December 24, 2016 | 12:00 PM

জ্ঞানপীঠ পেলেন শঙ্খ ঘোষ

জ্ঞানপীঠ পেলেন শঙ্খ ঘোষ। মহাশ্বেতা দেবীর পর পেরিয়ে গিয়েছে কুড়িটা বছর। আবার একজন বাঙালি। এবার শঙ্খ ঘোষ। ‘দিনগুলি রাতগুলি’ কবিতার বই দিয়ে শুরু। তার পর একে একে আদিম লতাগুল্ম, নিহিত পাতাল ছায়া, জরুরি অবস্থার সময়ে লেখা বাবরের প্রার্থনা, লেখা চলতেই থাকে। ৮৪ বছরের এই জীবনে কবি লিখেছেন বহু কিছু। কল্পনার হিস্টিরিয়া যেমন লিখেছেন তেমনই লিখেছেন ঐতিহ্যের বিস্তার।  প্রবন্ধ বা নিবন্ধ কবিতা, ছড়া বা অন্য কিছু, যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই তিনি শীর্ষে। বাঙালির সংকটের সময় রাজনৈতিক অবস্থান নিতেও দ্বিধা করেননি কখনও এই কবি। বার বার মিছিলে হেঁটেছেন মানবতার প্রয়োজনে। কোনও রাজনৈতিক দলেরই কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পারেননি কোনও দিন। সভা কবি নন। প্রকৃত মানুষের কবি। আরও এক জন ‘তোমাদের লোক’। ২০১১ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এছাড়া দেশিকোত্তম, রবীন্দ্র পুরস্কার-সহ আরও বহু পুরস্কারে ইতিমধ্যেই সম্মানিত হয়েছেন কবি।

রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, বাংলা কবিতা চর্চার যে কোন বিষয়েই শঙ্খবাবু অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। যখনই তিনি কোথাও কোনও বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন দেখা গিয়েছে তা ছিল তীক্ষ্ণ এবং তুখড় । দেশ, দেশের মাটি এবং শিকড় এই তিনটির প্রতি তাঁর অনুরাগ প্রবল ভাবে ব্যতিক্রমী। শঙ্খ ঘোষ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম ধ্রুবপদ। কবিতায় তাঁর বিচরণ, নির্মাণ পদ্ধতি কিংবা ভাঙাচোরা- আজ গবেষণার বিষয়। এখনও নিরন্তর অক্লান্ত রচনায় ব্যস্ত তাঁর জীবন যাপন। তাঁর মতামত গভীরভাবে সময় উপযোগী। এই রকম একটা সময়ে এই দেশবরেণ্য বাঙালী ‘জ্ঞানপীঠ’ পুরস্কার পেলেন। কোনও পুরস্কার তাঁকে মাপতে পারে না ঠিকই, কিন্তু এই পুরস্কারেরও একটা নিজস্ব  গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ১৯৬৫ সাল থেকে ভারতীয় সাহিত্যের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া শুরু। ১৯৬৬ তেই প্রথম বাঙালি, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুরস্কার পান। শঙ্খ ঘোষকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত ছ’জন বাঙালি জ্ঞনপীঠ পেলেন। তার ভিতর তিন জন কবি। বিষ্ণু দে (১৯৭১), সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯৯১) আর এবার শঙ্খ ঘোষ। তারাশঙ্কর বাদে বাকি দুই ঔপন্যাসিক হলেন আশাপূর্ণা দেবী(১৯৭৬) এবং মহাশ্বেতা দেবী (১৯৯৬)।