রূপান্তরকামীদের সিঁদুরখেলা— বর্ধমান শহরে এই প্রথমবার নজরকাড়া উদ্যোগ

দীর্ঘদিনের বেড়া ভেঙে বর্ধমান শহরে একাদশীর দিন সিঁদুর খেলায় মাতলেন রূপান্তরকামীরা। সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সিঁদুরখেলার চল কলকাতা শহরে থাকলেও, বর্ধমানের মতো শহরের কাছে তা একেবারে নতুন। ঠিক নতুন আলো ঝলকে পড়ার মতো। লাল পেরে সাদা শাড়ি, হাতে-পায়ে গয়না পরে একেবারে বধূ বেসে একে অপরের গালে ভালোবেসে সিঁদুর ছোঁয়ালেন ওই শহরেরই একগুচ্ছ রূপান্তরকামী মানুষ।
বর্ধমানের কাঁটাপুকুর সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে সিঁদুর খেললেন তাঁরা। আর এই সমগ্র অনুষ্ঠানটি আয়োজনের দায়িত্বে ছিল বর্ধমান ফুডিজ ক্লাব। বর্ধমান প্রাচীন রাজ শহর। বহু বহু ইতিহাস উঁকি মারে শহরের দেওয়ালে। শিল্প এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধন বারবার প্রমাণ করেছে সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সে এগিয়ে চলেছে নতুন আলোর দিকে। মানুষের উপর ভরসা রাখা ছাড়া আর উপায় কী! ২০১৯ সালের দুর্গাপুজো অনেক কিছু প্রমাণ করে দিয়েছে। আরও একবার উঠে এসেছে সাম্প্রদায়িকতার ছবি, সহিষ্ণুতার ছবি। বাংলার নানা প্রান্ত জুড়ে পুজোর মাধ্যমে উঠে এসেছে হিন্দু বলো আর মুসলিম বলো— আসলে মনুষ্যত্বটাই আসল ধর্ম। আবার কোনোদিকে ভেসে উঠেছে সমপ্রেম, যাদের বারবার ‘প্রান্তিক’ বলে আঘাত দেওয়া হয়। সোনাগাছি-সহ একাধিক নিষিদ্ধপল্লীর দুর্গাপুজোয় মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। এই ছবিগুলো সম্প্রীতির। এমনটাই হয়তো চেয়েছিলাম আমরা। বর্ধমান শহরের এই তৃতীয়লিঙ্গ মানুষদের সিঁদুর খেলা আরও একবার আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বন্ধনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন
বর্ধমানের দুলাল এখন চার দশকের সম্রাট
সাধারণত যে শহর বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের, সেখানে চিরাচরিত ধ্যানধারণা ভাঙার প্রথা খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলা তা করে দেখাল৷ করে দেখাল কাঁটাপুকুর সর্বজনীন।
বর্ধমান ফুডিজ ক্লাব নামের স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি সাধারণত উদ্বৃত্ত খাবার পৌঁছে দেয় শহরের নানা প্রান্তের ক্ষুধার্ত মানুষকে। তার বাইরেও, নানা সামাজিক কাজে এই সংগঠনের উদ্যোগ নজর কাড়ে বারবার। কিছু দিন আগেই তারা অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েদের নিয়ে একটি অন্যরকম অনুষ্ঠান করেছিলেন এই মফস্সল শহরে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ মনীষা পৈলান-সহ বহু অ্যাসিড আক্রান্তরা। তাদের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছে জেলা-সহ সমগ্র বাংলা।
ছবি- সংগৃহীত