No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ঝাড়গ্রামের রাজপুত রাজাদের প্রাসাদে আজও লুকিয়ে মুঘল যুগের স্মৃতি  

    ঝাড়গ্রামের রাজপুত রাজাদের প্রাসাদে আজও লুকিয়ে মুঘল যুগের স্মৃতি  

    Story image

    ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে বহুবার দেখা গিয়েছে বাংলা রুপোলি পর্দায়। ‘বাঘবন্দি খেলা’য় এটি ছিল ভবেশ বাড়ুজ্জের বাড়ি, আবার ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিতে সূর্যকিশোর নাগচৌধুরীর প্রাসাদ হিসেবে এটিকেই দেখেছি আমরা। শুটিং-এর প্রয়োজনে উত্তমকুমার এবং বাকিরা গিয়ে রাজবাড়ির আউটহাউজে উঠেছিলেন। আরও বেশ কিছু সিনেমা এবং টিভি ধারাবাহিকে দেখা গেছে এই প্রাসাদের একতলা, সিংহদুয়ার আর বাগান। দোতলায় সাধারণত কোনো শুটিং-এর অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে একবারই মাত্র সেই প্রথা ভাঙা হয়েছিল। সন্দীপ রায় তাঁর ‘টিনটোরেটোর যিশু’-র শুটিং-এ সমস্ত বাড়িটাই কাজে লাগিয়েছিলেন।

    পর্যটকদের কাছে ঝাড়গ্রাম শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান এই প্রাসাদটি। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ইতিহাস খুঁজতে গেলে অবশ্য সেই মুঘল যুগে পিছিয়ে যেতে হবে। ১৫৭০ সাল নাগাদ দিল্লির সম্রাট আকবরের নির্দেশে বাংলায় আসেন রাজপুতানার বীর যোদ্ধা সর্বেশ্বর সিং চৌহান। ঝাড়গ্রাম অঞ্চলে তখন শাসন করতেন মাল রাজারা। তাঁদের রাজ্য ছিল জঙ্গলে ভর্তি। রাজ্যের নাম ছিল ঝাড়িখন্ড। সর্বেশ্বর সিং চৌহান পদাতিক আর অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে মাল রাজাকে উচ্ছেদ করে মল্লদেব উপাধি ধারণ করলেন, আর প্রতিষ্ঠা করলেন নতুন রাজবংশের। রাজধানী হল ঝাড়গ্রাম। তারপর চার শতাব্দী ধরে তাঁর বংশের ১৮ জন রাজা এখানে রাজত্ব করেছেন। 

    ঝাড়গ্রামের পুরোনো রাজবাড়ি গড়ে উঠেছিল মোটামুটি ৩৫০ বছর আগে। এখন সেটি রয়েছে নতুন রাজবাড়ি আর গেস্ট হাউজের পেছনে। এই পুরোনো ভবনটি পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয়। নতুন রাজবাড়িটি কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের নকশায় বানানো শুরু হয়েছিল ১৯২২ সালে। শেষ হয় ১৯৩১ সালে। এর স্থাপত্যে রয়েছে ইটালিয়ান এবং ইসলামিক রীতির মিশ্রণ। প্রধান ফটক পেরিয়ে রাজবাড়িতে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়বে অসাধারণ মনোরম বাগান আর অন্যবদ্য সুন্দর ফোয়ারা। অতিথির জন্য বাঁয়ে রয়েছে আউটহাউজ। একসময়ে সেখানে আতিথ্য গ্রহণ করছেন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল উইলিংডন, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, কিংবদন্তী অভিনেতা উত্তমকুমার, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টরা। 

    রাজপরিবারের সদস্যরা এখনও প্রাসাদে থাকেন। প্রাসাদের একতলা এখন হেরিটেজে পরিবর্তিত হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ঝাড়গ্রাম রাজপরিবারের যৌথ উদ্যোগে তা পরিচালিত হয়। রাজবংশের কুলদেবতা রাধারমণ মন্দিরে আছে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি। আর শিবের মন্দিরে ডম্বরুধর মহাদেব শোভা পাচ্ছেন। 

    তথ্যসূত্র – সায়ন্তনসর্ব ব্লগ, ট্রাভেল ফ্রিক ব্লগ। 

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @