
শিশুশ্রমিক প্রথা বন্ধ করতে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে কাজ শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের শ্রম দফতর। তাদেরই উদ্যোগে, শিলিগুড়ির শতাধিক হোটেল মালিক হোটেলের সামনে পোস্টার সেঁটে দিচ্ছেন। তাতে লেখা থাকছে, ‘শিশুশ্রমিক নিয়োগ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই সংস্থায় কোনও শিশুশ্রমিক নিয়োগ করা হয় না।’ শ্রম দফতরের কাছ থেকেই ঐ ছাপানো পোস্টার সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান যুগ্ম শ্রম কমিশনার চন্দন দাশগুপ্ত।
শিশুশ্রমিক বিলোপন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আইন ২০১৬ অনুসারে ১৮ বছরের কমবয়সী প্রত্যেক শ্রমিক শিশুশ্রমিক হিসাবে গণ্য হবে। এই আইন লঙ্ঘন হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা রয়েছে। আইনের পাশাপাশি সচেতনতা একটি বড় বিষয় বলে শ্রম দফতরের আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনটি সুন্দরভাবে কার্যকর করতে অন্ধ্রপ্রদেশে পোস্টার সেঁটে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে দারুণ সাড়াও পাওয়া গেছে । তাই এখানেও তাঁরা সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পাঁচ হাজারেরও বেশি পোস্টার ছাপানো হয়েছে। হোটেল মালিক সংগঠনের সঙ্গে শিলিগুড়িতে কথাও বলেছেন তাঁরা। গত ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস থেকে শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। এমনকি, সব চা বাগানেও তাঁরা এই পোস্টার দিয়ে এবার প্রচারে নামছেন। এর জন্য হিন্দি, বাংলা ও নেপালিতে পোস্টার ছাপানো হচ্ছে। চা বাগান মালিকরাও এই সংস্থায় কোনও শিশুশ্রমিক নিয়োগ করা হয় না বলে পোস্টার দেবেন, পাওয়া গেছে আশ্বাস। যাঁরা পোস্টার দেবেন না, ধরে নেওয়া হবে শিশুশ্রমে মদত দিচ্ছেন তাঁরা। শ্রম আধিকারিকের মতে, কিছুদিনের মধ্যেই সব চা বাগানকে শিশুশ্রমিক মুক্ত করে তোলা হবে।
সাধারণত দু’ভাবে তৈরি হয় শিশুশ্রমিক। যারা অনাথ, যাদের বাবা-মা নেই তারা পেটের টানে শিশুশ্রমিক হয়ে যায়। আবার যাদের বাবা-মা খেতে দিতে পারে না, তারা প্রথমে কুসঙ্গে পড়ে নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তারপর কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। যাঁরা শিশুশ্রমিককে কাজে রাখবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ছাড়াও সচেতনতার বিরাট প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ি এনজেপি স্টেশন এলাকাতে বহু শিশুশ্রমিক নেশাতে আচ্ছন্ন। তাদের মধ্যেও প্রচারে নেমেছেন সিনি সহ অন্য বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা।