প্রয়াত বিষ্ণুপুর ঘরানার শিল্পী দেবব্রত সিংহ ঠাকুর, শেষ হল একটি যুগ

প্রয়াত হলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী দেবব্রত সিংহ ঠাকুর। পড়ে রইল একটি বিস্তৃত যুগ। দেবব্রতবাবু ছিলেন বিষ্ণুপুর রামশরণ সংগীত মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। বিষ্ণুপুর রাজবংশের ধারা বয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। আশির পার করেও কখনও গান থামাননি। কারণ তিনি মনে করতেন, ওটিই তাঁর একমাত্র সম্পদ।
কয়েকবছর আগেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সরকারের ব্যবস্থাপনায় সর্ব ভারতীয় মার্গ সংগীতের আসরে দেবব্রতবাবু পরিবেশন করেন বিষ্ণুপুর ঘরানা। সেদিন বিশিষ্ট মহল প্রথম জেনেছিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানা আসলে কী! পরবর্তীকালে দেবব্রতবাবুর লেখা ‘রবীন্দ্র সংগীতে বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রভাব’ বইয়ের জন্য ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক তাঁকে জাতীয় ফেলোশিপ দেয়।
দেবব্রতবাবুর প্রয়াণে ছিন্ন হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরের যোগসূত্র টুকু। তিনি বাঁকুড়া সংস্কৃতি পরিষদের জন্মলগ্ন থেকে শুধু আজীবন সদস্যই ছিলেন না, পরিষদের মুখপত্রতে বিষ্ণুপুর ঘরানা ও মল্ল সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিতভাবে লিখে গেছেন।
কী এই বিষ্ণুপুর ঘরানা? এই ঘরানার সৌন্দর্যই বা কোথায়? এক সাক্ষাৎকারে দেবব্রত সিংহ ঠাকুর বলছেন, “আমাদের উত্তর ভারতের যে রাগ সংগীতের চলন, সেই চলনের মধ্যে রয়েছে দাপট আর চঞ্চলতার প্রবল উত্তেজনা। এমনকি ডাগরদের ঘরের গানও যখন আমরা শুনি, দেখতে পাই সেই দাপট আর অতিরিক্ত চঞ্চলতা মিশ্রিত তান। বিষ্ণুপুরের শিল্পীরা সেই চলনের মধ্যে নিয়ে এলেন অসম্ভব এক নিবেদনের আবহ। নিবেদন থাকলে পরে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পন করা যায়। বিষ্ণুপুর ঘরে আপনি পাবেন সেই নিবেদনের বিস্তার।”
প্রবল চঞ্চলতা নিয়ে একটা যুগ শেষ করলেন ডঃ দেবব্রত সিংহ ঠাকুর। তাঁর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে তানপুরার তান যেন ফুরালো।