
দিল্লি, বিহারের বিধানসভা ভোটে বড় পরাজয়ের পর, উত্তরপ্রদেশ জিতে বিজেপি তার ডানার পেশিতে অনেকটাই বল সঞ্চয় করে নিয়েছে। মোদি এবং অমিত শাহ হয়ে উঠেছেন বিজয়ের আইকন। বিজেপির আরও অন্য নেতারাও সম্প্রতি বাংলা সফর করেছেন। কিন্তু অন্য নেতাদের সঙ্গে অমিতের ফারাক, ধারে ভারে এবং উচ্চতায় স্পষ্ট। বাংলায় তিন দিনের সফর শেষ করে অমিত শাহ দিল্লি ফিরলেন। কী দিয়ে গেলেন রাজ্য সংগঠনের নেতাদের? দিয়ে গেলেন উন্মাদনা। দিয়ে গেলেন স্বপ্ন। বাংলা দখলের।
বাম এবং কংগ্রেস দুর্বল হয়েছে। সেই শূন্যস্থান বিজেপির লক্ষ্য। তার সঙ্গে অমিত দলের নেতাদের বলেছেন, শাসকদলের মধ্যে যে সব অঞ্চল-ভিত্তিক বিরোধ আছে তাকে ‘হিট’ করতে। আগামী দিনে প্রচুর দল বদল আমরা দেখতে পাব আশা করছি। সামনে আছে কয়েকটি ছোট পুরসভার ভোট। সেখানে বিজেপি তার উপস্থিতি বাড়াতে মরিয়া। তার পর সেমি ফাইনাল ২০১৮ সালে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট।
অমিত শাহের এই সফর ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এই ভাবেই ধাপে ধাপে অমিত শাহর দল উত্তরপ্রদেশ দখল করেছে। কিন্তু তফাত একটা আছে। উত্তরপ্রদেশে অমিত শাহের মতো উঁচু মাপের নেতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো নেতা কেউ ছিলেন না বিরোধী দলে। বা বলা যায় উলটো দিকে ছিলেন, দুই অনভিজ্ঞ নেতা রাহুল এবং অখিলেশ। আর মায়াবতী যা যা করেছেন, সবটাই বিজেপির পক্ষে গেছে। কিন্তু বাংলায় উল্টো দিকে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি প্রায় একক প্রচেষ্টায় ৩৪ বছরের বাম শাসনকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। তাঁর জেদ এবং জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন, দূরবীন দিয়েও বিজেপিতে এমন কোনও নেতার দেখা মেলা ভার। ফলে বিজেপি অনেকটাই নির্ভর করছে নারদ এবং সারদার উপর। মানে সিবিআই যদি পেছন থেকে একটু সাহায্য করে।
অমিত শাহের প্রতিটি অভিযোগের জবাব তৃণমূল নেত্রী দিয়েছেন। বলেছেন, দিনে বস্তিতে গিয়ে খাওয়ার নাটক আর রাতে ফাইভ স্টার হোটেলের খাবার খেয়ে বাংলায় রাজনীতি হয় না। বাংলার মাটি আনেক শক্ত, এখানে কামড় বসাতে গেলে দাঁত ভেঙে যাবে।
বাংলাকে দেশের সব থেকে পিছিয়ে পড়া রাজ্য বলে মন্তব্য করেছেন অমিত শাহ। এটা বাঙালি কী ভাবে নেয় দেখার আছে। মেধা থেকে শুরু করে বহু মাপকাঠিতেই এই রাজ্য অন্য অনেক রাজ্যের থেকে এগিয়ে। এখানে দলিত হত্যা হয় না, গুজরাট দাঙ্গার মতো দাঙ্গা হয় না, সেটা অমিত শাহরা ভুলে যেতে পারেন, বাঙালি মনে রাখে। কারণ এটা বাঙালির অহঙ্কার।