No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাহারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেবেন না – নভেম্বর জুড়ে ‘টেকো’দের বার্তা 

    বাহারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেবেন না – নভেম্বর জুড়ে ‘টেকো’দের বার্তা 

    Story image

    টাক নিয়ে চারদিকে এত হইহই চইচই শোনা যায়নি এতদিন। বরং টাক পড়লে কীভাবে তার যত্ন নেওয়া যাবে সে সম্বন্ধে দু-চারটে বিজ্ঞাপন দেখা গেছে বটে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চুলের যত্ন নিয়ে থাকেন। বিশেষত যারা রূপোলি পর্দার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, তাঁদের চুলের প্রতি যত্নটা একটু বেশিই। নিজের চুল নিয়ে ভাবেন না, এমন কেউই প্রায় নেই। চুল নিয়ে বা চুল ঝরে যাওয়া নিয়ে শুরুর চমকটা দিয়েছিল শ্বেতা ত্রিপাঠি অভিনীত ‘গন কেশ’। এবার চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়া অতঃপর কী হয়, কী হয় নিয়েই আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র আসতে চলেছে। বাংলা ও হিন্দি দুই ভাষাতেই আসছে হরেক ছবি। প্রত্যেকটি ছবির গল্পে রয়েছে টাক। এই টাকের আকার কেমন, কী বৃত্তান্ত তা তো সিনেমাগুলি দেখলেই বোঝা যাবে। তবে মোদ্দা কথা হল, নভেম্বর যে বিশ্ব টাকের মাস, একথা এবার থেকে বলাই যায়। হ্যাঁ, ঘটনা বা দুর্ঘটনাক্রমে টাক নিয়ে সমস্ত ছবিই আসছে নভেম্বর মাসে।

    কয়েকদিন আগেই বলিউডে মুক্তি পেয়েছে এই টাকের সমস্যার গল্পনির্ভর দুটি ছবির ট্রেলার। একদিকে আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত ‘বালা’ এবং অন্যদিকে সানি সিং অভিনীত ‘উজড়া চমন। এমনকি দুটি সিনেমার মিল খুঁজে পাওয়া গেছে পোস্টারেও। তারপর হঠাৎ করেই একদিন উড়ো চুলের মতো হাজির হল একটি বাংলা ছবির ট্রেলার। ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত ‘টেকো’। তিনটি ছবির বিষয় এক – সেই টাকের সমস্যা। ভারতীয় ছবিতে এখন যে যে বিষয়গুলি উঠে আসছে, তা জনসাধারণের চিরকালীন সমস্যা। খুব কাছ থেকে যারা নিজের বা অন্যের জীবন দেখেন, তাঁরা এই ধরনের কাজগুলি আপন করে নেন অনায়াসে।

    মনে হতে পারে কে কারটা টুকল? এত বিতর্কে যাননি ‘টেকো’ ছবির পরিচালক অভিমন্যু মুখার্জী। সাংবাদিক বৈঠকে পরিচালক বলেছেন, হিন্দিতে এই বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি হলেও তাঁর ভাবনাটা অনেক আগের। প্রায় দু’বছর আগে শেষ হয়ে গিয়েছিল এই ছবির কাজ, কিন্তু নানা কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি। অভিমন্যু তাঁর চারপাশের বিভিন্ন বন্ধুদের জীবন থেকেই এই গল্পটি পেয়েছেন। 

    এই ছবিটিতে রয়েছে একটা সাবধানবাণী। সেখানে বলা হচ্ছে, লোভে পড়ে করে ফেলো না ভুল/ ঝরে গেলে ফিরে পাবে না চুল। তো এই চুল নিয়ে চুলোচুলি হোক বা নাই হোক, এ সবই ট্রেন্ডিং-এর ফসল। বাঙালির মধ্যবিত্ততায় জুড়ে বসেছে নিজেকে সুন্দর রাখার চেষ্টা। সেই চেষ্টার মধ্যে যে অসততা আছে এমন নয়। এখন এই ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’র যুগে এমন ধরনের গল্প নিয়ে কাজের দরকার আছে বৈকি! বাহারি বিজ্ঞাপনের ঝলকের ফাঁদে পা দিচ্ছেন মানুষ। তার ফল ভুগতে হচ্ছে তাঁকেই। অবৈজ্ঞানিক প্রোডাক্টের দড়ির ফাঁদে মুণ্ডু না গলিয়ে এবার সত্যিই হয়তো ভাবার সময় হয়েছে, কাকে আমরা গ্রহণ করব আর কাকে করব না। সেই বার্তাই দেবে ‘টেকো’, ‘বালা’ কিংবা ‘উজরা চমন’-এর মতো ছবি।

    বক্সঅফিস কী বলবে সেসব পরের কথা। কন্টেন্টে নতুনত্ব আসুক, দর্শক এটাই চান। সেই কন্টেন্টের জোয়ার আসুক শিল্প মাধ্যমেও। কারণ আমাদের ভেবে দেখা উচিত, চলচ্চিত্র বা থিয়েটারকে শুধুমাত্র ‘বিনোদন’ বলে দিলে সেখানেই চলে আসে তার সীমাবদ্ধতা। তাই শুধুমাত্র বিনোদন না হয়ে তা শিল্পের সামগ্রী হয়ে উঠুক। তাহলে শিল্প বাঁচবে, শিল্পের কথা বাঁচবে।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @