সিনেপর্দায় এবার একসঙ্গে সৌমিত্র-নাসিরুদ্দিন

ভারতবর্ষের দুই তাবড় অভিনেতা এবার একসঙ্গে। খবরটি প্রথমদিকে অনেকে গুজব ভাবলেও, শেষমেশ এই গুজবেই কান দিতে হল। কান না পেতে কোথায় বা যাওয়া যায়! আজ্ঞে, খবরটি সত্যি তো বটেই। এবং একটি বাংলা সিনেমায় প্রধান দুই চরিত্রে একসঙ্গে এই প্রথম অভিনয় করতে দেখা যাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহ-কে। বহুদিন ধরেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন। অবশেষে তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। পরিচালক শৈবাল মিত্রের পরিচালনায় শুরু হচ্ছে নতুন ছবি ‘দেবতার গ্রাস’-এর কাজ। একটি আমেরিকান নাটক ‘ইনহেরিট দ্য উইন্ড’ অবলম্বনে ছবির গল্প বুনেছেন পরিচালক। এই নাটক নিয়ে সম্প্রতি চন্দন সেনের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে ‘অপবিত্র’।
দেশের পরিস্থিতি, টানাপড়েন, সামাজিক অবস্থার সংকট ইত্যাদি নিয়ে পরিচালক শৈবাল মিত্র অনেকদিন ধরেই চিন্তা-ভাবনা করছিলেন বলে জানান। আর সেখান থেকেই জেরোম লরেন্স এবং রবার্ট ইলির লেখা এই নাটকটি সিনেপর্দায় নির্মাণ করবেন বলে পরিকল্পনা করেন। ইতিমধ্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ স্বয়ং। ধর্ম-সাম্প্রদায়িকতা-বিদ্বেষ-রাজনীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। ছবিতে থাকছে চারটি ভাষা- বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও সাঁওতালি। ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহ দুজনেই উকিলের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। একজন লড়বেন ধর্মের পক্ষে আরেকজন ধর্মের বিরুদ্ধে। অনেকদিন পর আবার বাংলা ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করতে দেখা যাবে পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারকে। ছোট্ট একটি শহরতলিকে ঘিরে গল্পের প্লট বোনা হয়েছে। যেখানে মূলত আদিবাসীরাই বাস করেন এবং ঘটনাচক্রে প্রত্যেকেই ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান। এখানকারই এক স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক কুণাল জোসেফ বাস্কে। যিনি নিজেও ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান। ক্লাসে ডারউইনের বিবর্তনবাদ পড়ানোর জন্য তাঁর উপর হেনস্থা করা হয়। বলা হয় তিনি বাইবেল বিরোধী কাজ করেছেন। এই নিয়েই শুরু হয় ধর্ম-রাজনীতির টানাপোড়েন। এই শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়। যে শ্রমণকে মানুষ ভালোবেসেছিল ‘বুকঝিম এক ভালোবাসা’ নাটকে অভিনয় করার পর। সেখানে তাঁর অনবদ্য একক অভিনয় দর্শকদের নজরে এসেছিল।
‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যেতে পারে কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়কেও। খুব শীঘ্রই ছবির শুটিং শুরু হবে। আপাতত বাংলা সহ গোটা ভারতবর্ষের দর্শক অপেক্ষা করে থাকবে বর্ষীয়ান দুই অভিনেতাকে এক ফ্রেমে দেখার জন্য। এই মুহূর্তে সময়ের কথা বলাটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। সেটা যে-কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন। তার জন্য এই ছবির একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বৈকি।