শীতের আমেজে মহাসমারোহে শুরু হল কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল ২০২২

বাংলার অন্যতম বড়ো উৎসব ক্রিসমাস। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুপ্রেরণায় ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়েছে কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল। এ বছর তার ১২তম সংস্করণ। যা গতকাল, ২১ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হল। কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের আয়োজক পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর। সহযোগিতায় কলকাতা পৌর কর্পোরেশন, কলকাতা পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দ্য পার্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পর্যটন দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, আর্চ বিশপ অফ ক্যালকাটা রেভারেন্ড টমাস ডিসুজা, চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার কলকাতার বিশপ আরটি. রেভারেন্ড ড. পরিতোষ ক্যানিং, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব ড. হরিকৃষ্ণ ত্রিবেদী, স্বরাষ্ট্র সচিব বি পি গোপালিকা, নগরপাল বিনীত কুমার গোয়েল এবং পর্যটন দপ্তরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন।
গতকাল বিকেল সাড়ে চারটেয় অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেস্টিভ্যাল চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এদিন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় গাইলেন ‘বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু’ এবং ‘আগুনের পরশমণি’। উদ্বোধনী ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। তিনি বলেন, “আমরা চাই শান্তি বিরাজ করুক সমগ্র বিশ্বে। আমরা ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করি না। তাই একসঙ্গে হাতে হাত রেখে সব উৎসব পালন করি৷ ক্রিসমাস উৎসব সকলের৷ দেশের মধ্যে আমরাই প্রথম এতদিন আগে থেকে ক্রিসমাস পালন করি।”
আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর এবং বারুইপুরের গির্জা এবং আলিপুরদুয়ার, আসানসোল, হাওড়া, বিধাননগর এবং ঝাড়গ্রামের পুলিশ কমিশনারেট-সহ একাধিক এলাকা। এবছর অনুষ্ঠানের ১২তম সংস্করণে যোগ করা হয়েছে বো-ব্যারাককেও।
ফেস্টিভ্যালের সারমর্মকে স্মরণ করার জন্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, অ্যালেন পার্ক, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল চার্চ এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পুরো অংশকে যথাযথভাবে আলোকিত করা হবে। সেই সঙ্গে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর এবং বারুইপুরের গির্জা এবং আলিপুরদুয়ার, আসানসোল, হাওড়া, বিধাননগর এবং ঝাড়গ্রামের পুলিশ কমিশনারেট-সহ একাধিক এলাকা। এবছর অনুষ্ঠানের ১২তম সংস্করণে যোগ করা হয়েছে বো-ব্যারাককেও। সেই অঞ্চলও আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। হেয়ার স্ট্রিট থেকে বউবাজার থানার মাঝে এক সরু গলি, ঢুকলেই দেখা যাবে রাস্তার দু’পাশে সারি সারি লাল বাড়ি। আলোর রোশনায় সেজে উঠেছে বো-ব্যারাক। তার সঙ্গে রয়েছে ক্রিসমাস ট্রি আর সান্তাক্লজ। সরু গলির এক পাশে বিক্রি হচ্ছে কেক আর রেড ওয়াইন। পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান শেন ক্যালভার্ট বলেন, “বো-ব্যারাকের আলোগুলি রিমোট কন্ট্রোল-চালিত হবে এই বছর৷ আমরা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের জীবনযাত্রার আসল সৌন্দর্য তুলে ধরতে চাই।”
আরও পড়ুন: শীতের শহর: বড়োদিন ও বিষাদের আখ্যান
পার্ক স্ট্রিটের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে শুরু হয়েছে আলোকসজ্জা এবং এক প্রান্তে জওহরলাল নেহেরু রোড এবং অন্য প্রান্তে মল্লিকবাজার ক্রসিং পর্যন্ত তা প্রসারিত হয়েছে। সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের আশেপাশের এলাকাও আলোকিত করা হয়েছে। আলোকসজ্জার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে চন্দননগরের শিল্পীদের।
অন্যান্য বছরের মতো এবারেও প্রত্যেক সন্ধ্যায় ক্রিসমাস ক্যারোল গাইবেন বিভিন্ন গায়কদল। তারপর শুরু হবে মূল পারফরম্যান্স। কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের প্রধান সমন্বয়কারী মাইকেল শেন ক্যালভার্ট বলেছেন, বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শক ও শ্রোতারা এই ফেস্টিভ্যালে ভিড় জমান। তাই প্রত্যেকের কথা মাথায় রেখে ক্যারলগুলি গাওয়া হবে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা এবং নেপালি ভাষায়। ক্যালভার্ট আরও জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের উপর জোর দেওয়া তো হবে অবশ্যই।
কলকাতার অন্যতম প্রধান উৎসব ক্রিসমাস। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রচুর মানুষ তাতে অংশ নেন। গত দুই বছর করোনার কারণে অ্যালেন পার্কে কোনো খাবারের স্টল ছিল না। এবার সেই সমস্ত স্টল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। অ্যালেন পার্কের বাইরেও থাকছে অনুষ্ঠান। যাঁরা পার্ক স্ট্রিট যেতে পারবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে ফেসবুক লাইভ।
শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় আয়োজিত হবে উৎসব। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর এবং বারুইপুরের গির্জা এবং আলিপুরদুয়ার, আসানসোল, হাওড়া, বিধাননগর এবং ঝাড়গ্রামের পুলিশ কমিশনারেটগুলিও ঝলমলিয়ে উঠবে আলোয়। একইভাবে মহানগরের পার্ক স্ট্রিট ও বো-ব্যারাক আলোয় সেজে থাকবে জানুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বড়োদিনের ছুটিতে আলিপুর চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, ভারতীয় জাদুঘর, নিকো পার্ক ইত্যাদিতেও জনসুনামি লক্ষ্য করা যায়। তাই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মানুষের ভিড় সামলানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর।
____
ছবি - অলিনী মুখার্জি (www.bongodorshon.com)