No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    চায়ের ঠেকের আড্ডাগুলো এই শীতে কেমন আছে! চলুন ঘুরে আসি... 

    চায়ের ঠেকের আড্ডাগুলো এই শীতে কেমন আছে! চলুন ঘুরে আসি... 

    Story image

    পাড়ার বিভিন্ন ঠেকে আড্ডার রিলে কখনও ফিকে হবার নয়। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে শীতের আজান। আজানের উদাত্ত সুরের সঙ্গে অমলিন মিশে যাচ্ছে ঘণ্টাধ্বনি। এরই সঙ্গে সঙ্গে বর্ণময় হয়ে উঠেছে শীতকালীন ঠেক। দশ-পনেরো জনের দল। প্রত্যেকের হাতে মাটির ভাঁড় বা চিনেমাটির কাপ। তাতে গরম চায়ের ধোঁয়া উড়ছে। নিউজপেপারে চোখ বুলিয়ে নেওয়া হচ্ছে সারাদিনের বাছাই করা খবরের হেডলাইন। আর তর্ক ততই জমে উঠছে। শীতকাল মানেই গমগম করে উঠবে উত্তর ঠেকে দক্ষিণ কলকাতার এই পুরোনো চায়ের ঠেকগুলি। 

    কলেজস্ট্রিটের একটু ভিতরে বহু পুরোনো রাজুদার চায়ের দোকান। রাজুদাকে ঘিরে প্রতিদিন সেখানে একত্রিত হন প্রবীণ-নবীন লেখক-কবিরা। বিকেলের পর থেকে রাজুদার দোকান আরও জমজমাট। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র শ্রেয়ণ রায় কলেজে পড়াকালীন প্রায় যেতেন রাজুদায়। শ্রেয়ণ বলছেন, “কলেজে পড়াকালীন ক্লাস শেষ করে আমাদের একমাত্র ঠেক ছিল রাজুদা। এখানে আসার সূত্রে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে পরবর্তীতে। তাঁদের সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, বর্তমান সাহিত্য নানারকম বিষয় নিয়ে আলোচনা হত। এমনকি প্রচুর ঝগড়াও করেছি অনেকের সঙ্গে।” কলেজস্ট্রিট মানেই প্রতিদিন বহু পাঠক-ছাত্রছাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে। আর বাড়তি পাওনা হিসাবে রাজুদা তো আছেনই।

    অন্যদিকে কলকাতা দক্ষিণের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নং গেটে রয়েছে শ্যামলদার চায়ের দোকান। এই দোকানের ভিড় মূলত ছাত্রছাত্রীদের। এমনিতেই যাদবপুরের চার নং গেট সারাদিন গমগম করে। শ্যামলদাকে সেখানে লোকে এক ডাকে চেনেন। সারাদিন বিভিন্নরকম গান চলে দোকানে। চায়ের সঙ্গে ম্যাগি, এগ টোস্টের লম্বা লাইন। ফালি ফালি দুটি বেঞ্চিতে বসে থাকেন ছাত্রছাত্রীরা। সেখানে আড্ডার অংশ হিসাবে উঠে আসে হাল আমলের রাজনীতি থেকে নাটকের টিকিট কাটার একটা লম্বা লিস্ট। শ্যামলদা বলেন, “আমি তো বহু বছর ধরে যাদবপুরে রয়েছি। একদিন না এলে মনখারাপ হয়। ছেলেমেয়েরা এত ভালোবাসে আমায়, যে মায়ায় পড়ে গিয়েছি। অনেকের সঙ্গেই আমার তুই-তু-কারির সম্পর্ক। আমি তো এত পড়াশোনা জানি না, কিন্তু সবাই আমাকে এত কাছের করে নিয়েছে যে এই মায়া থেকে বেরিয়ে আসা আমার পক্ষে কঠিন। আর শীতকালে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বাইরের প্রচুর মানুষ আসেন। আমার দোকানে বসে গল্প করেন, প্রেম করেন।”

    হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট এবং শেক্সপিয়র সরণির ক্রসিংয়ের মুখে পড়বে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান। অরুণদার দোকান। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে। তাই ভোরবেলা থেকেই এই চত্বরে ভিড় থাকে। অরুণদাও প্রত্যেকের কথা মাথায় রেখে ৫টা থেকে ধীরে ধীরে সব প্রস্তুত করে ৬টা নাগাদ দোকান খোলেন। বেলা বাড়লে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস পাড়ার ভিড় উপচে পড়ে এই দোকানে। এই ছোট্ট দোকানের ভিতর বা বাইরে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই আড্ডাবাজরা দোকানের এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। দোকানের কর্মীরা আপনাকে ঠিক খুঁজে চা দিয়ে যাবেন হাতে হাতে।

    আসলে বাঙালির আড্ডার শেষ নেই। তার উপর যদি শীতকাল হয়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। চারদিক ভীষণ পাল্টে গেলেও কিছু চেহারা হয়তো আজও এক আছে। রাজুদা, শ্যামলদা, অরুণদাদের জন্য এই তিলোত্তমা তার পেখম ছড়িয়ে যখন তখন যে কাউকে কাছে টেনে নিতে পারে। তারপর বেঞ্চে বসিয়ে ঘাড়ে হাত রেখে কেউ বলে উঠতে পারে, “চল, সিনেমা দেখে আসি।” আড্ডা বাঁচে তার নিজস্ব স্বভাবে। শপিং মল আর ক্যাফের ভিড়ে আজও বর্ণময় ফুটপাথের চায়ের ঠেক। এই আড্ডাদের সঙ্গী হতে চাইলে আজই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ুন।

    ছবি- সুপ্রিয় মিত্র

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @