ঠাকুর পরিবারের তিন সদস্যের শিল্পচর্চা

এমন প্রদর্শনী আগে কখনও দেখেনি শহর কলকাতা। ঠাকুর পরিবারের তিন সদস্যের শিল্পচর্চার বিচিত্র নিদর্শন উঠে আসতে চলেছে হিন্দুস্তান পার্কের আকার প্রকার গ্যালারিতে। কিউরেটর দেবদত্ত গুপ্তের তত্ত্বাবধানে ১১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘টেগোর ট্রায়াড, মর্ডানিজম অ্যান্ড ভিস্যুয়াল কালচার’। চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ এবং গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবিই কেবল নয় স্বতন্ত্র এই প্রদর্শনীটিতে থাকছে অবনীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত পুঁথি চিত্র ‘অগ্নি উপাসক’-এর পাঁচটি পাতার আর্কাইভাল প্রিন্ট, ১৯৩২-এ আর্ট কলেজের প্রদর্শনীতে থাকা রবীন্দ্রনাথ কৃত কয়েকটি মূল চিত্র ও ছাপাই ছবি, ঠাকুরবাড়ি সূত্রে প্রাপ্ত মূল্যবান সব দুর্লভ আলোকচিত্র, গগনেন্দ্রনাথের কার্টুন চিত্রমালার তিনটি মূল গ্রন্থ বিরূপ বজ্র, নব হুল্লোড়, অদ্ভুত লোক ছাড়াও আরও নানা ছবি।

ছবি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে নানাবিধ চর্চা চলছে নানা দৃষ্টিভঙ্গিতে। চলছে শিল্পকলার অন্যান্য শাখাগুলি নিয়েও। সেই চর্চার আরেকটি দিক হল ছবিকে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা। কিন্তু সেই উপস্থাপনা হিসেব মতো বড়ই জটিল একটি প্রক্রিয়া। দীর্ঘ দিন ধরে শিল্পীরাই এই উপস্থাপনার কাজটি করে এসেছেন। কিন্তু ‘কিউরেটেড শো’ বিষয়টি চরিত্রগত ভাবে একটু ভিন্ন। কারণ এখানে একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে শিল্প সৃজনকে হাজির করতে হয়। কিউরেটর দেবদত্ত গুপ্ত বলছেন, ‘কিউরেটেড শো এর চরিত্রটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে হয় আমার। আমার চোখে পড়ছে কিরেটেড শো মানেই একটা শিরোনাম ঠিক করে সেই শিরোনামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কিছু ছবি চয়ন করে তোলা। এই ধারার একটি ভালো দিক যেমন আছে ঠিক তেমনই এর মধ্যে শিল্পীর সৃজনকেও একটা বন্ধনীর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। আমি এটার ঘোর বিরোধী। কারণ আমি মনে করি চারটে ছবি ঝুলিয়ে দিয়ে শুধু মাত্র কিউরেটর হিসেবে নিজের দায়িত্ব শেষ করা যায় না। এই ভাবনাটা আমাকে দীর্ঘ দিন ধরে তাড়িত করেছে। সেই থেকে আমি আমার নিজস্ব ভাবনার কিছু প্রয়োগের কথা ভাবতে শুরু করি। তখন একটা কথা বলতেই হয় যে আকার প্রকার আর্ট গ্যালারিই প্রথম আমাকে ডেকে কিছু কাজ করতে চাই কিনা জিজ্ঞাসা করে। আমি তখন সরাসরি জানাই নন্দলাল বসুর অজানা অদেখা কাজ নিয়ে প্রদর্শনী করবো। সেই সুত্রেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো। লিখিত সুত্র ধরে ধরে শিল্পীর পরিচিত জনেদের খোঁজ করা, তারপর তাঁদের অনুরোধ করা এমন প্রক্রিয়াতেই কাজ শুরু করি। তখনই কিন্তু বেড়িয়ে এলো জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর টাকডুমাডুমের জন্যে করা নন্দলাল বসুর ওরিজিনাল ইলাস্ট্রেশন গুলি। এভাবেই আমি আমার ‘দ্য টেগোর ট্রায়াড’ শো পরিকল্পনা করছি। নানা কারণে এটা খুবই একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। প্রচুর ছবি পেয়েছি এমনটা নয় কিন্তু যা পেয়েছি তার একটা অন্যরকম গুরুত্ব অবশ্যই আছে। আমাকে বারে বারে প্রতি মুহুর্তে ছবি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কলাভবনের আর শিব কুমার, সেখানকার মিউজিয়ামের সুশোভন অধিকারী, কলকাতায় প্রণব রঞ্জন রায়’।
এই সব ছবি আগে কোথাও না ছাপা হয়েছে না প্রকাশিত হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অনেক না দেখা শিল্প সম্ভার।