No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে সাফল্যের নতুন পালক জুড়লো পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তর

    ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে সাফল্যের নতুন পালক জুড়লো পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তর

    Story image

    কাশ জুড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে বিশাল চেহারার অগুন্তি শকুন! আচমকা দেখলে রক্ত হিম হয়ে যেতে বাধ্য। সম্প্রতি এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। ঠিক যেন ডিসকভারি চ্যানেলের কোনো অসামান্য তথ্যচিত্র, যা প্রত্যক্ষ করলো বক্সা টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন সমগ্র জঙ্গল।

    পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা টাইগার রিজার্ভ-এর ২২ মাইল বিস্তৃত একটি টাওয়ারের উপর তৈরি করা হয়েছিল একটি পক্ষিপালনশালা (aviary)। বনদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মী জড়ো হন এই পক্ষিশালাটি থেকে খানিক তফাতে। পক্ষিশালাটি থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে একটি আপাত ঘেরা জায়গায় গা ঢাকা দেন তাঁরা। এবং সেখানে দাঁড়িয়েই একটা লম্বা হাতলে টান দেওয়া মাত্র অদূরে পক্ষীশালার লোহার গেট’টি ধীরে ধীরে উঠতে থাকে উপরে। আর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক, খান কুড়ি বিশালাকায় শকুন!

    ভারতের পশু সংরক্ষণের ইতিহাসে সাফল্যের নতুন পালক জুড়লো পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের এই প্রয়াস। পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের উদ্যোগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প সংলগ্ন ঘন জঙ্গলে মুক্ত করা হল ২০টি জিপস্‌ শকুনকে। জিপস্‌ শকুনদের মাথা অপেক্ষাকৃত সরু হয়, গ্রীবা হয় সুদীর্ঘ এবং গলার চারপাশে থাকে পালকের তৈরি ‘মাফলার’-সদৃশ ঘের। ১৮০৯ সালে ফ্রেঞ্জ জুলজিস্ট মেরী জুলেস সিজার স্যাভিগ্নি সর্বপ্রথম ‘জিপস্‌’ প্রজাতির কথা তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছিলেন।

    প্রত্যেকটি শকুনের শরীরে বসানো হয়েছে প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সমিটার টার্মিনাল (PTT) নামের এক বিশেষ ধরনের স্যাটেলাইট ট্যাগ, যার সাহায্যে পাখিগুলির গতিবিধির উপর সহজেই নজর রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

    মুক্তিপ্রাপ্ত ২০ টি শকুনের মধ্যে রয়েছে ১৩টি ‘ওরিয়েন্টাল হোয়াইট ব্যাকড ভালচার’ (Oriental White-backed Vulture) এবং ৭টি উদ্ধারকৃত ‘হিমালয়ান গ্রিফন’ (Himalayan Griffon), এরা প্রত্যেকেই বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত। ‘রিইনট্রোডাকশন প্রোগ্রাম ফর দ্য ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড ওরিয়েন্টাল হোয়াইট ব্যাকড ভালচার’ (Reintroduction Programme for the Critically Endangered Oriental White-backed Vulture)-এর তৃতীয় পর্যায়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজাভাতখাওয়া-র ভি সি বি সি (VCBC) রিলিজ অ্যাভিয়ারি থেকে মুক্ত করা হয় শকুনগুলিকে।

    প্রত্যেকটি শকুনের শরীরে বসানো হয়েছে প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সমিটার টার্মিনাল (PTT) নামের এক বিশেষ ধরনের স্যাটেলাইট ট্যাগ, যার সাহায্যে পাখিগুলির গতিবিধির উপর সহজেই নজর রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ। ওরিয়েন্টাল হোয়াইট ব্যাকড ভালচার-রা পশ্চিমবঙ্গের আদি বাসিন্দা; ফলে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে থেকে যাওয়ার প্রবণতাই তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি। তবে আসাম, মেঘালয় কিংবা বাইরের দেশগুলি যেমন বাংলাদেশ, নেপাল অথবা ভুটানেও উড়তে উড়তে চলে যেতে পারে। অন্যদিকে হিমালয়ান গ্রিফনেরা চলে যেতে পারে মধ্য এশিয়া, চিন কিংবা হিমালয়ের উঁচু কোনো শৃঙ্গে।

    ২০২১ সালে প্রথমবার বন্দি অবস্থায় বেড়ে ওঠা ১০টি শকুনকে মুক্ত করা হয়েছিল এই অ্যাভিয়ারি’টি থেকে। তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হলেও, দেখা গেছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জন্য জল ও খাবার সংগ্রহ করে নিতে পাখিগুলি সক্ষম হয়েছে। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ ছাড়াও, এই পাখিগুলি উড়ে গিয়েছিল গুয়াহাটি, ধুবরি, বারপেতা ও মেঘালয়ের গারো পর্বতে।

    শুধুমাত্র তাই নয়, ২০২১ ও ২০২২ সালে ঘটা গত দুইবারের মুক্তি অভিযানের ফলে, সামনে উঠে এসেছিল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শকুনদের অনুসরণ করে খোঁজ পাওয়া গেছিল কয়েকটি ভাগাড়ের, যেখানে নিয়মিত মৃত প্রাণীদেহ ফেলা হত। এর আগে অবধি এই ভাগাড়গুলি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের চোখের আড়ালে রয়ে গেছিল। আশা করা যায়, পশু চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ড্রাগ সম্পর্কে অবহিত হতেও সাহায্য করবে এই অভিযান।

    _______

    তথ্য ও ছবিঃ পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তর

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @