No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বর্ষায় সেজে উঠেছে সুন্দরবনের ‘পিয়ালি’

    বর্ষায় সেজে উঠেছে সুন্দরবনের ‘পিয়ালি’

    Story image

    আষাঢ়ের অবিশ্রান্ত ধারায় প্রকৃতি এখন স্নিগ্ধ। নদী, খাল, বিল জলে থৈ থৈ। সারাদিন ধরেই চলছে প্রবল থেকে মাঝারি বৃষ্টি। আবার হঠাৎই মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে আলোর ঝিকিমিকি। চারিদিকে সবুজের বন্যা এই তো আমাদের গ্রামবাংলার দৃশ্য। অনেক শিল্পীই গ্রামবাংলার এই বৃষ্টিভেজা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন রং-তুলিতে। তাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম বৃষ্টিভেজা গ্রামবাংলার দৃশ্য দেখতে। চললাম নদী ঘেরা সবুজের দেশ পিয়ালির উদ্দেশ্যে।

     

    সুন্দরবনের বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জল, জঙ্গল মাছ ধরার নৌকা, পাখি ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পিয়ালি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজে ঘেরা গ্রাম্য জীবনের জলছবিতে পরিপূর্ণ পিয়ালি। কলকাতা থেকে মাত্র ৭৫ কিমি দূরে অবস্থিত। গাড়ি বা ট্রেনেও পৌঁছে যাওয়া যায় এই দ্বীপে। ট্রেনে দক্ষিণ বারাসাত নেমে, সেখান থেকে অটো বা ট্রেকারে করে পৌঁছাতে হবে কেল্লার বাজার। এই বাজারের উল্টো দিকেই পিয়ালি নদীর উপর তৈরি করা হয়েছে কংক্রিটের ড্যাম্প। ড্যাম্পের ব্রিজটি অতিক্রম করলেই পিয়ালি আইল্যান্ড।

     

    চারদিক থেকে নদীতে ঘেরা এই দ্বীপ। পিয়ালির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পিয়ালি নদী মিলেছে সুন্দরবনের মাতলা নদীর বৃহৎ অংশে। এক বৃষ্টি ভেজা সকালে আমরা গাড়ি নিয়ে পৌঁছলাম পিয়ালি। নদীর ধারে সবুজ দৃশ্য অন্যদিকে বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা এসে থামল কেল্লার বাজারে। পিয়ালিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থাকার জন্য ট্যুরিস্ট লজ। আছে থাকা খাওয়ার সু-বন্দোবস্ত। তবে তার জন্য অগ্রিম বুকিং করতে হয় কলকাতা থেকে। সরকারি এই লজের চারিদিক ঘেরা বিস্তৃত সবুজ গাছপালার বাগান। রয়েছে ছোট-বড় জলাশয়। সম্পূর্ণ রিসর্টটি সুরক্ষিত করা হয়েছে কাঁটাতার দিয়ে। আমরা গাড়ি নিয়ে লজের ভিতরে প্রবেশ করলাম।

     

    দোতালায় ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। প্রবেশ করেই মনটা ভরে গেল। বড় বড় জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে চারিদিকে শুধুই সবুজ। আমাদের মত শহরবাসীর কাছে যেন এটা অসাধারণ প্রাপ্তি। এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতেই সকালের ব্রেকফাস্ট সারলাম। দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা রকমের জানাঅজানা পাখি। পিয়ালি পক্ষীপ্রেমিকদের খুব প্রিয় জায়গা। তারপর বেরিয়ে পড়লাম রিসোর্টের ভেতরে থাকা বাগান ভ্রমণে। হেঁটে এগিয়ে চললাম অনেকদূর। চারিদিকে সবুজের হাতছানি, বৃষ্টিতে ভেজা গাছগুলির সবুজ রং যেন আরও গাঢ় হয়েছে। জলাশয় ভেসে আছে সাপলা ফুল। পিয়ালিতে শীতের সময়ে আসে নানারকমের পরিয়ায়ী পাখির দল রিসর্টের ভিতরের জলাশয়ে এবং পিয়ালি নদীতে। এই শীতের সময়ই শান্ত পিয়ালিতে করা যায় নৌকাভ্রমণও।

     

    আমরা অনেকক্ষণ ঘুরে ফিরে এলাম লজে। লজকর্তা খবর দিলেন, দুপুরের খাবার প্রস্তুত। খাবারে তালিকায় ছিল আমার পছন্দের  চিংড়ি ও কাঁকড়া। বিকেলে চললাম  ব্রিজ পেরিয়ে গ্রামের বাজার দেখতে। পৌঁছালাম কেল্লা বাজারে। দেখি আম কাঁঠালের পসরা নিয়ে বসেছে গ্রামের মানুষ ও চাষীরা। সদ্য পিয়ালি নদী থেকে জেলেদের ধরা চিংড়ি ও পারশে মাছও আছে। বৃষ্টিভেজা বিকালে বাঁশের বেড়া ঘেরা চায়ের দোকানগুলিতে ভিড় জমিয়েছে গ্রামের মানুষ। মাটির ভাঁড়ে খাঁটি দুধের চায়ে চুমুক দিতে দিতে বিকালে গড়িয়ে গেল। দেখলাম নদীর পার জুড়ে জেলেদের নৌকার প্রস্তুতি চলছিল। এরা সবাই কাকভোরেই পাড়ি দেবে মাছ ধরার জন্য। বর্ষায় নদী এখন জলে টইটম্বুর। নদীর পাড়ও হারিয়ে গেছে নদীর বুকে। কিন্তু বৃষ্টিতে নদীর যেন এক অন্য রূপ।

     

    পরে দিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম গ্রাম ও নদীভ্রমণের উদ্দেশ্যে। গ্রামের লোকেদের জীবনযাত্রা থেকে কতই আছে দেখার ও শেখার। সেই বৃষ্টিতে ভিজেই চলছে মাছ ধরা। এবারে আরও জোরে বৃষ্টি পড়া শুরু হল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলি জলে পড়ে মিলিয়ে যাচ্ছিল। দূরে ভাসমান মাছধরার নৌকা, নদী অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা। সঙ্গে রইল বৃষ্টির পিয়ালি। এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @