No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    নিষিদ্ধ পল্লি থেকে আলোয় ফেরানোর বিরল উদ্যোগ শিলিগুড়িতে   

    নিষিদ্ধ পল্লি থেকে আলোয় ফেরানোর বিরল উদ্যোগ শিলিগুড়িতে   

    Story image

    ওঁদের কেউ নিষিদ্ধ পল্লির অন্ধকার জীবনে রয়েছেন, কেউ আবার অন্য কাজে। কিন্তু সবাই আর্থিক দিক থেকে খুব অনগ্রসর। তাঁদেরকে হাতের কাজ শিখিয়ে মূল স্রোতে বা আলোর জীবনে ফেরানোর এক অন্যরকম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে শিলিগুড়িতে।  

    নিষিদ্ধ পল্লি এলাকার গায়েই শুরু হয়েছে অনন্য প্রয়াস 

    শিলিগুড়ি খালপাড়ার নিষিদ্ধ পল্লি এলাকার গায়েই শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী এক প্রয়াস। নর্থ ইস্ট হিউম্যান কেয়ার সোসাইটি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিগত তিন বছর ধরে এই কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা নোমির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই কাজ চলছে। কাজটি বড়ো কঠিন। কখনও প্রেমিকের মিথ্যা প্রেম, কখনও স্বামীর অত্যাচার, কখনও অর্থনৈতিক সমস্যা, কখনও আবার কিছু মহিলার স্বভাব তাঁদেরকে নিষিদ্ধ পল্লির অন্ধকার জীবনে ঠেলে দেয়। অনেক মহিলা তারপর আর সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন না। অনেকে আবার আলোর পথে ফিরতে চাইলেও কোনও রাস্তা খুঁজে পান না। আবার পঞ্চাশ পেরোনোর পর অনেক মহিলাকে নিষিদ্ধ পল্লি থেকে যেন ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁদের ভিক্ষে করতে হয়।

    কেউ শিখছেন সেলাই, কেউ বা বিউটিসিয়ান কোর্স 

    এইসব মহিলদের হাতের কাজ শেখানোর কাজ শুরু হয়েছে শিলিগুড়িতে। কেউ শিখছেন সেলাই, কেউ বা বিউটিসিয়ান কোর্স। কারও বা সময় কাটছে মাউসে ক্লিক করে, কম্পিউটারের সামনে। সংস্থার সম্পাদক আশীষ বিশ্বাস জানালেন, হাতের কাজ শিখে এখনও ৫০ জন স্বনির্ভর হয়েছেন। কয়েকজন অন্ধকার পেশাকে বিদায় জানিয়ে বিউটিপার্লার খুলে রোজগার করছেন। এখনও অনেকের প্রশিক্ষন চলছে। তবে যাঁরা শিখছেন তাঁদের সকলেই যে নিষিদ্ধ পল্লির তা নয়, পিছিয়ে পড়া বস্তির অন্য অনগ্রসররাও রয়েছেন। 

    হাতের কাজ শিখে এখনও পর্যন্ত ৫০ জন স্বনির্ভর হয়েছেন 

    প্রশিক্ষণের প্রথমে তাঁদের লাইফ স্কিল শেখানো হয়। অর্থাৎ জীবনযাত্রার প্রণালী। কীভাবে হাত ধুতে হয়, অন্যের সঙ্গে কীভাবে মেলামেশা বা বসে কথা বলতে হয়। প্রশিক্ষণের প্রথমে বলা হয়, তুমি মানুষ, জানোয়ার নও। এমন সুন্দর হতে হবে, যাতে ভিতরে বাইরে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এই ৮০ শতাংশ লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণের পর বাকি ২০ শতাংশ টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ। এভাবে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের মাত্রা বাড়ানো হয়।

    লকডাউনের সময় তাঁরা মাস্ক তৈরি করেছেন

    সম্প্রতি করোনা লকডাউনের সময় ওই মহিলারা মাস্কও তৈরি করেছেন। কাপড়ের মাস্ক। তা বিলি করা হয়েছে এলাকায়। তার সঙ্গে একটি টিম আবার করোনা সচেতনতার প্রচার করেছে। 

    করোনা সচেতনতার প্রচার করেছে একটি টিম

    উত্তরবঙ্গের আর কোনও নিষিদ্ধ পল্লি অঞ্চলে এরকম আলোয় ফেরানোর কাজ তাঁদের হয় না বলেই জানালেন আশীষবাবু। শিলিগুড়ির পর এরপর তাঁরা জলপাইগুড়ি এলাকাতেও এধরনের কাজ শুরু করবেন। 

    ছবি - প্রতিবেদক  


     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @