ভিক্টোরিয়ায় দর্শকদের অপেক্ষায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈলচিত্র

১৮৭৬ সালে আঁকা একটি পেল্লায় তৈলচিত্র। আকারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। আমেরিকা থেকে এনে ভিক্টোরিয়াকে উপহার দিয়েছিলেন জয়পুরের মহারাজ। দীর্ঘ দু’দশক পর সেই ছবিই আবার হাজির হতে চলেছে কলকাতাবাসীর সামনে। তার ঠিকানা নতুন সাজের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।
২৩ ফুট উঁচু আর ১৮ ফুট চওড়া একটা পেল্লায় তৈলচিত্র। ১৮৭৬ সালে ওয়েলসের রাজপুত্রের সঙ্গে হাতিতে সওয়ার হয়েছিলেন জয়পুরের মহারাজা রাম সিংহ। তাঁদের নিয়ে বেরিয়েছিল বিশাল শোভাযাত্রা। সেই রাজকীয় শোভাযাত্রাকেই ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক রুশ শিল্পী। নাম, ‘জয়পুর প্রসেশন’। আঁকার পর ছবিটি ছিল আমেরিকায়। তারপর, ১৯০৫ সালে জয়পুরের মহারাজ ছবিটিকে কিনে এনে উপহার দেন রানি ভিক্টোরিয়াকে। আকারের দিক থেকে দেখলে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈলচিত্র।
এই মহার্ঘ তৈলচিত্রটির এতদিন ঠিকানা ছিল কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। কিন্তু, গত দু’দশক ধরে এই দুষ্প্রাপ্য ছবিটি দেখতে পেতেন না সাধারণ দর্শকরা। কারণ, সংস্কারের জন্য বন্ধ ছিল ভিক্টোরিয়ার রয়্যাল গ্যালারি, পোট্রেট গ্যালারি সহ মোট তিনটি গ্যালারি। সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিনের মধ্যেই খুলে যেতে চলেছে তিনটি গ্যালারিই। অন্যান্য নানা ছবির সঙ্গে দর্শকদের চোখের সামনে হাজির হতে চলেছে ‘জয়পুর প্রসেশন’।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তৈলচিত্রটিকে দেখার জন্য কলকাতাবাসী তথা পর্যটকদের আগ্রহ যে আকাশচুম্বী হবে, বলাই বাহুল্য। সংস্কারের পর নতুন সাজে সেজে ওঠা ভিক্টোরিয়াও অপেক্ষা করছে দর্শকদের কাছে ধরা দেবে বলে। গ্যালারির ভিতরে গোটাটাই বাতানুকুল করে তোলা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে ছাদও।
আপাতত, রাজকীয় ‘জয়পুর প্রসেশন’-কে দেখার জন্য আর তর সইছে না চিত্রপ্রেমীদের।