জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের ছবি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাচ্ছে ২৭ সেপ্টেম্বর

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ আশ্রিত প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নতুন ছবি ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। ২০ তারিখের বদলে ২৭ তারিখ। ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ সারা পশ্চিমবঙ্গে মাত্র পাঁচটি সিনেমাহল পেয়েছিল। ত্রিপুরায় একটি। সব মিলিয়ে মাত্র ছ’টি হল। কলকাতায় একটিও হল পায়নি এই ছবি। হতাশ হয়েছিলেন ছবির কলাকুশলীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন কলকাতার নাগরিকদের একাংশ। পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য আগেও বারবার বলেছেন, এই ছবির উপস্থাপনা এবং নির্মাণ পদ্ধতি অনেকটাই নাগরিক, যেভাবে লার্জ স্কেলে শ্রীকান্তর জার্নি দেখানো হয়েছে, মানুষ হলে গিয়ে না দেখলে বুঝতেই পারবেন না।
অবশেষে প্রায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। গতকাল প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “গতরাত্রে আমাকে একটি মাল্টিপ্লেক্স চেনের প্রোগ্রামিং হেড ফোন করেন এবং বলেন আমরা যদি আগামী ২৭ তারিখ রিলিজ করি তাহলে কলকাতার বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে (অবনী মল, যশোর রোড, সাউথ সিটি, হাইল্যান্ড পার্ক, সিটি সেন্টার ওয়ান, টু, লেক মল, মধ্যমগ্রাম স্টার মল) প্রাইম টাইমে শো পাবো... সকালে ভদ্রলোকের সাথে দেখা করি... উনি সামনাসামনিও একই কথা বলেন... একটি সমস্যার কথাও বলেন যে, প্রথম চার দিনের মধ্যে যদি প্রতিটা শোতে ৫০%-এর বেশি ভিড় না হয় তাহলে পাঁচ দিনের মধ্যেই, পুজোর সপ্তাহে ছবি উঠে যাবে। কারণ ঐ সময় একটি বিরাট হিন্দি ছবি আসছে এবং আরও বিভিন্ন বাংলা ছবি রিলিজ আগে থেকেই ঠিক করা আছে... আজকে এতক্ষণ অবধি আমরা টিম মিটিং করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, আমরা ২৭ (সেপ্টেম্বর ) তারিখেই ছবি রিলিজ করবো।” ইতিমধ্যেই বুক মাই শো-তে বেহালার অজন্তা সিনেমার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।
মুক্তির প্রথম চারদিন এই ছবি যদি ঠিকঠাক ব্যবসা দিতে পারে, তবেই আগামীদিনে আরও হলে আসতে পারে। নচেৎ নয়। পুরোটাই নির্ভর করছে দর্শকদের উপর। ছবির প্রত্যেকটি গান মানুষের ভালো লেগেছে। গানগুলি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে শহর-গ্রাম-মফস্সলের অধিকাংশ মানুষ তুমুল প্রশংসা করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। অধিকাংশ দর্শকের মন ছুঁয়েছে ছবির ট্রেলারও। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, জ্যোতিকা জ্যোতি, অপরাজিতা ঘোষ দাস, সায়ন, রাহুল প্রমুখ। এই ছবির পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য ২০১২ সালে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ছবির জন্য সেরা বাংলা চলচ্চিত্র হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি।