কেমন হবে যদি মানুষের শরণাপন্ন হন স্বয়ং ঈশ্বর!

মানুষ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, নিজের আর্তি জানান। কিন্তু কেমন হবে যদি ঈশ্বর মানুষের শরণাপন্ন হন! মানুষের কাছে ঈশ্বর ছুটে আসবেন নিজের মঙ্গল কামনায়। ঈশ্বর মানুষের শরণে আসবে। কীভাবে? এই গল্পটাই এবার বলতে চাইছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর আগামী ছবির নাম একারণেই ‘লক্ষ্মী ছেলে’। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবির পোস্টার। সেখানে লেখা আছে সত্য ঘটনা অনুপ্রাণিত। কী সেই ঘটনা, তা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু এটুকু বোঝা যাচ্ছে, কৌশিক আবার আসতে চলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কাহিনি নিয়ে। কারণ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বারবার বলেন, “আমার তো গল্প বলাই কাজ”।
লক্ষ্মী ছেলে’র লক্ষ্মী ছেলেটি উজান গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালকের সুযোগ্য পুত্র। এর আগে যাকে পাভেল পরিচালিত ‘রসগোল্লা’ ছবিতে নবীন ময়রার ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। এটি তাঁর দ্বিতীয় ছবি। ছবির পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, উজানের কোলে এক শিশুকন্যা। যার চারটে হাত। ঠিক যেন লক্ষ্মী ঠাকুর। মানুষের কোলে শুয়ে আছেন ঈশ্বর। এই মেয়েকে ঘিরেই এগোবে মূল গল্প। নিজের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন এবং এলোমেলো যাপনে অভ্যস্ত একটি একা মানুষের কাহিনি।
এই প্রথমবার বাবার পরিচালনায় কাজ করবেন উজান। অন্যদিকে আবার শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের প্রযোজনা সংস্থা উইনডোজ-এর ব্যানারে প্রথমবার কাজ করবেন কৌশিক। এর আগে বহুবার অসংখ্য ভালো ছবি উপহার দিয়ে দর্শক-সমালোচকদের মুগ্ধ করেছেন কৌশিক। ২০০৪ সালে বানিয়েছিলেন ‘ওয়ারিশ’। যারা বাংলা ছবি দেখতে অভ্যস্ত, তাঁরা জানেন, ওয়ারিশ শিল্পগুণে কতটা শক্তিশালী। সেসময় কৌশিককে গ্রহণ করেননি অনেক মানুষই। যে মানুষটা পরবর্তীকালে ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’, ‘ল্যাপটপ’, ‘শব্দ’-এর ছবি বানাবেন, প্রথমবারের জন্য পেয়ে যাবেন জাতীয় পুরস্কারের সম্মান, তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। ‘অপুর পাঁচালি’, ‘ছোটদের ছবি’, ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘বিসর্জন’, ‘নগরকীর্তন’-এর ছবি বানিয়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পেয়েছেন বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি।
২০২০-র জানুয়ারি মাসে মুক্তি পেতে পারে ‘লক্ষ্মী ছেলে’।