No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রিক্সাচালকের জীবন পেরিয়ে আজ বিশিষ্ট সাহিত্যিক

    রিক্সাচালকের জীবন পেরিয়ে আজ বিশিষ্ট সাহিত্যিক

    Story image

    একটি শব্দ বদলে দিতে পারে জীবনকে। এই প্রচলিত কথাই সত্য হয়েছে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ক্ষেত্রে। কলকাতার রিক্সা চালক থেকে আজ তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক।

    মনোরঞ্জন ব্যাপারীর লেখক জীবন শুরু হয়েছিল গল্পের মত। পেশায় রিক্সা চালক মনোরঞ্জন প্রতিদিন যাত্রীদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতেন। আর অবসর সময়ে রিক্সার সিটের নীচে রাখা থরে থরে সাজানো বই নিয়ে পড়তেন। বই পড়তে পড়তে অনেক বিষয় সম্পর্কে তাঁর মনে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু সেগুলির উত্তর পেতেন না। অনেক সময় যাত্রীদের কাছে শব্দের মানে জানতে চেয়ে উপেক্ষিতও হয়েছেন। এইরকমই একদিন একটি কলেজের সামনে থেকে এক মহিলা তাঁর রিক্সায় উঠলেন। মনোরঞ্জন ভাবলেন, কলেজের সামনে থেকে মহিলটি রিক্সা উঠেছেন তাহলে নিশ্চয়ই কলেজের প্রফেসর হবেন। এবং অবশ্যই ‘জিজীবিষা’ শব্দটির মানে জানবেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। উৎসুক মনে বললেন ‘আচ্ছা, জিজীবিষা - এই শব্দটির অর্থ কী?’ সেদিন সেই আরোহী ছিলেন বিশ্বখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী। একজন রিক্সা চালকের মুখে এই বাংলা শব্দটির মানে জানতে চাওয়াকে অন্যরকম লেগেছিল। এই শব্দ জিজ্ঞাসার মাধ্যমেই মহাশ্বেতা দেবী মনোরঞ্জন ব্যাপারীর প্রতিভার পরিচয় পান এবং লেখা পাঠাতে বলেন। এই ভাবেই শুরু হয় তাঁর লেখক জীবন। মনোরঞ্জনও যখন আরোহীর পরিচয় পেলেন, তিনি আনন্দে আটখানা হলেন। কারণ কিছুদিন আগেই তিনি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা ‘অগ্নিগর্ভা’ পড়েছেন। তিনি রিক্সার সিটে সরিয়ে বের করে দেখালেন অনেক বই।

     

     

    মনোরঞ্জন ব্যাপারী ব্রিটিশ ভারতের বরিশাল জেলায় আনুমানিক ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বছর বয়সে দেশভাগের কারণে বরিশাল ছেড়ে ভারতে চলে আসে পরিবার। উদ্বাস্তু শিবিরে ছিন্নমূল পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। আসাম লখনৌ এলাহাবাদ ইত্যাদি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় স্বল্প পারিশ্রমিকে নানা ধরনের কাজ করেছেন। একসময় জীবিকার খোঁজে তিনি দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে চলে যান। অমানুষিক পরিশ্রম, বর্ণবিদ্বেষমূলক অপমানের মধ্যে দিয়ে তাঁকে বড় হতে হয়েছে। মধ্যভারতের নকশাল আন্দোলন ও শ্রমিক নেতা শংকর গুহনিয়োগীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। রাজনৈতিক কারণে জেলে থাকার সময় নিজের চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন তিনি। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে মালবাহক, শ্রমিক, কুলি ও মজুরের কাজ করতে করতে চরম দারিদ্রের মধ্যেই সাহিত্য সাধনা করেন এই সাহিত্যিক। এখন তিনি দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে হেলেন কেলার বধির বিদ্যালয়ে রান্নার কাজ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর নেই কিন্তু পড়ার নেশায় নিজেই পড়াশুনা শুরু করেন।

    ১৯৮১ সালে বর্তিকা পত্রিকায় ছাপা হয় তাঁর প্রথম লেখা ‘আমি একজন রিক্সা চালক’। বর্তমানে তাঁর লেখা নয়টি উপন্যাস ও অনেক ছোটগল্প আছে পাঠকদের মন জয় করছে। তাঁর এই সাহিত্যকীর্তির জন্য ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি কর্তৃক ‘সুপ্রভা মজুমদার স্মৃতি পুরষ্কার’ দেওয়া হয়। মনোরঞ্জন ব্যাপারীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘ইতিবৃত্তে চন্ডাল জীবন’। তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকৃতির জন্য জয়পুর সাহিত্য সম্মেলনে বিশিষ্ট অতিথির মর্যদা পান।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @