No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    শ্রমজীবী ক্যান্টিন এবার পদ্মাপারে — ভাত জুটছে একদল মানুষের  

    শ্রমজীবী ক্যান্টিন এবার পদ্মাপারে — ভাত জুটছে একদল মানুষের  

    Story image

    কোভিড অতিমারীর প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। শুরু হয়েছে মারণ ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এমন অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর প্রথম পথ দেখিয়েছিল শ্রমজীবী ক্যান্টিনের মাধ্যমে। তার ৩৬৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে সম্প্রতি। মাত্র ২০ টাকায় পেট ভর্তি খাবার। কর্তৃপক্ষের স্লোগান ছিল, ‘‌কেউ খাবে কেউ খাবে না। তা হবে না, তা হবে না’‌। এমন উদ্যোগ এবার ছড়িয়ে পড়েছে কাঁটাতার ছাড়িয়ে পড়শি বাংলাদেশে। 

    বাংলাদেশের পুরোনো ঢাকার পল্টন বাজার মোড়। এখানেই মুক্তিভবনের নিচে রমরমিয়ে চলছে শ্রমজীবী ক্যান্টিন। বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে একেবারে নিখরচায় প্রতিদিন দুই বেলা খাবার পাচ্ছেন অসংখ্য গরিব মানুষ। ক্যান্টিনের জন্য সব ধরনের কাজ করছেন ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন কর্মীরা। বাজার করা থেকে রান্না করা, সেই খাবার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া – লড়াইটা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। খাবার বিতরণের পাশাপাশি করোনা সচেতনতা নিয়েও কাজ করছেন তাঁরা। বিতরণ করা হচ্ছে মাস্কও।

    করোনার জন্য অনেক মানুষের আয় কমে গেছে। সংসারের খরচও বেড়েছে অনেক। বাংলাদেশে এখন একাধিক ফুটপাত বন্ধ, যার ফলে দোকান খুলতে পারছেন না কেউই। রেস্তোরাঁ খোলা আছে শর্ত মেনে – তাও সেখানে বসে খাওয়া নিষেধ। এই অবস্থায় ঢাকার হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষরা বিপাকে পড়েছেন। এই সব মানুষদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’।

    যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মাসুম খান জানিয়েছেন, “আমরা তো মানুষের জন্যই রাজনীতি করি। দল সংগঠন করি। তাহলে করোনার এই মহামারিতে পার্টি অফিসে তালা না ঝুলিয়ে সেখানে শ্রমজীবী ক্যান্টিন কিংবা কমিউনিটি কিচেন অথবা অক্সিজেন পুল হবে না কেন! আমাদের শ্রমজীবী ক্যান্টিনে সবাই সহযোগিতা করতে পারেন। আমরা প্রত্যেককে বলছি, ইউনিয়নের স্যুভেনির মাস্ক কিনুন। এই মাস্কের লভ্যাংশ আমরা শ্রমজীবী ক্যান্টিনের খাতে ব্যয় করব।”

    বিনামূল্যে খাবার সরবরাহের জন্য গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় এই ক্যান্টিন চালু হয়েছে। সকাল থেকে সংগঠনের কর্মীরা বাজার ও রান্নার কাজ শুরু করেন। দুপুর থেকে খাবার বিতরণ শুরু হয়। চলে রাতে খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত। রান্নার পর প্যাকেট করে খিচুড়ি-ডিম ও পানীয় জল দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের প্রতিক্রিয়া, “লকডাউনে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, হকারদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষজন। এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

    কাঁটাতার পেরিয়ে এপার থেকে ওপার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই স্লোগান, ‘‌কেউ খাবে কেউ খাবে না। তা হবে না, তা হবে না’‌। পদ্মাপারের হতদরিত্র মানুষরা প্রতিদিন খাবার পাচ্ছেন দেখে খুশি আয়োজকরাও।

    ছবি সৌজন্যেঃ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @