April 17, 2021 | 12:00 PM

বাংলার চাষিদের স্বাস্থ্য গুজরাটের কৃষকদের তুলনায় অনেক ভালোঃ অমর্ত্য সেন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আবহাওয়ায় রাজনৈতিক হিংসা থেকে মেরুকরণের রাজনীতি, প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে হাভার্ডে বসেই এক ইংরেজি সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোজাসাপ্টা নিজের রাজনৈতিক মত তুলে ধরলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাংলায় বাইরের পুলিশ এসে যদি শুধু মুসলিমদের মারে, একটি প্রধান দলের নেতা যদি বলেন, ‘মুসলিমরা আমাদের ভোট দেবে, এই আশা করি না’, তা হলে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলায় অশান্তির আবহ তৈরি হবে বইকি! বাংলার ভোটে মেরুকরণের রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেই তাঁর কথাতেও বার বার উঠে এসেছে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ। অর্থনীতিবিদের মতে, ‘বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান কখনওই বিভেদমূলক হয়ে ওঠেনি, বরং সেই দশম শতাব্দী থেকে বাংলার সংস্কৃতি ও সাহিত্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যই গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিটিশরা অবশ্য ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতির ছায়া এখনও দেখা যায় নয়া নাগরিকত্ব আইনে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এই আইন কোনও সম্প্রদায়কেই খুশি করেনি।’

তৃণমূল ও কংগ্রেস এতদিন মুসলিম তোষণ করেছে বলেই হিন্দুরা বিজেপির দিকে ঝুঁকছে, এই জল্পনায় জল ঢেলে অমর্ত্য বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে মুসলিমরা বরাবরই পিছিয়ে, আর তাই সমতা আনতে গরিবদের সাহায্য করতেই হতো। সে গরিব মুসলিম হোক, মতুয়া বা নমোশূদ্র! তাঁর মতে, সিএএ-র মতো আইন এনে ভারত সরকারই মুসলিমদের বঞ্চিত করেছে।চতুর্থ দফার ভোটে শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন চার জন। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলায় প্রচার সেরে দিল্লি গিয়ে কিছু সরকারি কাজ সামলে ফের পরের দফার প্রচারে আসছেন। এক বা দু’দফায় ভোট হলে সেটা সম্ভব হতো না। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই নির্বাচন কমিশন এত দফায় ভোট করাচ্ছে কি না, তাই বা কে জানে?’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একাধিক ব্যর্থতা বিজেপিকে সক্রিয় করে তুলেছে, এ যুক্তি মানতে নারাজ তিনি। বরং তাঁর মতে, ‘বাংলার চাষিদের স্বাস্থ্য গুজরাটের কৃষকদের তুলনায় অনেক ভালো। আর এখন সরকারের ভুল নয়, সত্য খোঁজার সময় এসেছে।’