“কতদূর পৌঁছালেন ওঁরা?” — ঘরে ফেরার দৃশ্য দেখালেন প্রদীপ দাস

ওরা হাঁটছে। হাঁটছে মাইলের পর মাইল। ওরা উড়ে যাচ্ছে। ঠিকানাহীন। অথবা ঠিকানার উদ্দেশ্যে। অথবা রাস্তাই একমাত্র ঠিকানা। মাইলের পর মাইল। হাতে পুঁটলি। কোলে শিশু। হাঁটতে হাঁটতেই পরিচয় হয়ে যাচ্ছে পাশের মানুষটির সঙ্গে। তারা বন্ধু হয়ে যাচ্ছে। দেশ তাদের নাম দিয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী। ঠিক পাখির মতোই। ওদের উড়ে যাওয়াও তাই।
নিজের কাজ এবং চিন্তাভাবনা নিয়ে বলছেন প্রদীপ দাস
ঠিক এমনই এক চিত্র কয়েকদিন আগে সবার চোখে পড়েছিল। রাতের ঘুম কেড়েছিল। শিল্পীরা সেসব দৃশ্য, যন্ত্রণা নিজেদের মতো নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন। কয়েকদিন আগেই আমরা দেখেছি দিল্লি থেকে প্রায় ৫০,০০০ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন পায়ে হেঁটে। লকডাউন চলাকালীন তাঁরা প্রত্যেকেই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কীভাবে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন, এ কথা বড়োবাবুরা বলে দেননি। অতএব হাঁটাই ছিল তাঁদের একমাত্র পৌঁছানোর উপায়। তাঁরা হাঁটছেন ২০০ মাইল – ৪০০ মাইল – ৭০০ মাইল।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গদর্শন শুরু করেছিল ‘ঘরে ফেরা’ সিরিজ। গৃহবন্দি অবস্থায় চিত্রশিল্পীরা কীভাবে এই পরিস্থিতি দেখতে চাইছেন বা মোকাবিলা করছেন, তা তাঁদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তুলে ধরছেন। আজ ঘরে ফেরা সিরিজে রইলেন শিল্পী প্রদীপ দাস। বছরখানেক আগে কলকাতার একটি পুজোমণ্ডপের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। সেইসব ছবি এবং প্রদীপের নিজস্ব স্টেনসিল গ্রাফিতির কাজ রইল আজকের পর্বে। শহরজুড়ে তিনি লিখে রেখেছেন #হাসি। যে হাসি উচ্ছাসের, আনন্দের, যন্ত্রণার।