ফটোগ্রাফির বাউন্ডারি ভেঙে ফেলতে চান রণজয় ব্যানার্জী

পোলিশ ঔপন্যাসিক জোসেফ কনরাড ১৮৯৯ সালে লিখেছিলেন “হার্ট অফ ডার্কনেস”। উপন্যাসটি ফ্রেম ন্যারেটিভ পদ্ধতিতে লেখা, যেখানে চার্লস মার্লো নামের একটি চরিত্র সেন্ট্রাল আফ্রিকার কঙ্গো নদীর মধ্যে দিয়ে হাতির দাঁত পরিবহনের কাজ করেন। মানচিত্রে নদীটিকে দেখলে মনে হবে, একটা বিশাল সাপের প্যাঁচ, যার লেজটি দেশের গভীরে হারিয়ে গেছে। উপন্যসের গল্প মানুষের জটিল মনোভাবের একটি অনুসন্ধান, যা মানুষ ধারণ করে, একটি অসভ্য বনাম সভ্য সমাজ গঠন করে। গত ২১ থেকে ২৩ ডিসেম্বর কলেজস্ট্রিটের বইচিত্র গ্যালারিতে ‘বেয়ার- অ্যান এক্সজিবিশন অফ ইমেজেস’ শিরোনামে রণজয় ব্যানার্জীর একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ হল। তত্ত্বাবধানে তীর্থেন্দু ব্যানার্জী। উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাণা পাণ্ডে। যেখানে এই ডার্কনেসকেই খুঁজে পাওয়া গেল, একটু অচেনা মোড়কে। ‘হার্ট অফ ডার্কনেস’ উপন্যাসে যেভাবে একটি নদীকে ঘিরে কল্পনার মায়াজাল বিস্তারলাভ করেছিল, এই প্রদর্শনীতেও তাই। অন্ধকারের মধ্যে একপ্রকার মায়া থাকে। যে মায়ায় আচ্ছন্ন হয় বিষয় আর বিষয়ী। রণজয় ব্যানার্জীর ছবি বিষয় প্রধান নয়, বিষয়ী প্রধান। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের রং ছড়িয়ে যায় দর্শকের মনেও। মোট চারটি বিভাগে এগারোটি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। তার মধ্যে দুটি বিভাগের রং লাল আর নীল। লাল-নীল ডার্কনেসের রং। স্বপ্ন আর জাদুতে ভিতরকার সত্তা আটকে থাকার রং।
Civilisation
Zero intensity violence
ফটোগ্রাফির সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা থেকেই এই প্রদর্শনী। আলোকচিত্রী রণজয় ব্যানার্জী আমাদের জানান, “ফটোগ্রাফিতে প্লাস্টিক এলিমেন্টস, যেমন রং, টেক্সচার যতটা যেভাবে পেন্টিং-এ জায়গা পায়, সেগুলো ফটোগ্রাফিতে কোনোভাবে সম্ভব হয় না। বরং ফটোগ্রাফিতে পারফেকশনের দাম অনেক বেশি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলা, ধরুন একজন মানুষের মুখের ছবি তোলা হচ্ছে, যে-কোনো দামি ক্যামেরা হোক বা মোবাইল ক্যামেরা, তাড়াতাড়ি চিনে নেওয়া যাবে এমন ছবি তোলা হল। সেই মানুষটারই পোর্ট্রেট যদি আরেকজন শিল্পী আঁকেন, সেখানে কিন্তু ওই মানুষটিকে চেনা নাও যেতে পারে। সেখানে শিল্পীর নিজস্ব একটা দেখা থাকে। আমার ফটোগ্রাফিতেও তাই। আমার ছবি তোলা আর পেন্টিং মিলেমিশে যায়। দুটো ঘরানাকে এক করেই দেখতে চেয়েছি বরাবর।” রণজয় বারবার বলেন, তিনি আলোকচিত্রী নন, পেন্টিং-এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর ছবি তোলার নেশা। তাই ফটোগ্রাফির বাউন্ডারিকে নিজের মতো ভেঙে পেন্টিং-এর দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টায় আছেন শিল্পী। প্রদর্শনী সম্পর্কে রণজয় লিখছেন, “It is an attempt to touch the primal elements of the visual to check if we are just prisoners of our own stories. Or if the hegemony of the story being the only possible narrative can be overcome. It is my personal continuous movement from a degree of darkness to another.”
Curtains
Eddy
প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ছবিতে শিল্পী কখনও খুঁজে নেন নিজের ছেলেবেলা কিংবা প্রিয় কোনো নারীর গন্ধ, কখনও নিজেকেই হাতড়ে বেড়ান অনন্তকাল। এই অনন্তকাল সন্ধানের সাক্ষী তাঁকে দেখার রাস্তা চিনিয়েছে। নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে ফটোগ্রাফি আর পেন্টিং-এর বন্ধুত্বের রাস্তা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। আর কূল ভেঙে নদীর অতলে ভেসে যাচ্ছে দু-চোখ, ফ্রেম, রং অথবা নিজেই।
Off the cliff
Dependence