No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেন প্যালেস এবার কলকাতায়

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেন প্যালেস এবার কলকাতায়

    Story image

    রোজ গার্ডেন প্যালেস। বিংশ শতকের বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রাজভবন। ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় অবস্থান। ঋষিকেশ দাস ছিলেন ব্রিটিশ আমলের নব্য ধনী ব্যবসায়ী। তবে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসায় ঢাকার খানদানি পরিবারগুলো তেমন গুরুত্ব দিত না ঋষিকেশ দাসকে। কথিত আছে যে, একবার তিনি জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর বাগানবাড়ি বলধা গার্ডেনের এক জলসায় গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপরই তিনি রোজ গার্ডেন প্যালেস তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৩১ সালে পুরাণ ঢাকায় একটি বাগানবাড়ি তৈরী করা হয়। বাগানে প্রচুর গোলাপ গাছ থাকায় এর নাম হয় রোজ গার্ডেন। বিলাসবহুল এই বাড়ি তৈরির পরে মালিক ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে রোজ গার্ডেন বিক্রি হয়ে যায় ঢাকার বিখ্যাত খান বাহাদুর আবদুর রশীদের কাছে। নতুন নামকরণ হয় ‘রশীদ মঞ্জিল’। ১৯৬৬ সালে কাজী হুমায়ুন বসির ভবনটির মালিকানা লাভ করেন। ১৯৭০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল স্টুডিও’কে ইজারা দেয়া হয়। এ সময়ে চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসাবে এই ভবনটি ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ দুই হাজার ৯০০ টাকা মূল্যে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। 

    রোজ গার্ডেন প্যালেস, বাংলাদেশ 

    এবার সেই চোখ ধাঁধানো অট্টালিকার আদলে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ান। ঐতিহ্যের সেতু পার করে প্রতিবেশী বাংলাদেশের রোজ গার্ডেন প্যালেস বইমেলার বারোটা দিন নজর কাড়বে কলকাতাবাসীদের। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই বাড়ি বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লিগের সূতিকাগার। কলকাতা বইমেলায় সবচেয়ে নজর কাড়ে বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ান। তার সাজসজ্জা দেখে থমকে তো যেতেই হয়। সেইসঙ্গে প্যাভেলিয়ানে ঢুকে একজন তরুণ পাঠকের ইচ্ছা করে বই নেড়েছেরে দেখতে। তাই প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গের পাঠক রীতিমতো হামলে পড়ে লাইনে দাঁড়ান প্রতিবেশী দেশকে চাক্ষুষ করতে। কলকাতায় কয়েকটা দিন এবার গোলাপ ফুটে থাকবে সেন্ট্রাল পার্কে। পাবলিশার্স অ্যান্ড গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, এবার বাংলাদেশ দিবস অনুষ্ঠিত হবে বইমেলার শেষের আগের দিন অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বাংলাদেশ থেকে আসবেন চারজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন ঢাকা বাংলা একাডেমির মহা-পরিচালক, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। এছাড়াও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। 

    রোজ গার্ডেন প্যালেসের আদলে প্যাভিলিয়ান, কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা  

    বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেন বাইশ বিঘা জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় পঁয়তাল্লিশ ফুট। ছ’টি সুদৃঢ় থামের উপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে করিন্থীয়-গ্রীক শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাগানটি ফোয়ারা ও পাথরের মূর্তি দিয়ে সজ্জিত। মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি কামরা আর একটি নাচঘর আছে। নিচতলায় আছে আটটি কামরা। রোজ গার্ডেন প্যালেসের পশ্চিম ও উত্তর দিকের দেয়ালের মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক আছে। প্রবেশ ও বর্হিগমনের জন্য স্থাপিত পশ্চিম দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই আছে একটি বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ। এখানে মঞ্চের ওপর দণ্ডায়মান নারী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বাংশের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি আয়তকার পুকুর। পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি একটি করে বাঁধানো পাকা ঘাট আছে। 

    এমনই কিছু বিস্ময় অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। তাই ২০১৯ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় সবদিক থেকে নজর কাড়ছে এই প্রাচীন অট্টালিকা। বইমেলা চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা।

    রোজ গার্ডেন প্যালেসের মূল ফটকের একটি অংশ, বাংলাদেশ 

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @