No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রবীন্দ্রনাথ তাঁর মৃত্যুদিনেই প্রথম এসেছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে    

    রবীন্দ্রনাথ তাঁর মৃত্যুদিনেই প্রথম এসেছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে    

    Story image

    রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রিয় ছিল? শক্তি নিজে জানিয়েছেন, “আসলে ওঁর বহু কবিতাই আমার প্রিয়তম। ‘প্রিয়তম’ বলতে তো একটা কবিতা হওয়া উচিত, কিন্তু রবি ঠাকুরের অনেক কবিতাই প্রিয়তম হয়ে রয়েছে একই সঙ্গে”। রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনে লেখা কবিতাগুলি শক্তিকে বিশেষ টানত না। বরং শেষ জীবনের ‘মহুয়া’, ‘পুনশ্চ’, ‘আরোগ্য’-র কিছু কবিতা অথবা ‘শেষ সপ্তক’, ‘শেষ লেখা’ – এগুলিই টানত বেশি। ‘লিপিকা’কে কবিতার বই হিসেবেই ধরতেন। পছন্দ করতেন বেশ। পরিণত বয়সের শক্তিকে ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতাটির জীবনদর্শন গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত। 

    শক্তির জীবনে রবীন্দ্রনাথ প্রথম এসেছিলেন ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাইশে শ্রাবণ, যেদিন রবি ঠাকুর প্রয়াত হন। শক্তি তখন নিতান্তই কিশোর, বহড়ু গ্রামে থাকতেন দাদামশাই এবং এক বিধবা মাসির সঙ্গে। দাদামশাই সেদিন হন্তদন্ত করে স্টেশন থেকে ফিরলেন। সঙ্গে স্টেশন মাস্টার। দু’জনে বৈঠকখানায় বসে রইলেন গভীর রাত পর্যন্ত। গ্যাসের আলোও জ্বালানো হয়নি। শক্তি পড়াশোনা করছেন কিনা, সেদিকে কারো নজর ছিল না। গোটা পরিবেশ জুড়েই নিস্তব্ধতা। 

    একসময়ে দাদামশাই বললেন, “এখানে এসে চুপ করে বসো”। শক্তি বৈঠকখানায় গিয়ে বসলেন। খুব অল্পই কথা বলছিলেন বড়োরা। দাদামশাই এরই মধ্যে শক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি রবীন্দ্রনাথের নাম শুনেছ? কবিতা পড়েছ তাঁর? খবর এসেছে, তিনি মারা গেছেন”। 

    পরেরদিন সকালে কলকাতার বাড়িতে ভাইবোনদের কাছে চিঠি লিখলেন শক্তি, “রবীন্দ্রনাথ মারা গেছেন। তোমরা তাঁর একটা ছবি পাঠিয়ে দাও”। কয়েকদিন পর মাসিকে নিয়ে জয়নগর-মজিলপুরের ‘বাণী-সিনেমা’ হলে গিয়েছিলেন ছবি দেখতে। নিউজ রিলে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু ও তার পরের ছবি দেখাচ্ছিল। তা দেখে হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন। মাসিকে আর সিনেমা দেখতে দিলেন না। অথচ, ‘আমাদের ছোটো নদী’ কবিতাটি ছাড়া রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কে কিছুই জানতেন না শক্তি। পরে রবি ঠাকুরকে পান স্কুলের টেক্সট বইয়ে। যদিও, তা বালক শক্তিকে আকর্ষণ করেনি।

    শক্তি পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথকে ভালোবেসেছিলেন তাঁর গান শুনে। ‘রবীন্দ্রনাথ : আমার মতো করে’-তে লিখছেন, “রবীন্দ্রসংগীতই আমার সবচেয়ে প্রিয়। আমার নিজের মনে হয় অনুভূতির সূক্ষ্ম ও গভীর প্রকাশ অত্যন্ত সার্থক ও সাবলীল হয়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের গানে”। 

    রবীন্দ্রনাথের প্রতি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রেম অনন্ত। কবিতা এবং ছন্দ নিয়ে পরীক্ষনিরীক্ষাতেও আছে সেই প্রভাব। রবি ঠাকুরকে নিবেদন করে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছেন শক্তি – ‘তুমি তারই পূজা আজ নেবে’, ‘স্মৃতির রাংচিতা বেড়াজাল’, ‘অমলের জন্য’, ‘স্ববিরোধী’ এবং আরও কিছু। যেখানে রবীন্দ্রনাথকে দাহ করা হয়েছিল, সেই নিমতলা শ্মশানে গিয়েছেন বহুবার। কোনো এক অমোঘ টানে তিনি বারবার ছুটতেন শান্তিনিকেতন, সেখনকার প্রকৃতি, মানুষজনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে শক্তি ক্লাস নিয়েছেন বিশ্বভারতীতে। শান্তিনিকেতনেই তিনি প্রয়াত হন।

    তথ্যঋণ – 
    ১. আমার রবীন্দ্রনাথ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, পরম্পরা।
    ২. শক্তিনিকেতন, আবীর মুখোপাধ্যায়, আনন্দবাজার পত্রিকা।

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @