তীর্থেন্দু ব্যানার্জির ছবিতে নৈরাশ্যবাদ এবং একটি আজব মানুষের স্বপ্ন

এই পৃথিবীতে কি সবার থাকার অধিকার আছে! কীভাবে! এই অনন্ত বিশ্বের সমস্ত প্রাণী একা একা একা। ভাবনায় সে রাজার রাজা। বিস্তারে আবিষ্কার করে একটা চওড়া রাস্তার অভিজ্ঞতা। নিজের হাত ধরে সে হেঁটে যাবে। নিজেই নিজের দোসর হয়ে উঠবে। কেউ জানে না তার কথা। সে নিজেও কি জানে? একটা পিচ্ছিল নিহিলিজম বর্ণনা করছে মানুষের আনন্দ-দুঃখ। মূল্যহীন পৃথিবীতে এরপর ঘনিয়ে আসবে মেঘ। এই রাস্তার কোনো ভাষা নেই, এই মানুষের কোনো গোত্র নেই, এই হাঁটার কোনো গন্তব্য নেই। প্রখ্যাত রাশিয়ান সাহিত্যিক দস্তয়ভস্কি তাঁর ‘দ্য ড্রিম অফ আ রিডিকিউলাস ম্যান’ (The Dream of a Ridiculous Man) নামক একটি ছোটোগল্পে বলেছিলেন এমনই এক নৈরাজ্যবাদের কথা। যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- একজন আজব মানুষের স্বপ্ন। আজকের ছবিমহলের আলোকচিত্রী তীর্থেন্দু ব্যানার্জি।
জীবন যেভাবে ছবিকে দেখায় কিংবা ছবি যেভাবে জীবনকে দেখায়- তীর্থেন্দু এই জীবন আর ছবিকে একটা রেখার মধ্যে ধারণ করে রাখতে চান। কিছু কথা বলার দায়িত্ব নিয়েই ফ্রেমের সন্ধানে রাস্তা পার হন তরুণ আলোকচিত্রী তীর্থেন্দু ব্যানার্জি। তীর্থেন্দু মনে করেন দুই ধরনের ছবি হয়। এক, যা আপনাকে একশো শতাংশ কথা বলবে। আরেক ধরনের ছবি হয় যে কিছুটা কথা বলবে, আর কিছু প্রশ্ন করবে। তীর্থেন্দু তাঁর ছবির দর্শককে প্রশ্ন করতে চান এবং তাঁর ছবির মধ্যে দর্শককে বেশি মাত্রায় সম্পৃক্ত করতে চান। তথাকথিত দেখতে সুন্দর, ঝাঁ চকচকে ছবি এই শিল্পীর জন্য নয়, তা তিনি বারবার স্বীকার করে নেন। তীর্থেন্দু মনে করেন অ্যাবস্ট্রাক্ট থেকেই যেকোনো ভাবনা গড়ে ওঠে। প্রতিটা মানুষেরই আলাদা আলাদা গল্প আছে। তীর্থেন্দু সেই গল্পগুলোই বলতে চান তাঁর ছবির মাধ্যমে। উল্লেখ্য, এই সিরিজের নাম ‘দ্য ড্রিম অফ আ রিডিকিউলাস ম্যান’। যা দস্তয়ভস্কি থেকে অনুপ্রাণিত। আসুন, গ্যালারি ঘুরে দেখি...
ক
খ
গ
ঘ
ঙ
সর্বসত্ব সংরক্ষিত