রুমকির একক চিত্র প্রদর্শনীতে মানুষ ও প্রকৃতির রহস্যময় দুনিয়া

হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বীর বুকে শান্তির ললিত বাণী যখন ব্যর্থ পরিহাস হয়ে ওঠে, প্রতিদিনের ছকে বাঁধা জীবনে মনের ইচ্ছেরা যখন কর্তব্যের ভারী পাথরের তলায় চাপা পড়ে মরে, তখন সেই ভেঙেচুরে যাওয়া ক্লান্ত প্রাণটা এমন কোথাও আশ্রয় চায় যা হবে স্নিগ্ধ-শান্ত-পবিত্র। আর এই অপার শান্তির অকৃত্রিম ঠিকানা একমাত্র প্রকৃতি।
এই ভাবকে মননে নিয়েই শনিবারের বিকেলে (১১ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার আইসিসিআর-এর বেঙ্গল গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে একক চিত্র প্রদর্শনী, যার নাম ‘Satori- in the Arm of Nature’, চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই প্রর্দশনীর বিষয়ে শিল্পী রুমকি (সুইটি দত্ত বণিক) বঙ্গদর্শন.কম-কে জানিয়েছেন, “Satori বিষয়টি জেন দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আসলে Satori বিষয়টি অনুভবের বিষয়, যে অনুভব কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের দেহ ও মনকে একাত্ম করে দিতে পারে প্রকৃতির অপার্থিব শক্তির সঙ্গে, আর তখনই আমরা অনুভব করতে পারি নিজের সত্ত্বাকে, পৌঁছে যাই আত্মপোলব্ধির চরম পর্যায়ে।” রোজকার চাওয়া পাওয়ার হিসাব সেই অনুভবের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়।
Satori বিষয়টি জেন দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আসলে Satori বিষয়টি অনুভবের বিষয়, যে অনুভব কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের দেহ ও মনকে একাত্ম করে দিতে পারে প্রকৃতির অপার্থিব শক্তির সঙ্গে।
Satori মূলত পূর্ব এশীয় শিল্পের বৈশিষ্ট্য। মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে দর্শকদের নিয়ে যায় এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার পৃথিবীতে। রুমকির (সুইটি দত্ত বণিক) জন্ম আসামের শিলচরে, ১৯৮০ সালে। নিজেকে আবিষ্কার করার জন্য তাঁকে অনুপ্রাণিত করে প্রকৃতির অভ্যাস, রং। বাস্তব এবং পরাবাস্তবের এক অদ্ভুত শিল্পকর্মে তাঁর অবাধ বিচরণ।
রুমকি আরও জানিয়েছেন তিনি এই প্রদর্শনী উৎসর্গ করেছেন শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ওকাকুরা কাকুজ়োকে। তিনি বলছেন, “তাঁরা দুজনেই ভারতের আধুনিক শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন। উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন প্রকৃতিকে- উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন আপন সত্ত্বাকে।” এছাড়াও জাপানি শিল্পকলা উদ্বুদ্ধ করে তাঁকে, কারণ জাপানি শিল্পকলার মতোই তিনিও তাঁর মনের ক্যামেরায় তোলা ছবিকে আপন সত্ত্বা মিশিয়ে ফুটিয়ে তোলেন ক্যানভাসে।
‘Satori’ হল একটি জাপানি বৌদ্ধ শব্দ, যার অর্থ জাগরণ। এটি জাপানি ক্রিয়াপদ ‘Satoru’ থেকে উদ্ভূত। জেন বৌদ্ধ দর্শনে বলা আছে, নিজের অভিজ্ঞতা প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে দেখতে। জাপানি শিল্প সবসময় জীবনকে সহজ-সরলভাবে জীবনকে দেখার উপায় বাতলে দেয়। এই প্রর্দশনীর আয়োজক মৈত্রেয়ী মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কোভিড পরবর্তীকালে সমাজে যখন শুধুই উগ্রতা-রুক্ষতা, আর শিল্পীদের তুলি কলমেও যখন সেই উগ্রতা উঠে আসছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে রুমকির আঁকা ছবিগুলো যেন কোথাও মন ভালো করার ওষুধ। কারণ তাঁর ছবির বিষয় প্রকৃতি আর প্রকৃতিকে আশ্রয় করেই রুমকি তুলে ধরেন জীবনের ইতিবাচক দিক।”
রুমকির (সুইটি দত্ত বণিক) জন্ম আসামের শিলচরে, ১৯৮০ সালে। নিজেকে আবিষ্কার করার জন্য তাঁকে অনুপ্রাণিত করে প্রকৃতির অভ্যাস, রং। বাস্তব এবং পরাবাস্তবের এক অদ্ভুত শিল্পকর্মে তাঁর অবাধ বিচরণ।
শনিবার বিকেল ৫টায় ‘Satori- In Arm of Nature’ প্রর্দশনীর উদ্বোধন করবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাননীয় কনসাল জেনারেল মেলিন্দা পাভেক এবং জাপানের প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক সাসাকি মিকা। এছাড়াও সম্মাননীয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পণ্ডিত দেবাশিস হালদার। ১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা তিনটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
বসন্তের বিকেলে যখন গাড়ির হর্নকে ছাপিয়ে কানে আসে কোকিলের কুহুতান, গাছে গাছে শিমুল-পলাশ-কৃষ্ণচূড়া নাগরিক ধূসরতার মধ্যেও রং লাগায় কলকাতার আকাশে, তাদের ফুলে রাস্তার কংক্রিটেও লাগে আলতো রাঙা স্পর্শ, ঠিক তখনই আইসিসিআর-এর বেঙ্গল গ্যালারিতে হতে চলা এই প্রর্দশনী শিল্পপ্রেমী দর্শকদের মনে-প্রাণে শান্তির ছোঁয়া আনবেই, একথা জোর গলায় বলছেন আয়োজক-শিল্পীর দল।