No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    সুকুমার-সত্যজিতের সুদীর্ঘ ছায়া থেকে আলোয় এলেন সুপ্রভা রায়

    সুকুমার-সত্যজিতের সুদীর্ঘ ছায়া থেকে আলোয় এলেন সুপ্রভা রায়

    Story image

    ‘সুপ্রভা রায়’ নামটি গুগল করলে দেখা যাবে, ছবি হোক বা লেখা, কখনো তিনি স্বামীর (সুকুমার রায়) সঙ্গে, কখনো ছেলের (সত্যজিৎ রায়) সঙ্গে, কখনো আবার পূত্রবধূর (বিজয়া রায়) সঙ্গে। প্রত্যেকেই তাঁর আপনজন, তাঁদের সঙ্গে জুড়ে থাকবেন এ তো স্বাভাবিক ঘটনা। তবুও, তাঁকে নিয়ে আলাদা করে কথা বলার মতো কি কিছুই ছিল না?

    এই জিজ্ঞাসা থেকেই সুকুমার-সত্যজিতের সুদীর্ঘ ছায়া থেকে সুপ্রভাকে আলোয় আনার দরকারি কাজটি করে ফেলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন’স স্টাডিজ-এর প্রাক্তনী, গবেষক, লেখক তথা সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক টুম্পা মুখোপাধ্যায়। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা বই ‘সুপ্রভা রায় : দ্য আনভ্যাঙ্কুইশড’।  সুপ্রভা রায়কে নিয়ে বিশদ লেখা বা বই আগে প্রকাশিত হয়নি ঠিকই, তবে সত্যজিতের ‘যখন ছোটো ছিলাম’ বা অন্যান্য লেখা সূত্রে জানার অবকাশ ছিলই যে, ছোটোবেলায় মায়ের কাছেই প্রথম ‘ব্লু জন গ্যাপ’ আর ‘ব্রেজিলিয়ান ক্যাট’ নামে দু’টি ইংরেজি গল্প শুনেছিলেন তিনি। পরে সত্যজিৎ এই দু’টি গল্পই বাংলায় অনুবাদ করেছেন—'ব্লু জন গহ্বরের বিভীষিকা’ আর ‘ব্রেজিলের কালো বাঘ’। জানা যায়, এক মাসতুতো ভাইয়ের কাছে চামড়ার কাজ শিখেছিলেন সুপ্রভা। মাটির মূর্তি গড়ার কাজ শিখেছিলেন সেসময়ের পরিচিত মৃৎশিল্পী নিতাই পালের কাছে। সুপ্রভার তৈরি বুদ্ধ আর প্রজ্ঞাপারমিতার মূর্তি এখনো রয়েছে রায়পরিবারের সদস্যদের কাছে। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে একরত্তি শিশুকে নিয়ে কীভাবে শক্তহাতে হাল ধরেছিলেন বিদুষী সুপ্রভা, এটা যেমন আলোচ্য বিষয় তেমনই প্রয়োজন ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা করা। সেই প্রয়োজনীয় কাজটিই করেছেন টুম্পা। তাঁর লেখা বই থেকে পাঠক খুঁজে পাবেন অধরা সুপ্রভাকে।

    লেখালিখি করতে ভালোবাসেন টুম্পা। তাঁর কথায় “বিশেষত, সেই সব মহিলাদের কথা, যাঁরা উল্লেখযোগ্য অথচ উপেক্ষিত—মেঘে ঢাকা তারা।” এই যে তিনি  গবেষণা করে সুপ্রভা রায়কে নিয়ে প্রয়োজনীয় একটা বই লিখে ফেললেন, এর শিকড় কিন্তু অনেক গভীরে। টুম্পার ‘চিনি দাদু’ (মায়ের মামা) ডাঃ সুহৃদ মুখোপাধ্যায় হলেন সেই ‘নসুবাবু’, যিনি সুপ্রভার ব্যক্তিগত পারিবারিক চিকিৎসক ছিলেন। সুপ্রভা তাঁকে নিজের ছেলের মতোই স্নেহ করতেন। টুম্পার মায়ের ‘টুলু মাসি’ ছিলেন সুপ্রভা। তাই অন্যান্য গবেষণা ছাড়াও সুপ্রভাকে নিয়ে লেখা এই বই আলাদা মাত্রা পাবে, তা ধরে নেওয়া যেতে পারে।

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @