No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ওবিসি ছাত্রদের জন্য মাসিক স্কলারশিপ

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ওবিসি ছাত্রদের জন্য মাসিক স্কলারশিপ

    Story image

    শ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যান্য মূলস্রোতের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলতে পারে, তার জন্য বিগত বছরগুলিতে নানাবিধ প্রকল্পের অবতারণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সম্প্রতি কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী’র তালিকায় জুড়ে গেল ‘মেধাশ্রী’ নামের এক অভিনব প্রকল্পের নামও।

    সম্প্রতি অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক বিশেষ স্কলারশিপ স্কিমের ব্যবস্থা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল যে নিজস্ব উন্নয়নের জন্য পশ্চিমবঙ্গ কখনোই ইউনিয়ন গভর্নমেন্টের অনুদানের উপর নির্ভরশীল নয়। এতদিন অবধি পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রাক-মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যে স্কলারশিপের ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে, তা আচমকা গত বছরের নভেম্বরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘১০০ দিনের কাজ’ এবং নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’, উভয়ের ক্ষেত্রেই অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। এর পরই অভিনব ‘মেধাশ্রী’ প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকাভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৭% সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ‘মেধাশ্রী’ নামের এই প্রকল্প অনুযায়ী, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত ওবিসি তাকিলাভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি মাসে স্টাইপেন্ড হিসাবে ৮০০ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ও বি সি ছাত্রছাত্রীকে এই প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলায় বসবাসকারী পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সকল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেই এই স্কলারশিপটি প্রযোজ্য। যোগ্যতার মাপকাঠিগুলি মিলিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করলেই যে কোনো ছাত্রছাত্রী এই স্কলারশিপটির জন্য মনোনীত হওয়ার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

    ১৯শে জানুয়ারি ২০২৩, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় সঙ্ঘটিত হওয়া একটি সরকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ‘মেধাশ্রী’র প্রাথমিক পরিকল্পনা সকলের সামনে তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। একই দিনে আরও ৬৭টি নতুন প্রোজেক্টের সূচনা করেন তিনি। এছাড়াও ৯১টি আসন্ন প্রোজেক্টের কথা তিনি ঘোষণা করেন এই অনুষ্ঠানটি চলাকালীন। এই প্রত্যেকটি প্রোজেক্টের মূল লক্ষ্য একটাই, সাধারণ মানুষ ও স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চলার পথকে সুগম করে তোলা। উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্যে একটি বিশেষ কার্ড চালু করবার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী, যার সাহায্যে সরকারী প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে পারবে তারা।

    বিগত কয়েক বছর ধরে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী-র মতো নানান অতিপ্রয়োজনীয় স্কলারশিপ চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কখনো মেধার ভিত্তিতে, কখনো বা পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সরকারী অনুদান। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম বহুল চর্চিত প্রকল্পটি হল কন্যাশ্রী, যার ফলে বহু কিশোরী মেয়ে জবরদস্তির বিয়ে এড়িয়ে, নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখবার সাহস পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে মান্যতা পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত এই প্রকল্পটির পরিকল্পনা। এর পাশাপাশি অলচিকি, রাজবংশি, নেপালি, হিন্দি, সাঁওতালি, কুরমি ও কামাতাপুরি প্রভৃতি স্থানীয় ভাষার উন্নয়নেও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা গৃহীত অন্যান্য প্রকল্পগুলির মতোই মেধাশ্রী’ও যেন আগামী দিনে ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে, এবং যে লক্ষ্যে এই স্কিমটি চালু করা হয়েছে, তা নির্বাহিত হোক, এমনটাই আশা রাখব আমরা।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @