No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ফেলে আসা স্বর্ণযুগের সাক্ষী ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি  

    ফেলে আসা স্বর্ণযুগের সাক্ষী ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি  

    Story image

    ১৬ শতকের শেষ ভাগ। বাংলার পশ্চিম অংশের বনাঞ্চল পরিচিত ছিল জঙ্গলখণ্ড নামে। সাঁওতাল, ভূমিজ, লোধা প্রভৃতি উপজাতির শাসকরা এখানে রাজত্ব করতেন। তাঁদের ‘মাল (মল্ল) রাজা’ বলে ডাকা হত। ১৫৯২ সাল নাগাদ মুঘল সম্রাট আকবর এই অঞ্চল জয় করতে নির্দেশ দেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাজপুত সেনাপতি মান সিংহকে। মান সিংহের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী তথা বীর যোদ্ধা সর্বেশ্বর সিংহ প্রবল বিক্রমে ঢুকে পড়লেন অরণ্যে। একের পর এক যুদ্ধে মাল রাজাদের পরাজিত করে গড়ে তুললেন নিজের রাজত্ব। রাজধানী স্থাপিত হল ঝাড়গ্রামে। ‘মল্ল দেব’ উপাধি নিয়ে সর্বেশ্বর বসলেন সিংহাসনে, যে উপাধি তাঁর উত্তরাধিকারীরা পেয়ে থাকেন বংশানুক্রমে। 

    সর্বেশ্বর সিংহ ছিলেন ফতেপুর সিক্রির একজন চৌহান রাজপুত। আজও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে মাল রাজার এক মূর্তি বানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয় প্রত্যেক বছর বিজয়া দশমীতে। সর্বেশ্বরের পরিবারকে রাজা মান সিংহ পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন গোটা জঙ্গলখণ্ড অঞ্চলের জায়গিরদারি। মুঘলদের অধীনস্থ সামন্ত হিসেবে সর্বেশ্বর তাঁর রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন ঝাড়গ্রামে। যে নামের অর্থ, ‘ঘন অরণ্যে ঘেরা গ্রাম’। 

    ১৭৯৯ সালে বিষ্ণুপুর এবং আশেপাশের কয়েকটি ছোটো রাজ্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঝাড়গ্রাম। ইতিহাসে এই ঘটনা চুয়াড় বিদ্রোহ নামে পরিচিত। তবে ঝাড়গ্রামের রাজা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। তাঁর রাজ্য ব্রিটিশদের অধীনে জমিদারি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

    রাজা নরসিংহ মল্ল দেব এবং তাঁর পরামর্শদাতা তথা দেওয়ান রায় বাহাদুর দেবেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্যের আমলে গৌরবের শীর্ষে পৌঁছয় ঝাড়গ্রাম। ঝাড়গ্রাম শহরকে আধুনিক পরিকল্পিত নগরে পরিণত করা হয়। ১৯৩১ সালে ৩০ একর জুড়ে রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয় নতুনভাবে। পূর্ব-ভারতে ইন্দো-আরবীয় স্থাপত্যের অন্যতম সেরা উদাহরণ এই অট্টালিকা।

    ঝাড়গ্রাম রেল স্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এই প্রাসাদে আজও বাস করেন মল্ল দেব রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীরা। প্রাসাদের কিছু অংশ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। প্রধান ভবনটি ইতালীয় রীতিতে বানানো, জৌলুস দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। উঠোন এবং বাগানও মনোরম করে সাজানো। চারদিকে ছড়িয়ে পুরোনো দিনের স্মৃতি। বেশ কিছু চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে এখানে। যেমন ‘সন্ন্যাসী রাজা’ কিংবা ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’। একতলায় রয়েছে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি নিবাস, ভ্রমণার্থীদের জন্য আরামদায়ক থাকার বন্দোবস্ত। প্রাসাদের বাকি অংশে যেতে অবশ্য বিশেষ অনুমতি লাগবে।

    রাজপ্রাসাদের অতিথি নিবাসে পা রেখেছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। যেমন ভারতের ভাইসরয় (১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ সাল) লর্ড উইলিংডন, ভারতের শেষ গর্ভনর জেনারেল চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং মোরারজি দেশাই, মহানায়ক উত্তম কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    কনকদুর্গা মন্দির 

    ঝাড়গ্রামে শহরে গেলে অবশ্যই ১২ কিলোমিটার দূরে ডুলুং নদীর ধারে চিল্কিগড় প্রাসাদ এবং কনকদুর্গা মন্দির দেখে আসবেন। সুবর্ণরেখার উপনদী ডুলুংয়ের সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। প্রাসাদ এবং মন্দির গড়ে তুলছিলেন ধলভূমের রাজারা। দুর্গামূর্তির অবয়বে স্থানীয় উপজাতিদের প্রভাব স্পষ্ট। গভীর জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে মন্দিরটি। সেখানে আজও ৪০০-র বেশি রকমের ঔষধি গাছ-গাছড়া পাওয়া যায়।  

     

    কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব ১৬০ কিলোমিটারের মতো। রাস্তা খুবই উন্নত। সড়কপথে যেতে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতো লাগে। চাইলে রেলপথেও যেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিজম প্রোজেক্টে রয়েছে থাকা এবং খাওয়ার দারুণ বন্দোবস্ত। কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় কঠোরভাবে। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন – 
    West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
    DG Block, Sector-II, Salt Lake
    Kolkata 700091
    Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
    Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @