No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    লাইফ সাইজের মূর্তি গড়েই বিশ্বখ্যাত সঞ্জয় সরকার

    লাইফ সাইজের মূর্তি গড়েই বিশ্বখ্যাত সঞ্জয় সরকার

    Story image

    কৃষ্ণনগরের মূর্তির খ্যাতি জগৎজোড়া। প্রথাগত কৃষ্ণনগরের শৈলী থেকে বেড়িয়ে এসে যে কয়েকজন শিল্পী নতুন আঙ্গিকে সৃজনের কাজে মেতে রয়েছেন, তাঁদেরই একজন সঞ্জয় সরকার। মাটি মূর্তি কৃষ্ণনগরের যে অঞ্চলে তৈরি হয়, সেই ঘূর্ণিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পরবর্তীকালে পাঞ্জাব, হরিয়ানা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও মূর্তির কাজ করেছেন তিনি।সেই সঞ্জয় সরকারের সাক্ষাৎকার রইল আজকের ‘বঙ্গদর্শন’-এ।

    শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে আপনার প্রেরণা কী ছিল?

    আমাদের বাড়িতে বাবার পরিবার এবং মায়ের পরিবার – কোনো দিকেই শিল্পকলার কোনো চর্চা ছিল না সেভাবে। আমিই প্রথম আমাদের পরিবার থেকে নান্দনিকতার লাইনে এসেছি। আমার প্রথম কাজ শেখা শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে। নিজের ভালো লাগা থেকেই কাজ শেখা শুরু করি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমার বাড়ির আশেপাশে, রাস্তায়, কৃষ্ণনগরের সবদিকে দেখতাম সৃজনশীলতার অনুশীলন চলছে। সেটা দেখেই কাজ শেখার ইচ্ছে হল আমার।

    আপনি শিল্পকলার প্রথাগত শিক্ষা নিয়েছিলেন কোনো জায়গা থেকে?

    কৃষ্ণনগরেই অভিজিৎ চ্যাটার্জির আকাডেমিতে বারো বছর আমি ফাইন আর্ট পেইন্টিং শিখেছিলাম। গুরুজি বর্তমানে আছেন দিল্লিতে। আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, তখন থেকে শিখেছি ছবি আঁকা। পেইন্টিং স্কুলে বাচ্চারা যেমন যায়, আমিও গিয়েছি সেরকম। তারপর মূর্তি গড়ার কাজ শিখেছি আমার ছোটোবেলার বন্ধু সুবীর পালের থেকে। আমরা সঙ্গেই থাকি, একসঙ্গেই কাজ করি। সুবীর আমার এই কাজের পথপ্রদর্শকও বলতে পারেন।

    আপনার কাজগুলো কখন থেকে মানুষের স্বীকৃতি পাওয়া শুরু করল?

    আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি, মোটামুটি তখন থেকেই এলাকার লোক আশপাশ থেকে আমার থেকে মূর্তি কিনতেন। আমিও বানিয়ে দিতাম তাঁদের পছন্দমতো মূর্তি। ২০০০ সালের আগে পর্যন্ত কৃষ্ণনগরের প্রথাগত স্টাইলেই মূর্তি বানানোর কাজ করতাম আমি। ওই বছরই প্রথম আমি পাঞ্জাবে অফার পাই ৩৫ একর জমিতে পাঞ্জাব হেরিটেজ ভিলেজের প্রোজেক্টে। দীর্ঘ আড়াই তিন বছর ধরে করেছি ওই কাজ। শিল্পী হিসেবে আমার এগিয়ে যাওয়ার পথ শুরু হয় ওখান থেকেই। তারপর হরিয়ানা স্টেট মিউজিয়ামের কাজ করলাম। এছাড়াও ভারতের বাইরে আট-দশটা দেশে কাজ করেছি আমি। তার মধ্যে সবথেকে বড়ো কাজটা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। তার সঙ্গে ইউএসএ, বেলজিয়াম, কানাডাতেও কাজ করেছি।

    মূলত আপনি কী ধরনের কাজ করে থাকেন?

    আমি লাইফ সাইজের মূর্তি তৈরি করে থাকি। একা নয়, সঙ্গে স্টাফ থাকে আমার। পাঞ্জাব হেরিটেজ ভিলেজে যেমন ওদের গ্রামীন সংস্কৃতি – রান্নাঘরে কেউ রুটি বেলছে, কয়েকজন মহিলা একসঙ্গে বসে ফুলকারি বুনছে, কোনো বুড়ি তাঁতের কাজ করছে – এইসব মূর্তি বানিয়ে দিয়েছি। হরিয়ানা ইউনিভার্সিটি মিউজিয়ামে পাঞ্জাবের ধাঁচটিকেই খানিকটা বদলে দিতে হয়েছে স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলার জন্য। ওখানকার গুড় তৈরি, ধান, গম, শুকনো লঙ্কা ঝাড়া, ঝুড়ি বানানো, শাড়িতে রং করা – এইসব রাখা হয়েছে সেখানে। একটা আস্ত সোনার জুয়েলারি দোকান রাখা হয়েছে।

    বিদেশিরা আপনার থেকে কী ধরনের কাজ চায়?

    বিদেশিরা মূলত কৃষ্ণনগরের ট্র্যাডিশনাল কাজ, বাংলার গ্রামীন সংস্কৃতির বিষয়ে মূর্তি চান আমাদের থেকে। লাইফ সাইজের মূর্তি, তিন ইঞ্চি, চার ইঞ্চির মিনিয়েচারও আমি বিদেশে পাঠিয়েছি। পরিবারের কারণে আমি নিজে কখনও বিদেশে যাইনি। এখান থেকে কাজ করে পাঠিয়েছি অন্য দেশে। আমেরিকার ডালাসে স্বামীনারায়ণের মন্দির আছে। সেখানে মূর্তি বানানোর উপাদান একই। শুধু বিষয়টা গেছে পালটে। বাংলার গ্রামীন সংস্কৃতির বদলে স্বামীজীর জীবনী আমরা ফুটিয়ে তুলেছি।

    আপনি কি শুধু মাটির কাজই করেন?

    এখন মাটি ছাড়াও ব্রোঞ্জ, সিমেন্ট, পাথরের কাজও করতে হয় আমাদের। আমি খুব দ্রুত কাজ করতে পারি যে কোনো বিষয়ের ওপর। তবে হিউম্যান ফিগার তৈরির ক্ষেত্রে আমার পছন্দের। জীবনে দুবার আমি আর্টের ক্লাসে পড়ানোর চাকরি পেয়েছিলাম, একবার হরিয়ানা আর্ট ইউনিভার্সিটিতে, একবার লুধিয়ানার একটা কলেজে। কিন্তু পরিবারকে ছেড়ে চাকরি করতে যাওয়া সম্ভব হয়নি আমার পক্ষে।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @