
পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকার বুরদার অক্ষয় ভগত। বয়স মাত্র ২৩ বছর। অক্ষয় অল্প বয়স থেকেই অভাবের সংসারে হাল ধরেছিলেন। পেপার, দুধ, লটারি বিক্রি করেই সংসার চালাতেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। পারিপার্শ্বিক পরিবেশই তাঁকে বয়সের তুলনায় অনেকখানি বড়ো করে তুলেছে। তাই নিজের উপলব্ধিকে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন গোটা দেশে।
খুব ছোটোবেলায় চোখের সামনে দুই নাবালিকা দিদির বিয়ে হতে দেখেছিলেন অক্ষয়। তখনও বাল্যবিবাহ নিয়ে তেমন জ্ঞান ছিল না তাঁর। কিন্তু বিয়ের পর বছরের পর বছর দিদিদের শারীরিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখেছেন। তখনই ঠিক করেন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবেন। সমাজকে সচেতন করবেন। প্রশাসন বা পুলিশের সাহায্যের অপেক্ষা করেননি। একাই শুরু করেন এই সংগ্রাম। নিজের নাবালিকা বোনের বিয়ে আটকে দিয়ে গ্রামে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন অক্ষয়। তারপর বেরিয়ে পড়েন গোটা দেশকে সচেতন করতে। ২০১৮ সালের ৫ মার্চ বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। টানা ৩৯০ দিন প্রায় ২৪টি রাজ্য ঘুরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করেন মাধ্যমিক পাশ অক্ষয়। আগামী ১০ এপ্রিল অভিযান শেষ করে বাড়ি ফিরবেন তিনি। পথে পথে বাল্যবিবাহ নিয়ে মানুষকে শিক্ষা দেন। অক্ষয়ের আশা, তাঁর গ্রামে শিক্ষার আলো ফুটলে বাল্যবিবাহকে সমূলে বিচ্ছেদ করা সম্ভব হবে।