২০ হাজার হেক্টর থেকে শূন্যে বে-আইনি পোস্ত চাষ

মালদহ আর মাদক এই দুটির নাম একসাথে উচ্চারিত হয়েছে গত বছরও।ধান,গম, ভুট্টা এসবের চাষ ছেড়ে বেশি লোভের আশায় বিঘের পর বিঘে জমিতে পোস্ত চাষ করেছে । সরকারী পরিসংখ্যান বলছে গোটা রাজ্যে গত বছর যে পোস্ত চাষ হয়েছিল তার ৯৪ শতাংশ চাষ হয়েছিল মালদহ জেলাতে। এই তথ্য (এন.সি.বি)নার্কোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ার। প্রশাসনের ঘুম ছুটেছিল এই বেআইনি পোস্ত চাষ নিয়ে। প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বেআইনি পোস্ত চাষ হয়েছিল। কৃষকেরা প্রথাগত চাষ ছেড়ে মন দিয়েছিলেন বেআইনি পোস্ত চাষে। এক বিঘা জমিতে ধান বা গম লাগালে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমিতে বেআইনি পোস্ত চাষ করলে খরচ বাদে লাভ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা । এক কেজি পোস্তর আঠা (রেজিন) বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা কেজি দরে। মাদক যারা তৈরি করে চাষিদের আগাম টাকা দিয়ে জমিতে পোস্ত চাষ করত। পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এমনকি বাংলাদেশ থেকেও মাদক কারবারিরা এই জেলায় বড়সড় ঘাঁটি তৈরি করে কালিয়াচক বৈষ্ণবনগর চাঁচল থানা এলাকায়। প্রত্যন্ত গ্রামের অর্থনীতির পরিবর্তনের মুল কারন এই বেআইনি পোস্ত চাষ। কাঁচা বাড়ি, না খেতে পাওয়া হাড়গোড় বেড়িয়ে যাওয়া মানুষদের চেহারা গত তিন চার বছরের মধ্যে পরিবর্তন হতে থাকে। গড়ে ওঠে পাকা ইমারত, হাতে স্মার্ট ফোন, মোটর সাইকেল। ঠিক যেন আলাদিনের প্রদীপ ঘষে এই জেলার গ্রামের চেহারাটাই বদলে দিয়েছে। কিছুতেই বন্ধ করা যায়নি মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য।
কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে ২০১৭ সালে এই পোস্ত চাষ একে বারে শূন্যতে গিয়ে ঠেকেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে জেলা প্রশাসনের জন্য। পূর্বের জেলা শাসক সরদ কুমার দ্বিবেদী ঠিক করেছিলেন ক্ষেতের পোস্ত গাছ নষ্ট করার চেয়ে আগে থেকেই চাষটা যদি বন্ধ করে দেওয়া যায় তার দিকে নজর দেওয়া। জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্য, আই সি ডি এস, পুলিশ, ভুমি রাজস্ব দপ্তর ও সরকারী কর্মচারীদের নিয়ে মিটিং করে বলে দিয়েছিলেন যদি কোনও গ্রামে পোস্ত চাষ হয় আর সেই খবর স্থানীয় থানাতে না জানিয়ে কেউ গোপন করেন তাহলে কাউকে রেয়াদ করা হবেনা। আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে সকলের বিরুদ্ধে। আর এতেই কেল্লা ফতে। প্রশাসনের এই ফরমান জারির পরে একেবারে একশো থেকে শূন্যে নেমে গেছে মালদা জেলার পোস্ত চাষ । জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, এটা আগেই করা সম্ভব হত সকলে এগিয়ে এসেছে তাই এই কাজ আমরা করতে পেরেছি। আগামী দিনেও আমাদের এই অভিযান চলবে