিষয় হয়তো সকলেরই চোখে পড়েছে। প্রথম হল, মোবাইলের পরিষেবা সংস্থাগুলি নতুন সিমকার্ড দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো সিমকার্ড থ্রিজি থেকে ফোরজি করার জন্যও আধার কার্ড দাবি করতে থাকে, যার কোনও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি। অন্যদিকে, নোটবন্দির পরে যেসব ডিজিটাল ওয়ালেট কোম্পানিগুলি প্রচুর বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের বাজার বাড়াতে থাকে, কেউ কেউ ওই সময় থেকে বিভিন্ন জায়গায় কিয়স্ক বসিয়ে বিনামূল্যে তাদের গ্রাহকদের আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করানোর ব্যবস্থা করে এবং এই কাজের জন্য বিজ্ঞাপনও দিতে থাকে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই ব্যবস্থা কেন তারা চালু করেছিলেন তা কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহের জায়গা তৈরি করে। প্রশ্ন ওঠে এই কারণে, যে আধার আইনে কিন্তু স্পষ্ট বলা হয়েছিল কোনও সরকারি ভর্তুকি ও কল্যাণকর প্রকল্পের সুবিধে নিতে গেলে আধার পরিচয়পত্র আবশ্যিক। মোবাইলের সিম সংযোগ বা ডিজিটাল ওয়ালেট কোনোটাতেই কিন্তু সরকারি ভর্তুকির বিষয় ছিল না। তাহলে এই অকারণ বাড়াবাড়ি কেন হয়েছিল সেই সময়? এর জবাব এখনও অধরা।
আবার ফিরি বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের পর্যবেক্ষণে। তিনি এই কথাও বলেছেন, আধার-তথ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামা খুব সুনির্দিষ্ট নয়, অর্থাৎ সারা দেশের নাগরিকের তথ্যভান্ডার কীভাবে কতদূর সুরক্ষার মধ্যে রয়েছে এটা নিয়ে এখনও যথেষ্ট ভাবনার বিষয় রয়ে গেছে। কারণ, আধারের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে যখন সারা দেশে আলোচনা চলছিল, তখন কিন্তু একটি সংস্থা খোদ আধার কর্তৃপক্ষের বড়োকর্তার আধারের তথ্য ক্র্যাক করে দেখিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদ মারাত্মক। এই বিষয়ে কি কোনও সুরাহা হল? যে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সরকারের পক্ষে সংগ্রহ করা হল তার সুরক্ষার দায়িত্ব কি এতটাই লঘু? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিন্তু এইসব উত্তর মেলেনি। কেন মেলেনি? কারণ, সুপ্রিম কোর্টের মূল বিচার্য ছিল আধার সংক্রান্ত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা। এই মূল বিষয়েও একমত হতে পারেননি বেঞ্চ সদস্যরা, ভিন্ন সুরের শরিক বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছেন এই আইন সংবিধানের সঙ্গে গুরুতর জালিয়াতি (Serious Fraud to Constitution)।
তাছাড়া ভেবে দেখার, কেন এই আধার কার্ড বিষয়টি নিয়ে এত চাপাচাপি ঘটল এই আমলে? এর আগে নানা সময় ভোটার আইকার্ড বা প্যানকার্ড তৈরির চেষ্টা হয়েছে, এত বড় দেশে এই কাজ যে সুকঠিন ও দুরূহ এটা সেই সময়ের সরকারি নীতিকাররা বুঝেছিলেন। ফলে কাজগুলো হয়েছে ধারাবাহিকভাবে অর্থাৎ ধাপে ধাপে, এবং সেগুলো নিয়ে সরকারি ভীতিপ্রদর্শনের মতো বিষয় ঘটেনি। এখনও ভোটের তালিকায় নাম থাকলে ভোটার কার্ড (এপিক) ছাড়া অন্য আরও কিছু অনুমোদিত পরিচয়পত্র দেখালে ভোট দেওয়া যায়, যারা আয়কর দেন না তাদেরও প্যানকার্ড না থাকলে তেমন কিছু এসে যায় না। কিন্তু আধারের ক্ষেত্রে সবটাই মাত্রাধিক এবং তা জুড়ে দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর সঙ্গে, এই বাড়াবাড়ি কিন্তু চোখে পড়ার মতো এবং তা রীতিমতো সংশয় জাগায়। এক্ষেত্রে নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে, নেওয়া হচ্ছে তার চোখের মণি, হাতের আঙুলের ছাপ এবং সব ব্যক্তিগত তথ্য। বিচারের শুনানির সময় এই প্রশ্নও তো উঠেছিল, সরকার কি একটা পুলিশ রাষ্ট্র তৈরি করতে চান? তাহলে সংবিধান-প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের কী হবে? এটাও পাশাপাশি একটা জিজ্ঞাসা, দুনিয়ার বিভিন্ন উন্নতদেশে জনসংখ্যা আমাদের তুলনায় ঢের কম হওয়া সত্ত্বেও তারা কেন এই ধরণের কোনও ইউনিক আই ডি কার্ডের ব্যবস্থা করেননি? যদি দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে, তাহলে দুনিয়ার কোনো দেশই আজ আর শান্তির পীঠস্থান নয়, নানা ধরনের সন্ত্রাস, গুপ্ত সংগঠনের নাশকতা কমবেশি সব দেশেই আছে। কোনও কোনও দেশ এই বিষয়ে কাজে নামলেও পরে বাস্তবতা বিচার করে পিছিয়ে এসেছেন, অথচ আমাদের মতো একশো কুড়ি কোটির দেশে- যেখানে শিক্ষার হার কম, দারিদ্র্যের হার বেশি সেখানে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কার্ড তৈরির প্রকল্প নেওয়া হল। আমাদের সমস্ত নাগরিক কি সন্ত্রাসী হয়ে গেল? ঠিক যেভাবে এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে জাতির উদ্দেশে অকস্মাৎ ভাষণ দিয়ে নোটবন্দি ঘোষণা করে গোটা দেশের মানুষকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল নভেম্বর ২০১৬ তে! সেখানেও তো কালোটাকার করাল গ্রাস থেকে দেশরক্ষার গদো গদো আহ্বান ছিল, ছিল নোট বাতিলের ফাঁদে ফেলে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার আজগুবি প্রতিশ্রুতি। ক্রমশ প্রকাশ হয়েছে, কাদের কোন রঙের টাকা কোন রঙে বদলে গেছে। সিকিজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা না গেলেও শতাধিক মানুষ টাকার জন্য পথে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
ঘটনাক্রম এইরকম যে, এই যুক্তিটাও সরকারিপক্ষে বিচারপতিদের সামনে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু এই অপযুক্তিও শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি শুধু নয়, সেটিকে সপাটে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন, দেশে সন্ত্রাসবাদী বা দেশবিরোধী মানুষরা সংখ্যায় কম, তারা আছে বলে দেশশুদ্ধ মানুষকে এইভাবে সন্দেহ করা যায় না। এর থেকে বড় চপেটাঘাত আর কীই বা হতে পারে! এটা সরকারের আচরণে স্পষ্ট, আধার কার্ড নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত তৎপরতা নাগরিকদের গড়পড়তা সন্দেহের পরিবেশকেই পুষ্টি দিয়েছে। কিন্তু যারা নাশকতামূলক কাজ করেন শুধু তারাই দেশবিরোধী নন, যারা দেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেন, সরকারের অর্থ ঋণ নিয়ে শোধ দেওয়ার পরোয়া করেন না এবং বুক বাজিয়ে অন্য দেশে গিয়ে আস্তানা গাড়েন এবং যারা এইসব মহাপুরুষদের পালানোর পথে সবুজ পতাকা নেড়েছেন, নৈতিকভাবে তারাও সমান দেশদ্রোহী, দেশের জনগণের স্বার্থের বিরোধী। আধার কার্ড এখানে কীভাবে রক্ষাকবচ হতে পারে সে এক রহস্যের অধ্যায়। কিন্তু কথাটা ফেলনা নয়।
(ক্রমশ…)