
গত ২৮-২৯ বছরে যে চার পাঁচ বার ডিজিএইচসি বা জিটিএ-র ভোট হয়েছে, প্রতিবারই ঘিসিং বা গুরুংদের দল বিরোধীশূন্য বোর্ড গঠন করেছে।পাহাড়ের নেতাদের বাধায় বা কখনও তাদের ইচ্ছেকে সমর্থন করে ওই সব ভোটে বিরোধীরা প্রার্থীই দেয়নি। সুবাস ঘিসিংয়ের সময়ও যখন অডিটের প্রশ্ন উঠেছিল, পাহাড় নতুন করে অশান্ত হয়েছিল। সেই অডিট হয়নি। এবারও দেখা যাচ্ছে অডিটের কথা উঠতেই নেতারা ক্ষিপ্ত। আর বিরোধীশূন্য থেকে থেকে পাহাড়ের এই নেতাদের ধারণা হয়েছে তারা চিরকালই বিরোধীশূন্য রাজনীতি করবেন। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস দার্জিলিঙে ১৮ শতাংশ, কার্শিয়াং-এ ২২ শতাংশ, কালিম্পঙয়ে ২০ শতাংশ ভোট পায়। পাহাড়ের মানুষ সমতলের কোনও রাজনৈতিক দলকে ভোট দিচ্ছেন, এমন ঘটনা বহু বছর পর ঘটল। গোর্খা নেতারা এটাকে ভাল ভাবে নিতে পারলেন না। অসন্তোষের ইঙ্গিত তখন থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর এল ২০১৬-র বিধানসভার ভোট। ভোটের ফলে দেখা গেল, তৃণমূল কংগ্রেস দার্জিলিঙে পেয়েছে ৩০ শতাংশ, কার্সিয়ংয়ে ৩৪ শতাংশ আর কালিম্পঙয়ে ৪২ শতাংশ ভোট। এবং সাম্প্রতিক পুরভোটে মিরিক পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কালিম্পঙে মোর্চার থেকে বিরোধীরা বেশি ভোট পেয়েছে। সভাবতই বিমল গুরুং রোশন গিরিরা বুঝতে পারলেন, বিরোধীশূন্য জিটিএ গঠন করা তো দূরের কথা, ভোটে জিটিএ দখল করাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ এখন। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়কে অশান্ত করে ভোট এড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া বিমল গুরুংদের হাতে অন্য কোনও পথ ছিল না।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে পাহাড়ে লেপচা সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য মোট ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছে। এই সব ছোট ছোট জনগোষ্ঠী অতীতে কখনও কোনও সরকারের কাছ থেকে এই ধরনের স্বীকৃতি পায়নি। স্বভাবতই তারা খুশি। এবং মূলত এই কারণেই পাহারবাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিচ্ছেন। এবং এই ভোট দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
বিমল গুরুংরা যে অনির্দিষ্টকালের বনধের ডাক দিয়েছেন, তার প্রতি মোটেই পাহাড়ের বড় অংশ মানুষের সমর্থন নেই। বিশেষ করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ জন আড়াল পেলেই মুখ খুলছেন। কিন্তু সংগঠিতভাবে করা গোলমাল রুখে দেওয়ার মত তাদের কোনও সংগঠন নেই। ফলে বিমল গুরুংরা ফাঁকা মাঠেই গোল দিচ্ছেন।
বিগত কয়েকটা ভোটের ফলই বলে দিচ্ছে বিমল গুরুংদের জনপ্রিয়তায় বিপুল ক্ষয় হয়েছে। ধর্মঘট বনধের পালিশ দিয়ে তারা এখন ব্যস্ত নিজেদের বিদ্রোহী ইমেজ উজ্জ্বল করতে। মাসুল গুনছেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে, সরকারের কাছে পথ একটাই। পুলিশের কাজ পুলিশ করুক, কিন্তু যে ভাবেই হোক পাহাড়ের নেতাদের আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো।তাঁরা হয়তো এখনই আলোচনায় বসতে চাইবেন না, কিন্তু সরকারের দিক থেকে পথটা খোলা রাখাই বাঞ্ছনীয়। আসলে পাহাড়ের রাজনীতিতে একটা বদল আসছে, রাজনীতিতে কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর মনোপলির দিন ফুরিয়ে এসেছে। বিমল গুরুংরা এটা মানতে পারছেন না। সমতল পাহাড়ের বিভেদ ঘুঁচে যাক এটা তাঁরাও চান না।
নেপালি ছেলেটা গিটার হাতে কলকাতাতে গান গাইতে আসুক, কবীর সুমনের এই স্বপ্ন সফল হতে অনেক দেরি এখনও।