No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দির আজ ডুবে আছে দামোদরের জলে  

    হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দির আজ ডুবে আছে দামোদরের জলে  

    Story image

    পুরুলিয়া জেলায় রঘুনাথপুরের কাছে দামোদর নদীর তীরে কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। জায়গাটি গবেষক এবং দর্শনার্থীদের কাছে তেলকুপি প্রত্নস্থল নামে পরিচিত। আগে এই অঞ্চল ছিল বিহারের মানভূম জেলায়। এখন রঘুনাথপুর থানার বেশ কয়েকটি গ্রাম নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থান করছে তেলকুপি। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দামোদরের ওপর পাঞ্চেত জলাধার তৈরি হওয়ার পর এখানকার বেশিরভাগ স্থাপত্য নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। আপাতত ভাঙাচোরা অবস্থা টিকে আছে মাত্র তিনটে মন্দির। তার মধ্যে দু’টিকে যে কোনো সময়ে দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে নদীর জল কমে গেলে তবেই আরেকটি মাথা তোলে। মন্দিরগুলির কাঠামো দেউল আকৃতির। জিডি বেগলার, দেবলা মিত্র প্রমুখের লেখা থেকে জানা যায়, এখানে ছিল আরও বেশ অনেকগুলি দেউল। 

    গবেষকরা বলে থাকেন, তেলকুপির প্রাচীন নাম ছিল তৈলকম্প বা তৈলকুম্পী। সাধারণভাবে আমরা বুঝি, ‘তৈল’ মানে ‘তেল’। তবে এই শব্দটির আরেকটি অর্থও রয়েছে। চাণক্যের অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী ‘তৈল’ ছিল এক ধরনের কর। আর ‘কম্প’ মানে ‘কম্পন’ অর্থাৎ পরগনার মতো ছোটো প্রশাসনিক অঞ্চল। তৈলকম্পী ছিল কর প্রদানকারী অর্থাৎ করদ রাজ্য বা উপনিবেশ। প্রাচীন যুগে শিখর বংশীয় রাজাদের অন্যতম রাজধানী ছিল এটি। পাঞ্চেতের রাজবংশ বলতে এঁদেরকেই বোঝানো হয়ে থাকে। শিখর বংশের একজন বিখ্যাত শাসক ছিলেন রুদ্রশিখর। তিনি পাল আমলে রাজত্ব করতেন। সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’-এ লিখেছেন, রুদ্রশিখর অন্যান্য সামন্তরাজাদের সঙ্গে জোট বেঁধে পাল সম্রাট রামপালকে বরেন্দ্রভূমি দখল করতে সাহায্য করেছিলেন। বোড়ামের এক শিলালিপি থেকে জানা যায়, রুদ্রশিখর ছিলেন তৈলকম্পীর শাসক। কংসাবতী নদীর উত্তর থেকে দামোদর নদীর দক্ষিণ পর্যন্ত ছিল তাঁর রাজ্যের সীমানা। 

    কাছেই ছিল দু’খানা তামার খনি – তামাজুড়ি ও তামাখুন। সেখান থেকে প্রাচীনকালে ব্যবসায়ীরা তামা উত্তোলন করে তাম্রলিপ্ত নিয়ে যেতেন। তৈলকম্পী ছিল এক বন্দর শহর। এখানকার মন্দিরগুলি খ্রিস্টীয় নবম-দশম শতক থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। ওই সময়ে পুরুলিয়াতে জৈন ধর্মের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র বিকশিত হয়েছিল। তেলকুপির মন্দিরগুলিতে জৈন প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। গবেষকরা মনে করেন, এই শহরে ব্যবসা করতে আসতেন মূলত জৈন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরগুলি বানানো হয়েছিল। আশেপাশে বেশ কিছু হিন্দু দেবদেবীর মূর্তিও পাওয়া গেছে। তাই, এখানে হিন্দুদেরও বসবাস ছিল বলে ধরা হয়।

    তবে, বেশ কিছু জৈন দেবমূর্তিকে পরবর্তীকালে হিন্দুরা নিজেদের মতো করে পুজো করতে থাকেন। চারপাশের গ্রামে গ্রামে লোকের মুখে আজও শোনা যায়, “তেলকুপি ভৈরবনাথ হে, অড়ানার বাণেশ্বর হে”। এই ভৈরবনাথ হলেন জৈন তীর্থঙ্কর ঋষভদেব। তাঁর চিহ্ন ছিল ষাঁড়। ঋষভদেবের বেশ কয়েকটি প্রাচীন মূর্তিকে এখন গ্রামে গ্রামে মহাদেব শিব হিসেবে পুজো করেন স্থানীয় মানুষ। 

    তথ্যঋণ – নীহাররঞ্জন রায়, সুভাষ রায়, শুভপ্রকাশ মণ্ডল।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @