বাংলার ঐতিহ্যময় চা বাংলো

ক্যারন
বাংলো এমন বিশেষ ধরনের স্থাপত্যশৈলী, যার উৎপত্তি বঙ্গদেশে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাবিকরা ভারতে যে ধরনের বাড়ি তৈরি করতেন, সেগুলো বোঝাতে ১৬৯৬ সাল নাগাদ ইংরেজিতে কথাটির প্রচলন হয়। পরে বহু উচ্চপদস্থ ইউরোপীয় সাহেব এই ধরনের বাড়ি নির্মাণ করাতেন। ব্রিটেন এবং আমেরিকায় নাগরিকদের স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে ওঠে বাংলো।
বাদামতাম
বাদামতাম
এরকমই আশ্চর্য সব তথ্য পাবেন ‘Burra Bunglows of North Bengal: Glimpses of Built Heritage and Lifestyle of Tea Estate in North Bengal’ বইতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের সহায়তায় বইটি প্রকাশ করেছে Indian National Trust for Art and Cultural Heritage (INTACH), Kolkata chapter। অলংকরণ এবং বাঁধাই বইটিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে থাকা বেশ কিছু আকর্ষণীয় চা-বাংলোর সুলুক সন্ধান পাবেন এই বইয়ে।
ঘাটিয়া
আইএনটিএসিএইচ কলকাতার আহ্বাহক জিএম কাপুর সম্পাদিত এবং তাঁর ছেলে নিখিলের সমৃদ্ধ ফটোগ্রাফি দিয়ে সাজানো বইটি পশ্চিমবঙ্গের চা পর্যটনকে দারুণভাবে তুলে ধরেছে। রাজ্য সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চা পর্যটন। প্রায় ১৪০টি বাংলোর বিবরণ রয়েছে বইতে। ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের জন্য সেগুলোর বেশিরভাগই রিসর্ট বানিয়ে তোলা হয়েছে।
কুর্তি
জিএম কাপুর জানালেন, “বইটি প্রকাশের আর্থিক দায়িত্ব নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন। আমরা ৫০০ কপি ছেপেছিলাম। তার মধ্যে ৩০০ কপি পর্যটন দপ্তরই কিনে নিয়েছে। বাকি ২০০ কপিও নিঃশেষ। সারা পৃথিবী থেকে অর্ডার এসেছে।” লেখক মাথুরের নিবন্ধ বইটির আরেক আকর্ষণ। যিনি প্রচুর চা বাগানে নিজে গিয়েছেন।
ব্রিটিশ আমলে ভারতের চা বাগানগুলোয় কঠোর স্তরবিন্যাস আর বিলাসবহুলতা দেখা যেত। বড়ো সাহেব আর ছোটো সাহেবের আলাদা আকৃতির বাংলো ছিল। সেগুলো কেবলমাত্র বাড়ি নয়, জীবনচর্যার প্রতীক। নিখিল বললেন, “আমরা এমন কিছু বাংলোতে গিয়েছে, যাদের শৌচাগারে একটা ছোটো ফ্ল্যাট ঢুকে যাবে। বইতে আমি ৫০০-র মতো ছবি দিয়েছে। তুলেছি আরও অনেক অনেক বেশি।” নিখিলের ফটোগ্রাফি আপনি দেখতে পাবেন www.nikhilkapur.com ওয়েবসাইটে।
আরও পড়ুন: বাঁকিপুট সৈকতে নিস্তব্ধতার জাদু
পাঁচ বছর ধরে খেটে তৈরি করা বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। নিখিল জানালেন, “বাংলো বাড়িগুলোর অস্তিত্ব নির্ভর করছে পর্যটনের ওপর। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ খুব বেশি। সরকারের পক্ষে সবার ব্যয়ভার বহন করা সহজ নয়। তবে এখন চা বাগান সংস্থাগুলো এটা বুঝেছে। পর্যটকদের জন্য বাংলো খুলে দিচ্ছে তারা। তবে প্রাচীনপন্থী অনেকেই খুশি নয় এতে।”
নামরিং
নামরিং
বাংলোগুলোকে কাপুর ভাগ করেছেন তিনটি বড়ো এলাকায় – দার্জিলিং, তরাই (পূর্ব) এবং তরাই (পশ্চিম)। রাংলি রাংলিয়ট, গ্লেনবার্ন, মকাইবাড়ি, মার্গারেট’স হোপয়ের মতো পরিচিত নাম যেমন এর মধ্যে আছে, তেমনি দার্জিলিংয়ের জিং, সুম, পুটাবং ইত্যাদি অপরিচিত বাগানও রয়েছে।
অর্ড-তরাই
২০২০ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করে, পর্যটন প্রকল্প এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কাজে চা বাগানে মোট জমির ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা যাবে। তা সর্বোচ্চ ১৫০ একর হতে পারে। অন্যান্য নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কাজের মধ্যে থাকতে পারে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উদ্যানপালন, ফুল চাষ, ভেষজ চাষ প্রভৃতি। নিষ্ফলা বছরে সেগুলো থেকে রোজগারে সামাল দেওয়া যাবে।
সুম
আপনিও শিগগিরই বইটির একটি কপি সংগ্রহ করুন। আর কোভিডের ঢেউ থামলেই চলে যান বাংলার চা পর্যটন ট্রেইলে।