গরমে স্বস্তি দিতে হাজির টক ডাল

গরমে স্বস্তি দেয় হালকা খাবার। এ সময় দেশি মাছের ঝোলের রান্না এনে দেয় ভিন্ন স্বাদ ও আরাম। তাছাড়া যে হারে গরম বাড়ছে তাতে হাল্কা আর সহজপাচ্য খাবারও উপযুক্ত। এতে শরীর খারাপ হবার সম্ভাবনাও কমে অনেক। এইসময় প্রায় সকল বাঙালির ঘরে ঘরেই দেখা মেলে একধরণের ডালের। এটি চাটনি ও ডালের মিশ্রণ বললে ক্ষতি নেই। দক্ষিণ ভারতে রাজ্যগুলিতে প্রায় সব খাবারে টকের ব্যবহার বছরের সব সময় দেখা যায়। কারণ টক অত্যাধিক গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। বাঙালি রান্নাঘরে এর প্রাধান্য গরমকালেই বেশি। এর নাম টক ডাল। এই ডাল একেক জায়গায় একেক ভাবে তৈরি হয়। কোনো ডালে টকের আধিক্য বেশি থাকে। কেউ আবার টক-মিষ্টি ডাল খেতে ভালোবাসেন। টক হিসাবে ব্যবহৃত হয় আম, তেঁতুল, জলপাই, চালতা, আমড়াও। তবে টকের ডাল ছাড়াও বাঙালিরা নানাধরনের মাছের টক খেতেও ভালোবাসেন। পুরুলিয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার লোকজনের মধ্যে মাছের টক খাওয়ার চল বেশি। এক্ষেত্রে রন্ধনপ্রণালীতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন সাধারণত টকের ডাল রান্না করার জন্য ফোড়ন দেওয়া হয় গোটা কালোসরষে, কাঁচা অথবা শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, মেথি অথবা কালজিরা ফোড়ন। আমিষ টকে হলুদ ও লঙ্কার গুড়োও মেশানো যায়। আবার কেউ কেউ সরষেবাটা অথবা তিলবাটা দিয়েও টক তৈরি করে থাকেন। সাধারণত তরল টকে গোটা সরষে ফোড়ন এবং ঘন টকে গুঁড়ো সরষে ফোড়নের নিয়ম। এই গরমে রইল লীলা মজুমদারের টক ডালের রেসিপি।
আরও পড়ুন
‘মালয়কারি’ থেকে এসেছে মালাইকারি
উপকরণ-
কাঁচা মুগডাল, ভাজা মুগ, মুসুর বা কলাই ডাল - ২৫০ গ্রাম। ভালো পাকা তেঁতুলের কাই কিংবা কাঁচা আমপাতলা করে কাটা। কুল, আখের গুড় আন্দাজমত, মিষ্টি স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা, নুন, সরষে, ধনেপাতা, পাঁচফোড়ন গুড়ো, সরষের তেল।
প্রণালী -
টকের জিনিসটি আগে ঠিক করে রাখতে হবে। তেঁতুলের কাই, কাঁচা আম, কুল নুন দিয়ে মেখে রাখতে হবে। এবার ডাল সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ হয়ে এলে ভালো করে ঘেঁটে দিতে হবে। এবার আবার ডালকে গ্যাসে বসাতে হবে। ডালে ফুটলে তাতে টক সামগ্রীগুলি দিয়ে দিতে হবে। সেইগুলি নরম হয়ে এলে আদাবাটা, নুন দিয়ে দিতে হবে। ধনেপাতাও দিতে পারেন। সবটা রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে সরষে ফোড়ন দিয়ে ওপর থেকে ভাজা পাঁচ-ফোড়নের গুড়ো ছড়িয়ে ঢেকে দিতে হবে। টক ডাল কিন্তু পরিবেশ করতে হবে ঠান্ডা হয়ে গেলে। যারা মিষ্টি টক ডাল খেতে ভালোবাসে তাই স্বাদ অনুযায়ী মিষ্টি দিতে হবে শেষে। টক ডালের সঙ্গে খেতে পারেন শুকনো লঙ্কা দিয়ে মাখা লাল লাল আলুসেদ্ধ অথবা ডালের বড়া।