No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কলকাতায় বাংলার প্রথম এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম 

    কলকাতায় বাংলার প্রথম এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম 

    Story image

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরাক্রম এবং আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিকে পরখ ও অনুভব করার জন্য, কলকাতায় সদ্য খোলা হয়েছে এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম (Aircraft Museum)। পশ্চিমবঙ্গের (WestBengal) প্রথম মিউজিয়াম তো বটেই পাশপাশি ভারতের দ্বিতীয় এয়ারক্রাফট মিউজিয়ামের তকমাও এখন এরই দখলে। কলকাতা (Kolkata) ছাড়া ভারতের অন্য এয়ারক্রাফট মিউজিয়ামটি বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত। নিউটাউন থানার কাছে ডি.জে ব্লক, অ্যাকশন এরিয়া IA ব্লকে অবস্থিত কলকাতার এই এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম। গত 8 জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উদ্বোধন করেন মিউজিয়ামটি। প্রবেশ মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। যদিও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার রয়েছে এই মিউজিয়ামে।

    মিউজিয়ামে পা রাখলেই চোখে পড়বে একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সাজানো রয়েছে চারদিকে। এই বিমানগুলির মধ্যে কয়েকটি বিশ্বের সেরা বিমানের একটি। এখানে রয়েছে বিখ্যাত ‘Albatross/Tupolev Tu-142M’ যুদ্ধবিমানটি। বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুততম টার্বোপ্রপ হিসাবে বিবেচিত এই বিমানটির ওজন প্রায় ১১০ টন (১১০,০০ কেজি)। মূলত পূর্ববর্তী সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কালে ‘টুপোলেভ কুইবিশেভ এভিয়েশন’ এবং ‘তাগানরোগ মেশিনারি প্ল্যান্ট’ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বিমানটি।

    এখানে প্রদর্শনীতে রয়েছে ম্যানেকুইন পাইলট, বিখ্যাত বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনী দ্বারা ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বোমা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর তৈরি নানান যন্ত্রপাতি। প্রাক্তন বিমান ইঞ্জিনিয়ার সতীশ কুমার সিং (Satish Kumar Singh) যাদুঘরটি ঘুরে দেখেন। বিশেষভাবে তৈরি একটি বিমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: “এর জনপ্রিয় নাম AV60K, দৈর্ঘ্য ৫৩.০৭ মিটার, দুই ডানার মধ্যে ব্যবধান ৫০ মিটার, পালতোলা অংশটির উচ্চতা ১০.৭ কিলোমিটার। গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০০ কিলোমিটার এবং জ্বালানি খরচ ঘণ্টায় প্রায় ৬ টন।” সতীশ কুমার সিং-এর নির্দেশ করা এই বিমানটির বিশেষত্ব হল এটি মাত্র ২৯ বছরের মধ্যে তিন তিনটি বড়ো যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

    মিউজিয়ামটিতে প্রদর্শিত কিছু বিমানের ওপর লেখা রয়েছে নির্দিষ্ট যুদ্ধের নাম। কার্গিল, প্যারাক্রম এবং ক্যাকটাসের মতো বিখ্যাত যুদ্ধে ব্যবহৃত বিমানগুলি রয়েছে এখানে। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র বাহক এবং কিছু ফ্লাইট গানার। মিউজিয়ামটির সামনে এবং পিছনে রয়েছে প্রচুর ককপিট। বন্দুকধারীদের কাছে রয়েছে মিনিটে ১২০০ রাউন্ড হারে ৮ ইঞ্চি গুলি চালানো সম্ভব, এমন ক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষ বন্দুক।

    বিশেষত শিক্ষার্থীদের জন্য এই অভিনব জাদুঘরটি একটি সম্পদ। মিউজিয়ামটি গড়ে উঠেছে KMDA-এর তত্ত্বাবধানে। বর্তমানে HIDCO-এর মালিকানাধীন এই মিউজিয়ামটি দুই একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা। প্রদর্শনীতে থাকা কিছু বিমানকে তামিলনাড়ুর নৌ-বাহক আইএনএস রাজলি থেকে ১৬টি ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপরে এখানে সেগুলিকে আবার একত্রিত করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে প্রায় ১৫ দিনের বেশি সময় লাগে। এই ধরনের অভিনব প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখে আসতেই হবে নিউটাউনের এয়ারক্রাফট মিউজিয়ামটি।

    মূল প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @