
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর পালন করা হচ্ছে দেশজুড়ে। আর ক’দিন বাদেই স্বাধীনতা দিবস। আর এর মধ্যেই ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী টিকেন্দ্রজিৎ মুখার্জি তাঁর শিলিগুড়ির বাড়িতে বই পড়ে দিন কাটাচ্ছেন।
১৯২৬ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাগেরহাট মহকুমার বাসাবাড়ি গ্রামে জন্ম টিকেন্দ্রজিৎবাবুর। তাঁর বয়স এখন ৯১ বছর। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে টিকেন্দ্রজিৎবাবু যখন অংশ নেন সেই সময় তিনি ম্যাট্রিক পাশ করে সবে কলেজে প্রবেশ করেছেন। বয়স ষোলো। কংগ্রেস করতেন তিনি। মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আন্দোলনে অংশ নিয়ে মিটিং মিছিলে যোগ দেন। আর তা চলতে চলতেই একবার তাঁদের একটি টিম ইংরেজ হঠাতে ব্যাপক আগুন জ্বালানোর কর্মসূচি নেয়। স্থির হয়, বিভিন্ন সরকারি অফিসে আগুন ধরানো হবে। টিকেন্দ্রজিৎবাবুর ওপর দায়িত্ব পড়েছিল বাগেরহাট জেল ও রেলস্টেশনে বোমা ফেলার। কর্মসূচি অনুযায়ী ’৪২-এর শেষের দিকে দুটি বোমা নিয়ে একটি বোমা তিনি ছুঁড়েছিলেন জেলখানায়। অপর বোমাটি তিনি রেলস্টেশনে ছুঁড়বেন বলে স্থির করেন। কিন্তু জেলখানায় বোমা ছুঁড়ে পালানোর সময় তাঁর পায়ের স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায়। সেই স্যান্ডেল কিনতে তিনি বাগেরহাট বাজারে গিয়েছিলেন। আর সেই সময়ই ধরা পড়ে যান। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট ছাড়া কালনা ও বহরমপুর জেলে বন্দি থাকেন টিকেন্দ্রজিৎবাবু। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি সারদাপল্লির বাড়িতে বসে টিকেন্দ্রজিৎবাবু এসব বিবরণ দিয়ে জানালেন, তাঁরা যখন বহরমপুর জেলে ছিলেন সেই সময় দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। বহু মানুষ না খেয়ে মরে যাচ্ছিলেন। অথচ বহরমপুর জেলে তাঁরা দেখেন, গুণ্ডামির অভিযোগে ধরে আনা বন্দিরা জেলের মধ্যে খাবার নষ্ট করছে। অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তখন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা জেলের খাবার নষ্ট না করার আবেদন জানালে কাজ হয়।
টিকেন্দ্রজিৎবাবু ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে সংবর্ধনা পান। তাছাড়া ১৫ আগস্ট ও ২৬ জানুয়ারি প্রতি বছর রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ২০১৫ সালে এক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটেন। তারপর থেকে ঘরবন্দি। আর কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না। টিকেন্দ্রজিৎবাবুর সময় এখন কাটে শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদার বই পড়ে। দেশের কথা জিজ্ঞেস করতে, তাঁর বক্তব্য – ‘আমরা প্রথমত অখণ্ড ভারত চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম দেশে জাতিবাদ বা সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। কিন্তু এখন উল্টো ছবি দেখে খারাপ লাগছে।’