No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রং খেলার পথে বীজ বুনতে বুনতে যাওয়ার গপ্প 

    রং খেলার পথে বীজ বুনতে বুনতে যাওয়ার গপ্প 

    Story image

    সাইকেল নিয়ে শান্তিনিকেতনের দোল দেখতে চলেছে সাতজন পড়ুয়া। এই প্রথমবার বসন্ত উৎসব দেখবে তারা। উত্তেজিত সকলেই। কিন্তু, উত্তেজনার কারণটি যে আরো বিরাট। তাদের প্রত্যেকেরই পিঠের ব্যাগ ভর্তি গাছের বীজ। শীরিষ, অতসী, শিমুল। বীজ কেন? কারণ, দোল দেখতে যাওয়ার সময় পথের পাশেই তারা বুনে দেবে এইসব গাছের বীজ। সেইসব বীজ থেকে মাথা তুলবে চারা। ধীরে ধীরে বড়ো হবে গাছ। চারপাশটা আরো খানিক সবুজ হয়ে উঠবে। কচি কচি ছেলেমেয়েগুলো এটাই চায়। তাই, সাইকেল আর ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়া দোলের আগের দিন। দোল কাটিয়ে আজ ঘরে ফিরছে সবাই। বীজ বিলি করতে করতে, ছড়াতে ছড়াতেই।

    এরা কিন্তু কেউ বোলপুর বা আশেপাশের বাসিন্দা নয়। বীরভূমের প্যাটেলনগরের কাছে গৌরনগর গ্রামে তাদের বাড়ি। সেখান থেকে শান্তিনিকেতন নয় নয় করেও ৪২ কিলোমিটার রাস্তা। এতটা রাস্তা সাইকেলে যাওয়ার একটাই উদ্দেশ্য, বীজ বুনতে বুনতে যাওয়া। পিঙ্কি মণ্ডল, প্রিয়া মণ্ডল, পায়েল দাস, কৌশিক দাস, দীপঙ্কর দাস, বাণী মণ্ডল এবং সুপ্রিয়া দাস। কেউ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, কেউ একাদশ শ্রেণির, কেউ বা প্রথম বর্ষের।

    এইসব বীজ অনেক কষ্টে তারা সংগ্রহ করেছে বিগত কয়েকদিন ধরে। এরপর, শান্তিনিকেতনে আবিরে রাঙা হয়েছে সকলেই। আর, আসা-যাওয়ার মাঝের রাস্তাটুকুতেও নতুন প্রাণ জন্মের সম্ভাবনাও বুনতে বুনতে গেছে। 

    রেললাইনের সমান্তরাল রাস্তা। সাঁইথিয়া, বাতাসপুর, আমোদপুর, কোপাই হয়ে প্রান্তিক দিয়ে ঢুকে বোলপুর। রাস্তার দু’পাশে নজর রাখতে রাখতে যাওয়া। যেখানে মাটি ভালো, সামনে জলাভূমি আছে, গাছ বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশ, যেখানে ধান গাছ রুইতে গিয়ে চাষি চষে দেবে না, রাস্তা চওড়া হলেও গাছ কাটা পড়ার সম্ভাবনা যেখানে কম—সেগুলো চিহ্নিত করে তারা বীজ বুনেছে বড়ো যত্নে। সময় লেগেছে অনেকটাই। ক্লান্তিতে ফাঁকি মারেনি একটুও। সাইকেলের সামনে সবুজের বার্তা দেওয়া পোস্টার। আজ ফেরার পথে তাদের থেকে বীজ চেয়ে নিয়েছেন গ্রামের অনেকেও। 

    এমন ‘সবুজ’-দের দেখা তো সহজে মেলে না। এদের মাথায় বীজ বোনার এই স্বপ্নটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন আর এক গাছমানুষ। উজ্জ্বল পাল। তিনি নিজেই কদিন আগে সাইকেল নিয়ে উঠেছেন চাঁদের পাহাড় কিলিমাঞ্জারোর চুড়োয়। ‘জীবনে অন্তত একটি গাছ লাগান, আর তাকে বড়ো করে তুলুন’—এই বার্তা নিয়ে সাইকেলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত। এই সাতজন কচি-কাচার সঙ্গে সাইকেল নিয়ে হাজির ছিলেন তিনিও। ফোনে উজ্জ্বল পাল বলছিলেন, পথে পড়া নানা গ্রামের মানুষদেরও উৎসাহের কথা। কেউ কেউ চেয়ে নিয়েছেন বীজ। পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বেচ্ছায়। 

    এভাবেই পৃথিবীটা তার সবুজ পোশাক ফিরে পাক। আরো কিছু গাছ-পাগলে ভরে উঠুক আমাদের রাজ্য, দেশ। দেশজুড়ে কর্পোরেটদের কাছে হাজার-লক্ষ একর বন বেচে দেওয়ার বাস্তবতার মধ্যে এও এক নতুন আশার আলো। মানুষ তো আশাতেই বাঁচে। আর বাঁচে অক্সিজেনে।   


     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @