শীত আসার আগেই জমজমাট কলকাতার অধিকাংশ চায়ের ঠেক

নন্দন চত্বরে আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের পাশে বিখ্যাত হরিদা’র চা। কিংবা থিয়েটার রোডের পাশে অরুণদার টি স্টল। আবার ধরুন ভবানীপুরের বিখ্যাত বলবন্ত সিং-এর চায়ের দোকান। সর্বত্র জমে উঠেছে ‘চা’-কে ঘিরে বাঙালির আড্ডা থেকে যাবতীয় তর্জা। এমনটা নয় যে, শুধুমাত্র শীতকাল এলেই চায়ের দোকানগুলি প্রাণ পায়! কারণ সারাবছর বাঙালির প্রিয় চা। সে ঘর হোক বা বাহির। তবে শীতকালীন চা-এ থাকে উষ্ণতার ছোঁয়া। সেই উষ্ণতা স্বভাবতই ছড়িয়ে পড়ে আড্ডার মধ্যে, ঝগড়ার মধ্যে। ভাঁড়ে চা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। চায়ের দোকানগুলোর ব্যবসাও রমরমিয়ে ওঠে।
নন্দন চত্বরের হরিদা’র চায়ের দোকানের সামনে এমনিতে সারাবছরই প্রচুর লোকজন হয়। তবে শীতকালে শহরের প্রচুর উৎসব ওই চত্বরে হওয়ায় লোকসমাগমও বেড়ে যায়। আর ওই চত্বরে যে একবার যায়, হরিদার চা না খেলে ঠিক তৃপ্তি হয় না যেন। কিংবা ধরুন, শেক্সপিয়র সরণির অরুণদার টি স্টল। যেখানকার বিখ্যাত কেশর চা, আদা চা আর মশলা চা। এখানেও ভিড় থাকে সারাবছর। পাশেই সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ। তবে শীতে কলকাতার অন্যপ্রান্ত থেকেও বহু লোকজন আসেন। এমনটাই দাবি কর্মীদের। এখানকার কেশর চায়ের উপর জাফরান ছড়ানো থাকে। স্বাদে এবং গন্ধে কলকাতার অনেক চায়ের দোকানগুলিকে হার মানাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার বলবন্ত সিং-এর চা কলকাতা-সহ রাজ্যের অনেক মানুষই খেয়েছেন। শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের মতো তিলোত্তমায় আসেন দেশ-বিদেশের প্রচুর পর্যটক। তাঁরা রীতিমতো ভিড় বাড়ান এই দোকানে।
চা ঠেকে বাঙালির আড্ডা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই শীতকালীন আড্ডার কিছু বিশেষত্ব আছে বৈকি! সেই বিশেষত্বই হয়তো কলকাতার আরেকটি ঐতিহ্য। এই ঠেকগুলি যতদিন থাকবে, ততদিন বাঙালিও বাঁচবেন বাঙালিয়ানায়। নিজস্ব হাসি নিয়ে, গল্প নিয়ে, মাটির গন্ধ নিয়ে।