January 3, 2022 | 12:00 PM

জাতীয় সম্মানে ভূষিত হল রাজ্যের ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প আগেই আন্তর্জাতিক খেতাব পেয়েছিল। এবার রাজ্য সরকারের আরও এক প্রকল্প পেল জাতীয় সম্মান। ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প এবার উৎকর্ষের পুরস্কার পেল সর্বভারতীয় স্তরে। এই প্রকল্পকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সেলেন্স ২০২১’–এর সম্মান দিল কম্পিউটার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (‌‌সিএসআই)।

ভারতে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি হয়েছে এই অলাভজনক সংস্থা সিএসআই। সফটওয়্যার ডেভেলপার, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মিলিয়ে সংস্থার সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। রাজ্যবাসীর দরজায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা দিল এই স্বীকৃতি। এই প্রকল্পকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে অ্যাপেক্স কমিটিও গঠন করা হয়। সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেই এই উদ্যোগ নেয় সরকার। এবার সেই উদ্যোগই স্বীকৃতি পেল। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে এই স্বীকৃতির কথা আজ জানানো হয়েছে।

We are elated to share that @MamataOfficial‘s visionary initiative #DuareSarkar has received “Award of Excellence” under the Project Category of 19th Computer Society of India (CSI) SIG e-Governance Awards 2021!

Good governance will always be a top priority for GoWB, we promise.

— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 3, 2022

We are elated to share that @MamataOfficial‘s visionary initiative #DuareSarkar has received “Award of Excellence” under the Project Category of 19th Computer Society of India (CSI) SIG e-Governance Awards 2021!

Good governance will always be a top priority for GoWB, we promise.

উল্লেখ্য, সরকারের পরিষেবা পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়, শেষ হবে হয়রানির দিন। এই ভাবনা থেকেই গত বছরের বিধানসভা ভোটের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো আম-জনতার কাছে সরাসরি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে ২০২১-এর ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে রাজ্যের ২৩টি জেলায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। শুরুর ১৫ দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সরকারের এই কর্মসূচি পৌঁছে যায় এক কোটির বেশি মানুষের কাছে। গ্রামীণ ও পুরসভা এলাকায় প্রশাসনিক শিবিরের আয়োজন করেন সরকারি আধিকারিকরা। খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, জাতিগত শংসাপত্র, তফসিলি বন্ধু, জয় জোহার, কৃষকবন্ধু, ১০০ দিনের কাজ – এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়া যায় ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির শিবির থেকে।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর অবধি প্রথম দফায় আবেদনপত্র জমা দেন ৬৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় দফা। যার প্রথম দিনেই সরকারি শিবিরে যান প্রায় ৮ লক্ষ রাজ্যবাসী। এই দফার প্রথম চার দিনের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল প্রশাসন। এছাড়াও মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের হাতে পেনশন হিসেবে ১০০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সাধারণ মানুষ বিনা খরচে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পাচ্ছেন। কার্ড দেওয়া হয় গৃহকর্ত্রীর নামে, যার আওতায় থাকেন পরিবারের বাকি সদস্যরা। পাওয়া যায় পরিবার পিছু  ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিত্সার সুযোগ। দুয়ারে সরকার শিবিরে এই প্রকল্পের জন্যই সবথেকে বেশি নাম নথিভুক্ত হচ্ছে।উত্তর কলকাতার বাসিন্দা অরুণ পাল (৬৪)-এর কথায়, “স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কোনো তুলনা নেই। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়। দুয়ারে সরকারের প্রথম দফাতেই আমি এবং আমার স্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য নাম লিখিয়েছিলাম।”

সরকার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রশাসনিক শিবিরে শুক্রবার পর্যন্ত সবথেকে বেশি নাম নথিভুক্ত হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় – ১০,৬৬,২৭০ জন। দ্বিতীয় স্থানে মুর্শিদাবাদ – ১০,১১,৭৭৩ জন। সবথেকে বেশি শিবির হয় উত্তর ২৪ পরগনায়, ৬৯৫-এর মধ্যে ৮১টি। ১৮ ডিসেম্বর তারিখে গোটা রাজ্যে নাম লেখান ৬৫৪,৭১৪ জন। সব মিলিয়ে এতদিনে যা পৌঁছে যায় ১,০০,৭২,৮০২-তে। এক সরকারি আধিকারিক জানান, “দিন যত এগোবে, তত বাড়বে শিবিরের সংখ্যা”

প্রসঙ্গত, ২০২২-এ ২ জানুয়ারি থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল সেই প্রকল্পের। করোনার কারণে যদিও তা পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে।