শেষ দেখা গেছিল ১৭৮ বছর আগে, বিরল প্রজাতির ‘মুনাল’ ফিরল দার্জিলিং-এ

মাথায় ঝুঁটি, উজ্জ্বল নীলকণ্ঠী, গাঢ় লাল পালকে ঢাকা শরীর, তাতে বর্ণময় কারুকাজ। আমাদের জাতীয় পাখিটির চেয়ে কোনও অংশে কম নন ইনি। বিরল প্রজাতির এই পাখিটির নাম স্যাটর ট্রাগোপান। আঞ্চলিক নাম ‘মুনাল’। আর একটি নাম ক্রিমশন হর্নড্ ফেজান্ট। গত অগাস্ট মাসে দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের কর্মীরা সিনচেল বনাঞ্চলে এর ছবি তুলতে সক্ষম হন। তাঁরা পাখিটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরে তিনদিন আগে ছবিটি প্রকাশ করেছেন।
প্রধানত হিমালয়, নেপাল ও ভূটান এই পাখিটির আদি বাসস্থান। তার মধ্যে টাইগার হিল লাগোয়া এই সিনচেল বনাঞ্চলে একটা সময় নানা জীবজন্তুর দেখা মিলত। ধীরে ধীরে জনবসতি বৃদ্ধি, দূষণ ইত্যাদি কারণে একে একে হারিয়ে যেতে থাকে তারা। তাদের দলেই ছিল এই প্রজাতির মুনালটি। ময়ূরের মতোই তেমন একটা উড়তে পারে না এরা।১৮৪২ সালে ব্রিটিশ অধীন ভারতে, কার্সিয়ং এবং সোনাদা অঞ্চলের মধ্যে হিকেল এই রঙিন পাখিটির প্রথম দেখা পেয়েছিলেন। ১৮৬৩ সালে আরেকজন প্রকৃতিবিদ জার্ডন এবং ১৯৩৩ সালে ইঙ্গলিস এই পাখিটির উপস্থিতি জানান, স্থানীয়ভাবে দার্জিলিং এর কাছে ৭০০০-৮০০০ ফুট উচ্চতায় পাখিটি ‘মুনাল’ নামে পরিচিত। “এটি আমাদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জন্য একটি সাফল্য। আমরা এখন বিশ্বকে বলতে পারি যে পাখিটি আমাদের নিজস্ব সেনচেল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেও রয়েছে, আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনও অফিসিয়াল ফটোগ্রাফিক প্রমাণ ছিল না। ১৭৮ বছর পর এই প্রথম আমরা পাখি দেখতে পেয়েছি এবং পুনরায় আবিষ্কার করতে পেরেছি। ” সুরত্ন শেরপা, দার্জিলিং বন্যপ্রাণী বিভাগের ডিএফও।
প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার জেরেই কি ফের পাহাড়মুখী হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া জীবজন্তুরা?