বড়দিনের প্রস্তুতি শুরু শিলিগুড়িতে

সাধারণ কেক, রোজ কেক, ডোনেট, আনন্দনাড়ু, চন্দ্রপুলি তৈরির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে খ্রিস্টানরা তাঁদের বড়দিনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। আবার আদিবাসী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ চালের গুঁড়ো, চিনি, গুড়, কাজু বাদাম, কিসমিস দিয়ে ঘরে ঘরে তাঁদের প্রিয় বড় দিনের খাবার পরব রুটি তৈরি করছেন। তার সঙ্গে কেক তো আছেই। এর বাইরে ক্রিসমাস ক্যারলের জন্য প্রস্তুতিও তুঙ্গে।
সামনে বড়দিন। আর সেই বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। শিলিগুড়ি সুভাষপল্লীতে থাকে সমাদ্দার পরিবার। সেই পরিবারের প্রধান বিপুল সমাদ্দার। তাঁর স্ত্রী হলেন শুক্লা সমাদ্দার, মেয়ে রিম্পি। তাঁরা সবাই মিলে তাঁদের ফ্ল্যাটে নানারকম কেক ও বড় দিনের খাবার তৈরি করছেন। বড়দিনের জন্য তৈরি করা কেক বা অন্য খাবার তাঁরা বাজারে বিক্রি করবেন না। নিজেরা তো খাবেনই, তার সঙ্গে তাঁদের হাতে তৈরি কেক বিলি করবেন শিলিগুড়ি বিশেষ সংশোধনাগারের বন্দি ও বস্তির ছেলেমেয়েদের মধ্যে। শুক্লা দেবী জানালেন, এক কেজি ময়দায় ১৬ টি ডিম, ৫০০ গ্রাম বাটার, ৮ কাপ চিনিগুঁড়ো, ভ্যানিলা ৮ চামচ দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কিসমিস, কাজু, মোরব্বা, চেরি, টোটোমোটো, বেকিং পাউডার মিশিয়ে তারা তৈরি করছেন সাধারণ কেক। ছোট, মাঝারি ও বড় মাপের। এর বাইরে আছে বিশেষ রোজ কেক। রোজ কেকে এক কেজি ময়দায় ১২টি ডিম, বেকিং পাউডার, চিনি দিয়ে সাদা তেল বা বাটারে ময়ম দিয়ে এক একটি গোলা তৈরি করতে হবে। গোলাগুলো একটু পাতলা হবে। তারপর ভেজে নিতে হবে। ডোনেট তৈরি হচ্ছে ডিম, ময়দা, চিনি দিয়ে। এসব একসঙ্গে মেখে বেল চাকিতে বেলে কড়াইতে ভেজে নিতে হচ্ছে। তারপর তা কেটে কেটে খাওয়া হয়। খেতে বেশ সুস্বাদু। সুজি আর নারকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে আনন্দনাড়ু। চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হচ্ছে চন্দ্রপুলি।
শিলিগুড়ি রাজবংশী রিপ মিনিস্ট্রির তরফে কৌস্তভ দত্ত জানালেন, তাঁরা বড়দিনকে সামনে রেখে ১৬ তারিখ বিকেলে নিমতলার চার্চে অনুষ্ঠান করবেন। সেখানে প্রভু যীশুর ওপর নাটক মঞ্চস্থ করবে বিশ্বজিৎ রায়ের ‘বর্ণমালা’ গোষ্ঠী। বড়দিনের ওপর প্রভু যীশুর ওপর গান লিখে তা বিভিন্ন স্থানে পরিবেশন করবেন শিল্পী পালিত। এদিকে আদিবাসী শিল্পী কল্যাণ তিরকি জানিয়েছেন, তাঁদের আদিবাসী খ্রিস্টান সমাজে বিভিন্ন ভাবে বড়দিনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ঘরে প্রভু যীশুর মূর্তি দিয়ে ছোটো গোশালা তৈরি হচ্ছে। একে তাঁরা ‘চোরনি’ বলেন। তার বাইরে পরব রুটি তৈরি হচ্ছে। মাদল, ঢোলক নিয়ে গানের মাধ্যমে ক্রিসমাস ক্যারল তাঁরা শুরু করেছেন।