No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাঙালি ব্যবসা করেছে-করছে-করবে, বুঝিয়ে দিল ‘বাংলার নবজাগরণ ১৪৩০’

    বাঙালি ব্যবসা করেছে-করছে-করবে, বুঝিয়ে দিল ‘বাংলার নবজাগরণ ১৪৩০’

    Story image

    রা যাক, নববর্ষ উপলক্ষে আপনার শহরে একটি মেলা বসেছে। আপনি কলেজপড়ুয়া অথবা সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ টপকানো কোনও তরুণ বা তরুণী। একদিন নিছকই সেই মেলায় ঘুরে বেড়াতে গিয়ে একখানা চাকরি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

    অলীক গল্প নয়, ঠিক এমনটাই ঘটছে কলকাতা শহরে। এমন অনেককিছুই এ শহরে অহরহ ঘটে চলে, কিছু আমরা জানতে পারি, কিছু পারি না। আর কিছু কিছু বিষয় তো আমরা, বাঙালিরা ইচ্ছে করেই যেন করেই ভুলে থাকতে চাই। ‘বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারে না’ এই অপবাদ তৈরি হওয়ার সুযোগই আসতো না তাহলে। প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগে বাঙালি বংশপরম্পরায় বাণিজ্য করেছে। সুবর্ণবণিক, গন্ধবণিক, তাম্বুলবণিকদের একটা বড়ো অংশ বাংলার। ধনপতি সওদাগরের কাহিনি, চাঁদ সওদাগরের কাহিনি গড়ে উঠেছে এই মাটিতেই। পরবর্তী কালে দ্বারকানাথ ঠাকুর, মতিলাল শীল, নকুড় ধর, রামদুলাল দে সরকারের মতো লোকজনের মধ্যেও ব্যবসায়ী প্রবণতার ঘাটতি ছিল না। দুলাল চন্দ্র ভড়, মুখরোচক চানাচুরের চন্দ্র পরিবারের ব্যবসার বয়স ৭০ পেরিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র দত্ত প্রণীত ‘কুকমী’ মশলার ব্যবসা আবার ১৫০ বছর পেরিয়েছে। এঁদের কথা কি বাঙালি ভুলে গেছে? 

    মূলত ছ’টি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাঙালিকে ব্যবসা করানোর সাহস জুগিয়ে চলেছে বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল। যাতে বাঙালিরা ছোটো ব্যবসা থেকে শুরু করতে পারে, বা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে তারই চেষ্টায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই সংস্থা।

    শুধু বাঙালি নয়, বাংলা-বাঙালির ব্যবসার ইতিহাসকে আপামর বিশ্ববাসীর দরবারে তুলে ধরতে এবং ‘বাঙালির রক্তে ব্যবসা নেই’ এই ধারণা বদলাতেই এ বার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদ তথা Bengal Business Council. ভ্রান্ত ভাবনাকে দূরে সরিয়ে বাঙালির মগজে ব্যবসার পোকা ঢুকিয়ে দিতে ফের পদক্ষেপ করছে এই তারা। যে পুঁজির বরাভয়ে বার বার ব্যবসা করতে পিছপা হয় বাঙালি, সেই ভয়গুলিকেই গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতা মরিয়া পরিষদের সদস্যরা। পেশা হিসাবে বাঙালিও যে ব্যবসাকে বেছে নিতে পারে, তারই কাজে নেমে পড়েছে এই সংস্থা। এই ভাবনাতেই ২১ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ‘বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল’ দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল ‘বাংলার নবজাগরণ ১৪৩০’। সল্টলেকের করুণাময়ীতে বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এই অনুষ্ঠান। ২১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত চললো বাণিজ্য মেলা। 

     

    মেলার উদ্বোধনে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য, শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ, মহিলা, শিশু এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী শশী পাঁজা। মেলার তিন দিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গন। তিন দিন ব্যাপী এই মেলায় যাতে ব্যবসার সঙ্গে শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে, তার সব রকম ব্যবস্থা ছিল। ছিল ৭টি ভিন্ন ধরনের স্টল। ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেড ফেয়ার’, ‘জব ফেয়ার’, অটোমোবাইল এক্সপো’, ‘জি-আই স্টল’ ‘কেরিয়ার অ্যান্ড অ্যাডমিশন ফেয়ার’-সহ ছিল সহজলভ্য হস্তশিল্পের বিভিন্ন দ্রব্য, ছিল খাবারের মেলা।

    ‘বাঙালির শক্তি ও তাহার অপচয়’ প্রবন্ধে প্রফুল্লচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘ছোট্ট ঘর ভাড়া লইয়া পশ্চিমা অশিক্ষিত লোক বিদ্যুতের যোগে গমপেষা কল চালায়। কলিকাতার অলিতে গলিতে এই প্রকার কত আছে। ইহারা মাসে ৭০/৭৫ টাকা উপার্জন করে। চতুর ও তীক্ষ্নবুদ্ধিবিশিষ্ট বাঙালীর সন্তান এই ব্যবসায় করে না। মূলধনের অভাবে নাকি বাঙালির পক্ষে সম্ভব হয় না। অথচ এই প্রকার ব্যবসায়ে অতি সামান্য মূলধনের প্রয়োজন হয়।’ মূলত এই দিকটিতেই আলোকপাত করেছে বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদ। মূলত ছ’টি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাঙালিকে ব্যবসা করানোর সাহস জুগিয়ে চলেছে বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল। যাতে বাঙালিরা ছোটো ব্যবসা থেকে শুরু করতে পারে, বা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে তারই চেষ্টায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই সংস্থা। সাধারণের সুবিধার্থে কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত ব্যাবসাগুলিকে নিয়ে এগোনোর দিশা দেখাচ্ছে বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল। কাউন্সিলের দায়িত্বে রয়েছেন ৮ জনের একটি সংগঠন। যার মূল দায়িত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট চন্দ্র শেখর ঘোষ। চেয়ারম্যান অভিষেক আড্ডি, প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস দত্ত-সহ আরও দিকপাল ব্যবসায়ীরা। 

    সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালি তার অলসতার তকমা অচিরেই মুছে ফেলতে পেরেছে। তাহলে ব্যবসা সংক্রান্ত বিমুখতাকেই বা চিরকালের মতো ভ্যানিশ করা যাবে না কেন? এই ভাবনাকে মাথায় নিয়ে বাংলা নববর্ষে সল্টলেকের করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গনে মহোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন কথাই জানিয়েছেন জর্জ টেলিগ্রাফ গ্রুপের ডিরেক্টর সুব্রত দত্ত। ব্যবসা বাঙালির রক্তের মধ্যেই রয়েছে, এটাকে আরও একবার বিশ্বের কাছে তুলে ধরার পালা।

    ______________________

    ছবিঃ নিজস্ব

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @