আশ্বিনের শারদ প্রাতে, বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর...

মহালয়ার পুণ্য লগ্নে চণ্ডীপাঠ করছেন প্রবাদপ্রতীম শ্রী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। বঙ্গজীবনে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। এইভাবে বাঙালির মনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম। তাঁর উদাত্ত কণ্ঠে চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন না শুনলে আমাদের পুজো শুরু হয় না এখনও। মহালয়া মানেই রেডিও আর রেডিও মানেই ভোরে উঠে সেই উদাত্ত গলার কাছে পৌঁছে যাওয়া। শুধুমাত্র বাংলা নয়, সুদূর আমেরিকা বা কানাডা- সারা বিশ্বে যত বাঙালি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, প্রত্যেকে মহালয়ার দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলা শুনেই পুজো শুরু করেন।
১৯৭৬ সাল। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটল ওই একবার। ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র বদলে সম্প্রচারিত হবে ‘দুর্গা দুর্গতিনাশিনী’। আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ ঠিক করলেন এতদিন ধরে চলে আসা এই অনুষ্ঠানের স্বাদ বদল করা হবে। কিন্তু মহালয়ার চণ্ডীপাঠ করবেন কে? আর কেউ নন, বাংলার মহানায়ক উত্তমকুমার। বাঙালি শ্রোতারা মনে করলেন এই অপমান তাদেরও। আকাশবাণীর অফিসের সামনে মানুষের ঢল নামল। আর সেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল মহানায়ককেও। এবার সেই কালজয়ী ইতিহাস প্রথমবার আসতে চলেছে রূপোলী পর্দায়। ছবির নাম ‘মহালয়া’। পরিচালনায় সৌমিক সেন। এই ছবির প্রথম পোস্টারটি তৈরি হয়েছে বাংলা সংবাদপত্রের আদলে। যেখানে হেডলাইনে লেখা আছে, “বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বদলে উত্তম, উত্তাল বাংলা”। ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর ভূমিকায় অভিনয় করছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমারের ভূমিকায় দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে। বাংলা ছবি শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতাকে তেমন গুরুত্বের চোখে দেখল না কোনোদিনই। সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘হারবার্ট’-এ অসামান্য অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিল বাংলার দর্শক। আবার বহু বছর পর কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে ‘মহালয়া’ ছবিতে।
বাঙালির মন এবং মজ্জায় রক্তের মতো মিশে আছে এই একটা নাম- উত্তমকুমার। কিন্তু ১৯৭৬-এর ওই একটা দিন মানুষ তাঁকে গ্রহণ করতে পারলেন না। কারণ দিনটা শুধুমাত্র বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রেরই। শ্রোতাদের বিক্ষোভের জেরে ১৯৭৬ সালের সেই মহালয়ায় বেলার দিকে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন পুনর্বার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অনুষ্ঠানই সম্প্রচার করতে। ‘মহালয়া’ ছবিতে এক সরকারি আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয় করছেন স্বয়ং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মানুষের প্রতিবাদে ১৯৩২ থেকে প্রচলিত রীতি কীভাবে ফিরে এসেছিল, তারই দৃশ্যায়ন ঘটাবে ‘মহালয়া’। এই ছবির প্রযোজকও প্রসেনজিৎ নিজে। আগামী ১ মার্চ ছবির শুভমুক্তি।